Annapurna Bhandar

অন্নপূর্ণার টাকা না মেলার বিক্ষোভে শামিল বিজেপিও

প্রশাসনের একটি অংশের বক্তব্য, যাঁদের নাম প্রাথমিক ভাবে বাদ গিয়েছে, তাঁদের এলাকায় ক্ষেত্র-সমীক্ষা হবে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে ফর্ম পূরণে কিছু ত্রুটি ছিল। সেগুলি সংশোধন ও পুনর্যাচাই ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে।

নিজস্ব প্রতিবেদন
শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ০৬:৩২

—প্রতীকী চিত্র।

অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা না পাওয়ায় ক্ষোভের আঁচ বাড়ল নানা জেলায়। কোথাও বিক্ষোভ, কোথাও ঘেরাও করা হল সরকারি কর্মীদের। বিক্ষোভে যোগ দিলেন বিজেপি নেতা-নেত্রীরাও।

প্রশাসন সূত্রের ব্যাখ্যা, কয়েক দিন আগে প্রায় ১.১০ কোটি উপভোক্তার টাকা দেওয়া হয়েছিল। তবে কয়েক জনের আধার কার্ডের সঙ্গে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সংযোগ নেই। সে কারণে কিছু সমস্যা হচ্ছে। জেলাশাসকদের এ ব্যাপারে দ্রুত পদক্ষেপ করতে বলা হয়েছে। রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণমন্ত্রী মালতী রাভা রায় বলেন, ‘‘প্রতিশ্রুতি মতো নির্দিষ্ট সময়ে অন্নপূর্ণা যোজনা দেওয়া হয়েছে। এখন যা অভিযোগ উঠছে, তা নিয়ে অঞ্চল ধরে খতিয়ে দেখা, বাড়ি-বাড়ি সমীক্ষা হবে। যোগ্যেরা প্রত্যেকে অন্নপূর্ণা যোজনা পাবেন।’’

পূর্ব মেদিনীপুরে তমলুক পুরসভায় শনিবার বিক্ষোভ দেখান মহিলারা। তাঁদের দাবি, তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা আবেদনপত্র অনলাইনে ‘আপলোড’ না করায়, টাকা মেলেনি। বিক্ষোভকারীদের অন্যতম শিউলি সামাইয়ের অভিযোগ, ‘‘যাঁদের গাড়ি-বাড়ি রয়েছে, তাঁরা টাকা পেয়েছেন। আমরা বঞ্চিত!’’ বিক্ষোভে নেতৃত্ব দেওয়া বিজেপি নেতা-নেত্রী সুমনা অধিকারী, সুকমল ঘোষেদের দাবি, ‘‘আমাদের আশঙ্কা, আয়ুষ্মান ভারতের আবেদনও একই ভাবে আটকাতে পারে।’’ তমলুকের উপ-পুরপ্রধান সুফিয়া বেগম বলেন, ‘‘সব আবেদন ‘আপলোড’ করা সম্ভব হয়নি। অনলাইনের কিছু আবেদন বাতিলও হয়েছে, যার কারণ স্পষ্ট নয়। এতে রাজনীতি নেই।’’ হুগলির আরামবাগে মহকুমাশাসকের দফতর ও গোঘাট ১ ব্লক অফিসে বিক্ষোভেও শামিল হন বিজেপির নেত্রী-কর্মীরা। গোঘাটের মহিলা মোর্চার নেত্রী রুমা মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘‘জানতে এসেছি, কেন টাকা ঢোকেনি।’’ বাঁকুড়ার শালতোড়ার বিজেপি বিধায়ক চন্দনা বাউরিকে সমাজমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিয়োয় মেজিয়া ব্লক অফিসের কর্মীদের উপরে ক্ষোভ প্রকাশ করতে দেখা গিয়েছে। চন্দনা বলেন, “যোগ্যদের কাছে অনুদান কেন পৌঁছবে না, সেটাই প্রশ্ন।’’

কোচবিহার পুরসভার একটি দল ৩ নম্বর ওয়ার্ডে অন্নপূর্ণা যোজনার সমীক্ষায় গেলে, ঘেরাও করেন কিছু মহিলা। উত্তর ২৪ পরগনার গাইঘাটার পাঁচপোতায় কিছু মহিলা এক অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীকে ঘিরে বিক্ষোভ দেখান। অভিযোগ, ওই কর্মী ঘরে বসে সমীক্ষা করায়, বহু নাম বাদ পড়েছে। টাকা না মেলায় নদিয়ার করিমপুর ১ ব্লক অফিসের তিন অস্থায়ী কর্মীকে হোগলবেড়িয়ার মানিকনগর গ্রামে হেনস্থার অভিযোগ ওঠে। পুলিশ তাঁদের উদ্ধার করে।

পূর্ব বর্ধমানের গলসির উপভোক্তাদের একাংশের অভিযোগ, জুনে টাকা পেলেও, জুলাইয়ে মেলেনি। ব্লক প্রশাসন জানায়, আবেদনের নম্বর-সহ নথি নিয়ে এলে, খতিয়ে দেখা হবে। পশ্চিম বর্ধমানের দুর্গাপুরে মহকুমাশাসকের কার্যালয়েও বিক্ষোভ হয়। বীরভূমের ময়ূরেশ্বর ১ ও নলহাটি ১ ব্লক কার্যালয়ে বিক্ষোভ সামাল দিতে পুলিশ পৌঁছয়। বাঁকুড়ার বিষ্ণুপুরে মহকুমাশাসকের অফিসে অভিযোগপত্র জমা দেনশ’দুয়েক মহিলা।

প্রশাসনের একটি অংশের বক্তব্য, যাঁদের নাম প্রাথমিক ভাবে বাদ গিয়েছে, তাঁদের এলাকায় ক্ষেত্র-সমীক্ষা হবে। কারণ, অনেক ক্ষেত্রে ফর্ম পূরণে কিছু ত্রুটি ছিল। সেগুলি সংশোধন ও পুনর্যাচাই ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে শেষ করতে বলা হয়েছে। সব ঠিক থাকলে, ২০ জুলাইয়ের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে পারে বলে প্রশাসনের আশা।

আরও পড়ুন