Home Task to MLAs

‘পরীক্ষার ছুটি’তে বিধায়কদের জন্য ‘হোমটাস্ক’ দিলেন বিজেপি নেতৃত্ব, প্রতিদিন অন্তত পাঁচটি বুথে ঘুরে জনসংযোগের নির্দেশ

বিজেপি নেতৃত্ব কাজ বেঁধে দিলেন বিধায়কদের জন্য। ‘নীরব’ মাসে জনসংযোগ কী ভাবে সারতে হবে, রোজ কী কী করতে হবে, কোথায় কোথায় যেতে হবে, ‘হোমটাস্ক’ দেওয়ার ঢঙে তা নির্দিষ্ট করে দিল দল

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৯:২২
BJP leadership assigns Home Task for MLAs in Bengal during ‘Exam Leave’

বিধানসভা নির্বাচনের আবহে বিধায়কদের জন্য কাজ বেঁধে দিল বিজেপি নেতৃত্ব। ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।

‘হোমটাস্ক’। গরমের ছুটি বা পুজোর ছুটিতে নয়। ‘পরীক্ষার ছুটি’তে। স্কুলপড়ুয়াদের জন্য নয়। রাজনীতির পড়ুয়াদের জন্য।

Advertisement

ফেব্রুয়ারি মাস জুড়ে পশ্চিমবঙ্গে মাইক বাজিয়ে প্রকাশ্য রাজনৈতিক সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ। কারণ, মাধ্যমিক পরীক্ষা চলছে। এর পর শুরু হবে উচ্চমাধ্যমিক। সুতরাং গোটা মাস জুড়েই মাইক বন্ধ রাখতে হবে। তাই বড় কর্মসূচি থেকে ছুটি। কিন্তু তা বলে সারা মাস তো বিধায়কদের চুপচাপ বসে থাকতে দেওয়া যায় না। বিশেষত, মাসখানেক বা মাসদুয়েকের মধ্যেই যখন বিধানসভা নির্বাচন। অতএব, বিজেপি নেতৃত্ব কাজ বেঁধে দিলেন বিধায়কদের জন্য। এই ‘নীরব’ মাসে জনসংযোগ কী ভাবে সারতে হবে, রোজ কী কী করতে হবে, কোথায় কোথায় যেতে হবে, ‘হোমটাস্ক’ দেওয়ার ঢঙে তা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে দল।

দিন তিনেক আগেই দিল্লি থেকে নির্দেশ এসেছে, এখন থেকে নির্বাচন পর্যন্ত বিধায়করা শুধুমাত্র নিজের নিজের নির্বাচনী কেন্দ্রে মনোনিবেশ করবেন। কিন্তু সে মনোনিবেশের অর্থ যে যাঁর মতো করে কর্মসূচি নেওয়া নয়। এখন পশ্চিমবঙ্গ বিজেপির যে ৬৫ জন বিধায়ক রয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের জন্য একই রকম কর্মসূচি ছকে দেওয়া হয়েছে। বিধায়করা ইতিমধ্যে সে কাজে নেমেও পড়েছেন।

প্রতি দিন অন্তত পাঁচটি করে বুথে ঘুরতে বলা হয়েছে বিধায়কদের। সংখ্যাটি পাঁচের বেশি হলে আরও ভাল। তবে কম যেন কোনও ভাবেই না-হয়। এমনটাই নির্দেশ দিল্লির। বিধায়কেরা সংশ্লিষ্ট এক একটি বুথের বিজেপি কর্মীদের নিয়ে বৈঠক করবেন। যাঁরা বিভিন্ন কেন্দ্রীয় সরকারি প্রকল্পের সুবিধা পেয়েছেন, তাঁদের সঙ্গে দেখা করবেন এবং বোঝাবেন যে, রাজ্যে বিজেপির সরকার এলে আরও অনেক কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধা মিলবে। পাড়ার বা গ্রামের পরিচিত মন্দির বা দেবস্থানে যাবেন। প্রণাম করবেন। সম্ভব হলে পুজোও দেবেন।

বুথে বুথে এই জনসংযোগের সময়ে ‘পরামর্শ বাক্স’ এবং ‘পরামর্শ ফর্ম’ সঙ্গে রাখতে বলা হয়েছে বিধায়কদের। এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির সঙ্কল্পপত্র (নির্বাচনী ইস্তাহার) কেমন হওয়া উচিত, তাতে কী ধরনের প্রতিশ্রুতি থাকা উচিত, সে বিষয়ে সরাসরি জনতার মতামত নেওয়ার জন্য বিজেপি এই বাক্স এবং ফর্মের ব্যবস্থা করেছে। এলাকায় এলাকায় বিধায়করা যখন ঘুরবেন, তখন ওই ফর্ম বিলি করে স্থানীয় মানুষের চাহিদা জেনে নেবেন। পূরণ করা ফর্ম বাক্সে জমা নিয়ে নেবেন। দুবরাজপুরের বিধায়ক অনুপ সাহার কথায়, ‘‘এ বার আমাদের সঙ্কল্পপত্রে শুধু রাজ্যভিত্তিক পরিকল্পনা থাকবে না। বিভিন্ন এলাকার স্থানীয় সমস্যা সমাধানের কথা বা স্থানীয় চাহিদা পূরণের কথাও থাকবে। তাই বুথে বুথে যখন ঘুরব, তখন সেখানকার বাসিন্দারা একেবারে পাড়া স্তরের সমস্যা বা চাহিদার কথাও ফর্ম পূরণ করে জানাতে পারবেন।’’

বিজেপি ইতিমধ্যেই প্রত্যেক এলাকার স্থানীয় সমস্যা এবং স্থানীয় অভাব-অভিযোগের কথা তুলে ধরে বিধানসভা আসনভিত্তিক ‘চার্জশিট’ প্রকাশ করেছে। প্রয়োজন হলে একই এলাকাভিত্তিক ‘সঙ্কল্পপত্র’ প্রকাশ করা হতে পারে বলেও বিজেপি সূত্রের খবর। ফেব্রুয়ারির ২৫ তারিখ পর্যন্ত বুথে বুথে ঘুরে এ ভাবে জনসংযোগ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে বিধায়কদের। দিনে পাঁচটি করে বুথে ঘুরলে সেই সময়সীমার মধ্যে গোটা বিধানসভা কেন্দ্রের প্রত্যেক বুথ ছুঁয়ে ফেলা হয়ে উঠবে না। তাই অনেক বিধায়ক এক দিনে পাঁচের বেশি বুথেও যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে সেই সব বুথকে, যেখানে সংগঠন অপেক্ষাকৃত ‘দুর্বল’।

Advertisement
আরও পড়ুন