Iran US Nuclear deal

‘ভবিষ্যতের আলোচনার দিশানির্দেশ নিয়ে সমঝোতা হয়েছে’, আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু-বৈঠকের পর বলল ইরান

হরমুজ প্রণালীর অদূরেই মোতায়েন রয়েছে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-সহ একাধিক রণতরী। ফলে স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে তেহরানের এই পদক্ষেপ ‘প্ররোচনামূলক’ বলে মনে করছিলেন অনেকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২৩:৩৫
ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি।

ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। ছবি: রয়টার্স।

অবশেষে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ইতিবাচক বার্তা এল ইরানের তরফে। মঙ্গলবার সুইৎজ়ারল্যান্ডের জেনেভায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে মার্কিন প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকের পরে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি বলেন, ‘‘আমেরিকার সঙ্গে দ্বিতীয় দফার বৈঠকে ভবিষ্যতের আলোচনার দিশানির্দেশ সংক্রান্ত একটি সাধারণ সমঝোতা হয়েছে।’’

Advertisement

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া ওই আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আরাঘচি। বৈঠক শুরুর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, ‘‘তেহরান কোনও চুক্তিতে পৌঁছোতে ব্যর্থ হলে পরিণাম ভয়াবহ হবে।’’ ঘটনাচক্রে, কয়েক ঘণ্টা পরেই ইতিবাচক বার্তা এল ইরানের তরফে।

জেনেভায় বৈঠক শুরুর করেক ঘণ্টা আগেই হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে শক্তি জানান দিয়েছিল ইরান। আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি’ (ইরনা) জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক ভাবে ছোড়া হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র। ঘটনাচক্রে, হরমুজ প্রণালীর অদূরেই মোতায়েন রয়েছে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-সহ একাধিক রণতরী। ফলে স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে তেহরানের এই পদক্ষেপ ‘প্ররোচনামূলক’ বলে মনে করছিলেন অনেকে।

গত সপ্তাহে পশ্চিম এশিয়ার দেশ ওমানে পরমাণু চুক্তি নিয়ে ওয়াশিংটন-তেহরান বৈঠকে কোনও ইতিবাচক অগ্রগতি হয়নি। এই পরিস্থিতিতে ক্রমশ উত্তেজনার পারদ চড়ছিল পশ্চিম এশিয়ায়। ইজ়রায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু প্রয়োজনে আবার ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপেরও সওয়াল করেছিলেন। প্রসঙ্গত, ২০১৫ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার জমানায় ইরানের সঙ্গে তিন বছরের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ চুক্তি করেছিল ছয় শক্তিধর রাষ্ট্র— ব্রিটেন, ফ্রান্স, রাশিয়া, জার্মানি, চিন এবং আমেরিকা। অথচ ২০১৮-য় সেই চুক্তি ভেঙে বেরিয়ে এসেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত বছরের জানুয়ারিতে দ্বিতীয় দফায় হোয়াইট হাউসে প্রবেশের পর থেকে পরমাণু চুক্তি নিয়ে নতুন করে ইরানের উপর চাপ সৃষ্টি শুরু করেন তিনি। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। ইরানের সঙ্গে নতুন করে চুক্তি করতে আগ্রহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তবে সেই চুক্তি এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। টানাপড়েনের মধ্যেই গত বছর ইরানের পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল ইজ়রায়েল এবং মার্কিন বাহিনী।

Advertisement
আরও পড়ুন