(বাঁ দিকে) ভলোদিমির জ়েলেনস্কি, ভ্লাদিমির পুতিন (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহির আবুধাবির পরে এ বার সুইৎজারল্যান্ডের জ়েনিভা। যুদ্ধের চতুর্থ বর্ষপূর্তির আগে মঙ্গলবার থেকে আমেরিকার মধ্যস্থতায় নতুন করে বৈঠকে বসল রাশিয়া এবং ইউক্রেন। দু’দিনের এই বৈঠকে যু্দ্ধবিরতির শর্ত নিয়ে নির্ণায়ক আলোচনা হতে পারে বলে কয়েকটি পশ্চিমি সংবাদমাধ্যমের দাবি।
জ়েনিভা বৈঠকে ইউক্রেনীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে রয়েছেন সে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা কাউন্সিলের প্রধান রুস্তেম উমেরভ এবং রাশিয়ার দলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপদেষ্টা ভ্লাদিমির মেডিনস্কি। জ়েনিভায় বৈঠক শুরুর আগেই সোমবার রাত থেকে ইউক্রেনে ধারাবাহিক ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে রুশ ফৌজ। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কি মঙ্গলবার বৈঠক শুরুর আগে এই অভিযোগ করেছেন। পাশাপাশি, মস্কোর তরফে কিভের বিরুদ্ধে পাল্টা ড্রোন হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।
২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬টায় সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলে জাতির উদ্দেশে বক্তৃতায় কিভের বিরুদ্ধে ‘সামরিক অভিযানের’ কথা ঘোষণা করেছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইউক্রেনের ‘নির্দিষ্ট ৭০টি লক্ষ্যে’ ক্রুজ় ক্ষেপণাস্ত্র এবং বিমান হামলা চালিয়েছিল রুশ বাহিনী। পরবর্তী ধাপে শুরু হয়েছিল স্থলপথে অভিযানও। সামরিক বিশেষজ্ঞদের একাংশের পূর্বাভাস ছিল, কয়েক মাসের মধ্যেই পরাস্ত হবে ইউক্রেন। কিন্তু আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের সাহায্যপুষ্ট জ়েলেনস্কি ফৌজ টানা চার বছর ধরে যে ভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে, তা দেখে চমকে গিয়েছেন অনেকেই।
চলতি মাসের গোড়ায় আবুধাবিতে মার্কিন মধ্যস্থতার মস্কো-কিভ প্রতিনিধিস্তরের বৈঠক হয়েছিল। প্রসঙ্গত, মার্কিন মধ্যস্থতাকারী দলে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার। রাশিয়ার দাবি মেনে ওই বৈঠকেই সামরিক জোট নেটোর সদস্যপদ গ্রহণের প্রচেষ্টা থেকে বিরত থাকার বার্তা দিয়েছেন ইউক্রেন। কিন্তু যুদ্ধবিরতির ‘শর্ত’ হিসাবে রাশিয়ার দেওয়া ‘ভূমি বিনিময়’ (ল্যান্ড সোয়াপিং)-এর প্রস্তাবে এখনও সম্মত নয় ইউক্রেন। পুতিনের অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে ২০১৪ সালে ছিনিয়ে নেওয়া ইউক্রেনীয় ভূখণ্ড ক্রাইমিয়া এবং ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের অন্যতম ভরকেন্দ্র ডেনেৎস্ক-ওল্ডবাস্ট এবং লুহানস্ক অঞ্চল (যাদের একত্রে ডনবাস বলা হয়)। ডনবাসের প্রায় ৭০ শতাংশ এলাকা বর্তমানে রাশিয়ার দখলে। গত ছ’মাসে ওই এলাকায় নির্ণায়ক অগ্রগতি হয়েছে রুশ বাহিনীর।