Mamata Banerjee’s Meeting

মমতার বাড়ির বৈঠকে কুণালের জন্মদিন পালন! কেক কাটা, গান গাওয়ার মধ্যে ছন্দপতন কল্যাণের সঙ্গে মামলা সংক্রান্ত মতানৈক্যে

শনিবার মমতার বাড়িতে কুণালের জন্মদিন পালিত হয়। কেক কেটে মমতা ও অভিষেককে খাইয়ে দেন কুণাল। সকলকে কেক পরিবেশন করে দেন মহুয়া। তবে এ সবের মধ্যেও বৈঠকে মতানৈক্য দেখা দেয় বলে সূত্রের খবর।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ২২:৫৯
তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। — ফাইল চিত্র।

কালীঘাটে তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে শনিবার ফের একপ্রস্ত বৈঠক ডাকা হয়েছিল। তবে নির্ধারিত সময়ের চেয়ে বেশ কিছুটা দেরিতে শুরু হয় বৈঠক। কারণ, বেলেঘাটার বিধায়ক কুণাল ঘোষের জন্মদিন উদ্‌যাপন। শনিবার ৫৮ বছরে পড়লেন কুণাল। তাঁর জন্মদিন পালন করতে কেক কিনে রেখেছিলেন মমতা। দলনেত্রী এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কেক খাইয়ে দেন কুণাল। হয় গানও। তবে এ সবের পরেও বৈঠকে হল ছন্দপতন। সূত্রের খবর, বৈঠকে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতানৈক্য দেখা দেয় শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

Advertisement

কুণালের জন্মদিন পালন করতে আধুনিক মোমবাতিও এনে রাখা হয়েছিল। যখন কেক কাটা হয়, তখন সকলে উঠে দাঁড়িয়ে জন্মদিনের শুভেচ্ছাবার্তা দেন বিধায়ককে। উল্লেখ্য, ভোট পরবর্তী সময়ে তৃণমূলের প্রথম বৈঠকে অভিষেকের ‘লড়াইকে’ সম্মান জানাতে সকলকে উঠে দাঁড়াতে বলেছিলেন দলনেত্রী। তা নিয়ে বিতর্কও দানা বেঁধেছিল। তবে শনিবারের উঠে দাঁড়ানো নিয়ে কোনও বিতর্ক নেই। উঠে দাঁড়িয়ে ‘হ্যাপি বার্থডে’ গানের সুরে কুণালকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানান সকলে। পরে ‘শুভ জন্মদিন কুণাল’ বলে আরও একটি গান পরিবেশন করেন মমতা। তার পরে কুণালের জন্মদিনের কেক সকলকে পরিবেশন করেন কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র।

তবে সূত্রের খবর, এই সবের মধ্যেও হয়েছে ছন্দপতন। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে রয়েছে তৃণমূল। পরিষদীয় দলে ভাঙন ধরেছে। সংসদীয় দলেও ভাঙন ধরেছে। তার উপরে দলের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ‘তালা’ পড়ে যাওয়া নিয়েও বিতর্ক দানা বেঁধেছে। এ অবস্থায় দলের বিভিন্ন মামলা কে কী ভাবে লড়বেন, তা নিয়ে কল্যাণের সঙ্গে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মতানৈক্য তৈরি হয় বলে সূত্রের খবর। যদিও কল্যাণ এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে চাননি।

শনিবারের বৈঠকে বেশ কিছু সিদ্ধান্তও গৃহীত হয়েছে। দলের জাতীয় কর্মসমিতি থেকে বাদ দিয়ে দেওয়া হয়েছে ফিরহাদ হাকিম, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং পার্থ ভৌমিককে। বস্তুত, ফিরহাদ বর্তমানে বিধানসভায় ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের সঙ্গে ‘বিদ্রোহী’ শিবিরের সঙ্গে বসছেন। সুদীপ এবং পার্থ এনসিপিআই-এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন। এ অবস্থায় প্রত্যাশিত ভাবেই তিন জনের নাম বাদ গিয়েছে জাতীয় কর্মসমিতি থেকে। অন্য দিকে, জাতীয় কর্মসমিতিতে সংযোজিত হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ নাদিমুল হকের নাম। পাশাপাশি রাজ্যসভার সাংসদ ডেরেক ও’ব্রায়েনকে আহ্বায়ক করে পাঁচ জনের একটি শৃঙ্খলারক্ষা কমিটিও গড়ে দেওয়া হয়েছে বৈঠকে। কমিটিতে রয়েছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, অসীমা পাত্রেরা। এ ছাড়া তহবিল সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি পরামর্শ নেওয়ারও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বৈঠকে।

Advertisement
আরও পড়ুন