Purba Bardhaman

বর্ধমানের প্রাক্তন দুই বিধায়ক পুলিশের জালে! ১০০ দিনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ধৃত কাটোয়ার আরও দুই তৃণমূল নেতা

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির কাটোয়া জেলার সহ-সম্পাদক সীমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এক সময় মানুষ মুখ খুলতে পারতেন না। এখন তাঁরা অভিযোগ জানাচ্ছেন।’’

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ৩১ মে ২০২৬ ১২:০৯
Police detain two former TMC MLAs of Burdwan

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

তোলাবাজি এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল বর্ধমান পূর্বের প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক খোকন দাসের বিরুদ্ধে। পুলিশ সূত্রে খবর, সেই অভিযোগের ভিত্তিতে রবিবার বিহারের মুগলসরাই থেকে তাঁকে আটক করা হয়। তার পরে তাঁকে এ রাজ্যে আনা প্রক্রিয়া শুরু করেছে পুলিশ। এই পূর্ব বর্ধমানেরই আর এক বিধায়ককেও আটক করা হয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী ‘চুরি’র অভিযোগে আটক পূর্বস্থলী উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তপন চট্টোপাধ্যায়। তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে উদ্ধার ত্রিপল-সহ প্রচুর পরিমাণ ত্রাণ সামগ্রী। এ ছাড়াও, এই জেলার আরও দুই তৃণমূল নেতাকে ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কাটোয়া থেকে দু’জনকে ধরা হয়। ওই মামলায় নাম জড়িয়েছে কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়কেরও।

Advertisement

জানা গিয়েছে, গত ২৯ মে কাটোয়া থানার করুই গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকার নতুনগ্রামের বাসিন্দা ওমর আলি শেখ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। দাবি, তাঁর জবকার্ডের নথি ব্যবহার করে ভুয়ো ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট খোলা হয় এবং সেই অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে ১০০ দিনের কাজের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে। ১৭ জনের নামে অভিযোগ দায়ের করেন ওমর।

সেই অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার রাতে কাটোয়া স্টেশন বাজার এলাকা থেকে দিগন্ত পাল নামে এক তৃণমূল নেতাকে আটক করে পুলিশ। পরে একই মামলায় বিশ্বনাথ সাহা নামে আর এক তৃণমূল নেতাকে পাকড়াও করা হয়। দু’জনকে থানায় নিয়ে গ্রেফতার করে পুলিশ। ওই মামলায় নাম জড়িয়েছে কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়ক তথা পূর্ব বর্ধমান জেলা তৃণমূল সভাপতি রবীন্দ্রনাথ চট্টোপাধ্যায়, সুকেশ চট্টোপাধ্যায়-সহ একাধিক তৃণমূল নেতার।

গ্রেফতারির পর দিগন্ত জানান, ২০১৬ সালে করুই অঞ্চলে সিপিএমের প্রধান থাকার সময়কার একটি ঘটনাকে সামনে এনে তাঁকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ভাবেই এই গ্রেফতারি। একই দাবি শোনা যায় কাটোয়ার প্রাক্তন বিধায়কের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘‘রাজ্য জুড়ে পরিকল্পিত ভাবে তৃণমূল নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করা হচ্ছে। সাজানো অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ পদক্ষেপ করছে।’’ রবীন্দ্রনাথের আরও দাবি, একই অভিযোগে দু’বার মামলা রুজু হয়। প্রথম বার কোনও তৃণমূল নেতার নাম ছিল না। পরে ইচ্ছাকৃত ভাবে যোগ করা হয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা। বিজেপির কাটোয়া জেলার সহ-সম্পাদক সীমা ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘এক সময় মানুষ মুখ খুলতে পারতেন না। এখন তাঁরা অভিযোগ জানাচ্ছেন। পুলিশ আইন অনুযায়ী তদন্ত করছে এবং তাদের কাজ করছে।’’ পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অভিযোগপত্রে থাকা অন্যদের ভূমিকা খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অন্য দিকে, রবিবার ভোর হতে না হতেই পূর্বস্থলীর উত্তরের প্রাক্তন বিধায়ক তপনের বাড়িতে হানা দেয় পুলিশ। প্রথমেই ঘিরে ফেলা হয় তাঁর বাড়ি। তার পরে বাড়িতে ঢোকেন পূর্বস্থলী থানার পুলিশ। বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে আপাতত ২৭৫টি ত্রিপল, ২০টি ফুটবল, ১৪টি ভলিবল উদ্ধার হয়েছে। তপনকে আটক করেছে পুলিশ। এখন তল্লাশি চলছে তাঁর বাড়িতে।

Advertisement
আরও পড়ুন