Parivartan Yatra

রাজ্যের ন’টি প্রান্ত থেকে ন’টি ‘পরিবর্তন যাত্রা’, প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ব্রিগেড সমাবেশ মার্চে, ঘোষণা রাজ্য বিজেপির

বিধাননগরে মঙ্গলবার রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে বিভাগ ও জেলা স্তরের প্রতিনিধিদের ডেকে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তিন কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল, ভুপেন্দ্র যাদব এবং বিপ্লব দেব। প্রথম বৈঠকই ছিল ‘পরিবর্তন যাত্রা’র রূপরেখা সংক্রান্ত।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২১:৩২
BJP announces state-wide Parivartan Yatra to end in Modi’s rally at brigade parade ground

বিজেপির ব্রিগেড সমাবেশ কবে? —ফাইল চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গের ‘নীলবাড়ি’ দখলের যুদ্ধে দলের সবচেয়ে বড় প্রচারাভিযান ঘোষণা করল বিজেপি। রাজ্য জুড়ে ন’টি ‘পরিবর্তন যাত্রা’। সেগুলির উদ্বোধনে থাকবেন বিজেপির সর্বভারতীয় স্তরের ‘মহারথীরা’। আর ‘যাত্রা’র পরিসমাপ্তি হবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ব্রিগেড সমাবেশের মধ্য দিয়ে। মার্চের প্রথমার্ধের মধ্যেই এই গোটা কর্মসূচি সেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি। তার পাশাপাশিই মঙ্গলবার জেলা এবং বিভাগ স্তরের নেতৃত্বকে একসঙ্গে বসিয়ে লিখিতে ভাবে জেনে নেওয়া হয়েছে পছন্দের প্রার্থিতালিকা।

Advertisement

মঙ্গলবার বিধাননগরে রাজ্য বিজেপি নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে বিভাগ ও জেলা স্তরের প্রতিনিধিদের ডেকে দফায় দফায় বৈঠক করেছেন তিন কেন্দ্রীয় নেতা সুনীল বনসল, ভূপেন্দ্র যাদব এবং বিপ্লব দেব। প্রথম বৈঠকই ছিল ‘পরিবর্তন যাত্রা’র রূপরেখা সংক্রান্ত। সে কর্মসূচির রূপরেখা গত শনিবারের কোর কমিটি বৈঠকেই স্থির করা হয়েছিল। মঙ্গলবার বিভিন্ন সাংগঠনিক বিভাগ ও জেলার প্রতিনিধিদের তা বিশদে জানিয়ে দেওয়া হল এবং প্রস্তুতি শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

রীতেশ তিওয়ারিকে এই ‘পরিবর্তন যাত্রা’-র মুখ্য সমন্বয়ক করা হয়েছে। আহ্বায়ক করা হয়েছে নীলাঞ্জন অধিকারীকে। বৈঠক শেষে শমীক আনুষ্ঠানিক ভাবে এই কর্মসূচির ঘোষণা করে জানান, রাজ্য জুড়ে ৫,০০০ কিলোমিটার পথ পরিক্রমা করবে এই ‘যাত্রা’। পথে প্রত্যেকটি বিধানসভা কেন্দ্রকেই ছুঁয়ে যাওয়ার চেষ্টা হবে।

পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির সাংগঠনিক বিভাগের সংখ্যা ১০টি। তার মধ্যে কলকাতা মহানগর বিভাগ বাদ দিয়ে বাকি ন’টি বিভাগ থেকেই একটি করে যাত্রা শুরু হবে। প্রতিটি বিভাগের ‘যাত্রা’ সংশ্লিষ্ট বিভাগের এক প্রান্তে শুরু হয়ে অন্য প্রান্তে শেষ হবে। তার পরে কলকাতা মহানগর বিভাগ আয়োজন করবে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র চূড়ান্ত পর্ব অর্থাৎ ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী মোদীর জনসভা।

মার্চের প্রথম দু’দিনেই ন’টি জায়গা থেকে ন’টি যাত্রার উদ্বোধন হয়ে যাবে বলে শমীক জানিয়েছেন। ১ মার্চ পাঁচটি ‘যাত্রা’র উদ্বোধন হবে পাঁচটি জায়গা থেকে। সেগুলি হল কোচবিহার দক্ষিণ, কৃষ্ণনগর দক্ষিণ, কুলটি, গড়বেতা ও রায়দিঘি। ২ মার্চ চারটি ‘যাত্রা’র উদ্বোধন হবে চারটি জায়গা থেকে। সেগুলি হল ইসলামপুর, হাঁসন, আমতা এবং সন্দেশখালি। ৩ এবং ৪ মার্চ দোল ও হোলি উপলক্ষে যাত্রা বন্ধ থাকবে। তার পরে ৫ থেকে ১০ মার্চের মধ্যেই সবক’টি ‘যাত্রা’ই নিজের নিজের গন্তব্যে পৌঁছে যাবে। উদ্বোধনে আসবেন ন’জন সর্বভারতীয় স্তরের নেতা অমিত শাহ, নিতিন নবীন, জেপি নড্ডা, রাজনাথ সিংহ, নিতিন গডকড়ী, শিবরাজ সিংহ চৌহান, দেবেন্দ্র ফডণবীস, ধর্মেন্দ্র প্রধান এবং স্মৃতি ইরানি। কে কোন ‘যাত্রা’র উদ্বোধন করবেন, সে তালিকা পরে জানানো হবে।

প্রধানমন্ত্রী মোদীর নেতৃত্বে ব্রিগেড সমাবেশের তারিখ অবশ্য বিজেপি ঘোষণা করেনি। দলের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা পুরুলিয়ার সাংসদ জ্যোতির্ময় মাহাতো বলেছেন, ‘‘আমরা চেষ্টা করছি ১৩, ১৪ বা ১৫ মার্চের মধ্যে ব্রিগেড সমাবেশ রাখতে। তবে তারিখ চূড়ান্ত হওয়া নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচির উপরে। প্রধানমন্ত্রীর দফতর থেকে চূড়ান্ত ভাবে যে তারিখ জানানো হবে, সেই তারিখেই ব্রিগেড সমাবেশ হবে।’’

‘পরিবর্তন যাত্রা’ সংক্রান্ত বৈঠক সেরে জেলা সভাপতি, জেলা ইনচার্জ এবং বিভাগ আহ্বায়কদের নিয়ে আলাদা করে বৈঠকে বসেছিলেন বনসল এবং ভূপেন্দ্র। নির্বাচন ব্যবস্থাপনায় তাঁদের ভূমিকা এবং দায়দায়িত্ব প্রথমে বুঝিয়ে দেওয়া হয় সেখানে। তার পরে ছাপানো ফর্ম বিলি করে প্রার্থী তালিকার বিষয়ে লিখিত মতামত নেওয়া হয়। নিজেদের অধীনে থাকা কোন বিধানসভা কেন্দ্রে তাঁরা কাকে প্রার্থী হিসাবে চাইছেন, সে বিষয়ে তাঁদের মতামত জেনে নেওয়া হয়। প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রের জন্য তিনটি করে নাম লিখতে বলা হয়। ঠিক এই পদ্ধতিতেই এর আগে প্রার্থী বাছাইয়ের বিষয়ে মণ্ডল স্তরের নেতৃত্বের মতামত নেওয়া হয়েছিল। এ বার জেলা ও বিভাগ নেতৃত্বের মতামত নিয়ে বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব স্পষ্ট করে দিলেন, সংগঠনের সব স্তর থেকে মতামত নেওয়ার পরেই এ বার প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন