অভিষেক মনু সিঙ্ঘভি। — ফাইল চিত্র।
রাজ্যসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে পশ্চিমবঙ্গের কংগ্রেসের তোপের মুখে পড়তে হল দলের সর্বভারতীয় নেতা ও আইনজীবী অভিষেক মনু সিঙ্ঘভিকে। অতীতে এ রাজ্য থেকে কংগ্রেস সাংসদ হিসেবে রাজ্যসভায় গিয়েছিলেন সিঙ্ঘভি কিন্তু বরাবর তৃণমূলের হয়ে নানা মামলায় সওয়াল এবং রাজ্যের কংগ্রেস নেতা-কর্মীদের প্রয়োজনে এগিয়ে না-আসায় একাধিক বার তাঁকে দলের পশ্চিমবঙ্গের নেতা-কর্মীদের ক্ষোভের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। এ বার তেলঙ্গানা থেকে রাজ্যসভায় প্রার্থী হওয়ার কথা সিঙ্ঘভির। তবে তার আগে শনিবার তৃণমূলের চার প্রার্থী এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অভিনন্দন জানিয়েছেন সিঙ্ঘভি। তিনি বলেছেন, রাজ্য পুলিশের ডিজি থাকার সময়ে রাজীব কুমারের হয়ে তিনি অনেক দিন আদালতে সওয়াল করেছেন। আদালতেরই নানা লড়াইয়ে মেনকা গুরুস্বামী তাঁর সহযোগী ছিলেন এবং বার-এ তাঁর সম্মানীয় সহকর্মী। বাবুল সুপ্রিয়ের ‘ভদ্র ও হাসিখুশি’ ব্যক্তিত্বের কথাও উল্লেখ করেছেন সিঙ্ঘভি। তার প্রেক্ষিতে প্রদেশ কংগ্রেসের তরফে রোহন মিত্র বলেছেন, ‘‘তৃণমূল কাদের প্রার্থী করবে, তাদের ব্যাপার। তবে কংগ্রেসের নিজস্ব মত আলাদা। উনি (সিঙ্ঘভি) কাউকে আদালতে প্রতিনিধিত্ব করে থাকতে পারেন কিন্তু রাজ্যের কংগ্রেস কর্মীরা রাজীব কুমারকে অন্য ভাবে মনে রাখবেন! পুলিশের শীর্ষ কর্তা হিসেবে তাঁর ভূমিকা কখনওই নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত ছিল না। বরং, মিথ্যা মামলা দিয়ে কংগ্রেসের অনেক নেতা-কর্মীকে দল বদল করতে চাপ দেওয়া হয়েছে।’’ রোহনের অভিযোগ, আসানসোলের গোষ্ঠী সংঘর্ষে তৎকালীন বিজেপি সাংসাদ বাবুলের ভূমিকা ও সংখ্যালঘুদের সম্পর্কে তাঁর নানা মম্তব্য জনস্মৃতিতে আছে। তার পরে তাঁর সম্পর্কে ‘মধুর’ কিছু খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। আর মেনকাও বিভিন্ন সময়ে আরএসএসের পক্ষে আদালতে লড়াই করেছেন মনে করিয়ে দিয়ে কংগ্রেসের রোহন, সুমন রায়চৌধুরীদের দাবি, বাইরে যুদ্ধং দেহি মনোভাব হলেও বিজেপি ও তৃণমূলের ভিতরের সম্পর্ক এই রাজ্যের মানুষ বারবারই দেখছেন।