US-Iran Nuclear talk

জ়েনিভায় আমেরিকার সঙ্গে পরমাণু বৈঠকের আগে ‘আক্রমণাত্মক’ ইরান! হরমুজ প্রণালীতে ছোড়া হল ক্ষেপণাস্ত্র

সুইৎজারল্যান্ডের জ়েনিভায় মঙ্গলবার পরমাণু চুক্তি নিয়ে আমেরিকা-ইরান বৈঠক শুরু হচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার রয়েছেন ওই বৈঠকে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৫
As nuclear talks with US begin in Geneva, Iran fires missiles at Strait of Hormuz

(বাঁ দিকে) ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং আয়াতোল্লা খামেনেই (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

মঙ্গলবার থেকে সুইৎজারল্যান্ডের জ়েনিভায় পরমাণু চুক্তি নিয়ে আমেরিকার সঙ্গে নতুন করে বৈঠক শুরু হয়েছে। তার আগে হরমুজ প্রণালীতে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়ে শক্তি জানান দিল ইরান। আয়াতোল্লা খামেনেইয়ের দেশের সরকারি সংবাদমাধ্যম ‘ইসলামিক রিপাবলিক নিউজ এজেন্সি’ (ইরনা) জানিয়েছে, পরীক্ষামূলক ভাবে ছোড়া হয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র। ঘটনাচক্রে, হরমুজ প্রণালীর অদূরেই মোতায়েন রয়েছে বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন-সহ একাধিক রণতরী। ফলে স্পর্শকাতর পরিস্থিতিতে তেহরানের এই পদক্ষেপ ‘প্ররোচনামূলক’ বলে মনে করছেন অনেকে।

Advertisement

মঙ্গলবার থেকে শুরু হওয়া আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে সে দেশের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। বৈঠক শুরুর আগে মঙ্গলবার ট্রাম্প ইরানকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘‘তেহরান কোনও চুক্তিতে পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে পরিণাম ভয়াবহ হবে।’’

ডিসেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ চিন সাগর থেকে যাত্রা শুরু করেছিল মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন! নিমিৎজ-শ্রেণির এই রণতরীর সঙ্গী তিনটি আর্লে বার্ক-শ্রেণির ডেস্ট্রয়ারও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছিল। জানুয়ারির শেষ সপ্তাহ থেকে পেন্টাগনের ইরান উপকূলের অদূরে ঘাঁটি গেড়েছে। এর পর দক্ষিণ আমেরিকা উপকূলে মোতায়েন আর এক মার্কিন বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড ফোর্ডও পশ্চিম এশিয়ার উদ্দেশে রওনা দিয়েছে। এই আবহে এ বার হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পথে হাঁটল ইরান।

প্রসঙ্গত, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া গণবিক্ষোভে ইরানে প্রায় ২০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ। কয়েকটি মানবাধিকার সংগঠনের দাবি, ৩০ হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে খুন করে ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেইয়ের বাহিনী। এই পরিস্থিতি ঘিরে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। তারই মধ্যে পরমাণু চুক্তি নিয়ে বৈঠক ফলপ্রসূ হবে কি না, তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। সোমবার ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা খামেনেই ঘোষণা করেছেন, কোনও অবস্থাতেই পশ্চিমি দুনিয়ার চাপে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করা হবে না।

প্রসঙ্গত, রাষ্ট্রপুঞ্জ নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-র বারে বারেই ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গত ১৩ জুন রাতে ইরানের রাজধানী তেহরান এবং একাধিক পরমাণুকেন্দ্রে হামলা চালিয়েছিল ইজ়রায়েলি যুদ্ধবিমান। ওই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল, ‘অপারেশন রাইজ়িং লায়ন’! ঘটনাচক্রে, ইজ়রায়েলি হামলার দিনকয়েক আগে আইএইএ-র ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি জানিয়েছিলেন, পরমাণু বোমা নির্মাণের উদ্দেশ্যে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি চালাচ্ছে ইরান। যদিও সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছিল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েকশিয়ানের সরকার। ইজ়রায়েলি হামলার ন’দিন পরে ২২ জুন ইরানের তিনটি পরমাণুকেন্দ্র, ফোরডো, নাতান্‌জ় এবং ইসফাহানে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকার বি-২ বোমারু বিমান। ফেলা হয় বাঙ্কার ব্লাস্টার সিরিজের সবচেয়ে শক্তিশালী বোমা জিবিইউ-৫৭। সেই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন মিডনাইট হ্যামার’। ২৪ জুন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে যুদ্ধবিরতি হলেও ওয়াশিংটনের দাবি মেনে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে এখনও পর্যন্ত রাজি হয়নি তেহরান।

Advertisement
আরও পড়ুন