Narendra Modi

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ থেকে রাজ্যের নতুন ভবিষ্যৎ গড়ার ডাক প্রধানমন্ত্রীর! ‘তোষণ’ নিয়ে তোপ কংগ্রেস, বাম, তৃণমূলকে

শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আরএন রবি।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জুন ২০২৬ ১৯:০৩
শনিবার তারকেশ্বরের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

শনিবার তারকেশ্বরের মঞ্চে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ছবি: সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস পালনের মঞ্চ থেকে ‘ডবল ইঞ্জিন’ উন্নয়নের বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। জানালেন, পূর্বতন সরকারের জমানায় যে সব ক্ষেত্রে ‘অবহেলা’ হয়েছে, তা পূরণ করার জন্য ‘সুপারফাস্ট’ গতিতে কাজ শুরু করেছে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার। রাজ্যবাসীকে আশ্বাস দিলেন, পশ্চিমবঙ্গকে এখন আর থেমে থাকতে হবে না। বরং উন্নয়নের পথে এক নতুন ভবিষ্যৎ গড়বে রাজ্য।

Advertisement

গত ৯ মে ব্রিগেডে রাজ্যের নতুন সরকার গঠনের অনুষ্ঠানে এসেছিলেন প্রধানমন্ত্রী। তার পর গত দেড় মাসে শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন সরকার বেশ কিছু নতুন উদ্যোগ নিয়েছে রাজ্যে। মহিলাদের জন্য বিনামূল্যে সরকারি বাস পরিষেবা, অন্নপূর্ণা যোজনা থেকে শুরু করে বিভিন্ন পদক্ষেপ করা হয়েছে। নতুন সরকার কেমন লাগছে, শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবসের অনুষ্ঠানে এসে রাজ্যবাসীর কাছে তা জানতে চাইলেন মোদী। সভামঞ্চ থেকে বাংলাতেই প্রশ্ন করলেন, “পরিবর্তন ভাল লাগছে তো?”

শনিবার হুগলির তারকেশ্বরে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মূল অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সেখানে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং রাজ্যপাল আরএন রবি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে পয়লা বৈশাখকে পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালন করা হত। তবে সরকার বদলের পর স্থির হয়েছে ২০ জুনই পশ্চিমবঙ্গ দিবস হিসাবে পালিত হবে। উল্লেখ্য, এই ১৯৪৭ সালে এই দিনেই পশ্চিমবঙ্গকে আলাদা করে ভারতের অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত পাশ হয়েছিল বাংলার প্রাদেশিক আইনসভায়। তার নেপথ্যে অন্যতম উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের।

পশ্চিমবঙ্গ দিবস উদ্‌যাপনের মঞ্চ থেকে তা নিয়ে এই দিনটির গুরুত্ব বোঝান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তুলে ধরেন শ্যামাপ্রসাদের ভূমিকাও। একই সঙ্গে স্বাধীনতা পরবর্তী দশকগুলিতে রাজ্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতিরও বর্ণনা দেন মোদী। তাঁর অভিযোগ, বিগত সরকারগুলি নিজেদের স্বার্থপূরণের লক্ষ্যে ‘তোষণ’ করে গিয়েছে। অবৈধ অনুপ্রবেশের বিরুদ্ধেও বিগত সরকারগুলি কোনও পদক্ষেপ করেনি বলেও অভিযোগ তাঁর।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিভাজনের সময়ে কংগ্রেস বাংলাকে অবহেলায় ফেলে রাখতে চেয়েছিল। বিভাজনের পরে অবশিষ্ট পশ্চিমবঙ্গকে নিয়েও তোষণের খেলা শুরু করে দিয়েছিল। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়, নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু, ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের মতো মহান সন্তানদের সঙ্গে যে মাটির যোগ রয়েছে, সেখানে বিদেশি বিচারধারা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। প্রথমে কংগ্রেস, তার পরে বামেরা, তার পরে তৃণমূল— দশকের পর দশক ধরে পশ্চিমবঙ্গকে অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের আড্ডা হয়ে উঠতে দিয়েছে।”

উল্লেখ্য, টাটা গোষ্ঠী চলে যাওয়ার পরে গত দেড় দশকে কোনও বড় শিল্প আসেনি পশ্চিমবঙ্গে। সেই নিয়েও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। মোদী বলেন, “যে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের বিকাশের নেতৃত্ব দিতে পারত, সে সামনে এগোনোর বদলে ক্রমশ পিছিয়ে গিয়েছে। ইতিহাসের ওই ভুলগুলির আর পুনরাবৃত্তি হবে না। পশ্চিমবঙ্গ দিবস থেকে প্রেরণা নিয়ে নতুন ইতিহাস লেখা হবে। দশকের পর দশকের কুশাসন পশ্চিমবঙ্গকে প্রচুর পিছনে পৌঁছে দিয়েছে। আপনারা দেখেছেন, পুরনো সরকারের আমলে কী অবস্থা হয়েছিল। বড় শিল্পপতিরা এখান থেকে চলে গিয়েছেন। যুব সমাজের রোজগার ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। সম্পদের উপর অনুপ্রবেশকারীদের কব্জা বৃদ্ধি পেয়েছিল।”

একই সঙ্গে বর্তমান সরকারের আমলে যে রাজ্যবাসী দ্রুত সুফল পেতে শুরু করেছে, সে কথাও ব্যাখ্যা করেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর কথায়, বিজেপির জয়ের পর পশ্চিমবঙ্গ কী ভাবে দ্রুত ফল পেতে শুরু করেছে, তা গোটা দেশ দেখছে। মোদী বলেন, “পশ্চিমবঙ্গের হওয়ায় এখন এক নতুন সতেজতা রয়েছে। নতুন সুগন্ধ আসছে। যেমন পশ্চিমবঙ্গ এখন শিকল থেকে মুক্ত হয়ে গিয়েছে। যেন পশ্চিমবঙ্গের গৌরব ফেরা শুরু হয়ে গিয়েছে।” রাজ্যবাসীর উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের একটা ভোট কত কিছু পরিবর্তন করতে পারে, তা পশ্চিমবঙ্গে স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে।”

রাজ্যে নতুন সরকারের হাত ধরে যে আয়ুষ্মান ভারত যোজনা চালু হয়েছে, রাজ্যের মহিলারা যে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পেতে শুরু করেছেন, মহিলাদের বিনামূল্যে বাস পরিষেবা চালু হয়েছে— সে সব তুলে ধরেন মোদী। উল্লেখ করেন রাজ্যে জনকল্যাণ শিবির, সীমান্তে কাঁটাতার বসানোর জন্য জমি দেওয়ার প্রসঙ্গও। প্রধানমন্ত্রীর কথায়, “এ বার বাংলা থামবে না, এখন ইতিহাস গড়বে।”

শনিবার পশ্চিমবঙ্গ দিবসের মঞ্চ থেকে বেশ কিছু সরকারি প্রকল্পের সূচনা করেন প্রধানমন্ত্রী। তালিকায় রয়েছে হাওড়ায় ডিভিশন হাসপাতাল, হাওর-রাধামোহনপুরের মাঝে রেলওভার ব্রিজ, ডিজিটাল কৃষি মিশন, প্রধানমন্ত্রী ফসলবিমা যোজনা, রাষ্ট্রীয় প্রাকৃতিক কৃষি মিশন, প্রধানমন্ত্রী ধনধান্য কৃষি যোজনা-সহ বিভিন্ন প্রকল্প। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “রেল, সড়ক, কৃষি, মৎস্যপালনের সঙ্গে সম্পর্কিত এই প্রকল্পগুলি বাংলার বিকাশকে নতুন গতি দেবে। এই পরিকল্পনাগুলি গ্রামীণ অর্থব্যবস্থাকে মজবুত করবে।”

পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব বর্ণনা করার সময়ে দেশভাগের প্রেক্ষাপটও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “১৯৪৬ সালে কলকাতায় হিংসা, নোয়াখালির হিংসায় কত নির্দোষ বাঙালি মারা গিয়েছেন। বাংলা রক্তপাত সহ্য করেছে। নিজের পরিজনকে হারিয়েছেন। মাতৃভূমিকে টুকরো হতে দেখেছেন। কিন্তু বাংলা নিজের অস্মিতা এবং পরিচয়কে নষ্ট হতে দেয়নি। যখন পুরো বাংলাকে ভারত থেকে পৃথক করার পরিকল্পনা চলছিল, তখন পশ্চিমবঙ্গ বানিয়ে ওই পরিকল্পনা সফল হতে দেওয়া হয়নি। আমরা পশ্চিমবঙ্গ দিবসকে শুধু একটা তারিখ হিসাবে স্মরণ করছি না। পুরো ইতিহাসকে স্মরণ করছি।”

দেশের তরুণ প্রজন্মকে পশ্চিমবঙ্গ দিবসের গুরুত্ব আরও বেশি করে বোঝানো দরকার বলে মনে করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “ওই সময়ে কী হচ্ছিল, তা জানা দরকার। যখন পুরো বাংলাকে পাকিস্তানের অংশ হিসাবে যুক্ত করার চেষ্টা হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস ওই ষড়যন্ত্রকারীদের কাছে হার মেনে নিয়েছিল। শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় তার বিরুদ্ধে সরব হন। ১৯৪৭ সালের এপ্রিলে তিনি ঐতিহাসিক প্রস্তাব পাশ করান। তিনি ঘোষণা করেন, পুরো বাংলা পাকিস্তানের অংশ হবে না।” পশ্চিমবঙ্গকে ভারতের সঙ্গে জুড়ে রাখার ক্ষেত্রে শ্যামাপ্রসাদের কী ভূমিকা ছিল, তা-ও নিজের বক্তৃতায় তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।

Advertisement
আরও পড়ুন