Toto and E-Rickshaws

টোটো এবং ই-রিকশা নিয়ন্ত্রণে নীতিমালা তৈরির দাবি, পরিবহণসচিবকে চিঠি বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষের, আশ্বাস মন্ত্রীর

রাজ্যের পরিবহণসচিব সৌমিত্র মোহনকে চিঠি দিয়ে দ্রুত একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ করেছেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। উত্তরবঙ্গ-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহর ও মফস্‌সলে টোটো ও ই-রিকশার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ১১:৪৯
টোটো নিয়ে চিঠিতে আর কী দাবি তুললেন বিধায়ক শঙ্কর?

টোটো নিয়ে চিঠিতে আর কী দাবি তুললেন বিধায়ক শঙ্কর? —ফাইল চিত্র।

রাজ্যে টোটো ও ই-রিকশার মালিকানা এবং পরিচালনা নিয়ে স্পষ্ট নিয়ম তৈরির দাবি জানালেন বিজেপি বিধায়ক শঙ্কর ঘোষ। এ বিষয়ে তিনি রাজ্যের পরিবহণসচিব সৌমিত্র মোহনকে চিঠি দিয়ে দ্রুত একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের অনুরোধ করেছেন। উত্তরবঙ্গ-সহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন শহর ও মফস্‌সলে টোটো ও ই-রিকশার সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

Advertisement

চিঠিতে শঙ্কর লিখেছেন, সাধারণ মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থায় টোটো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে এবং বহু মানুষের জীবিকার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে। তবে এই যানবাহনের মালিকানা ও পরিচালনা নিয়ে স্পষ্ট কোনও নিয়ম না থাকায় বিভিন্ন বাস্তব সমস্যাও তৈরি হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যাচ্ছে, একজন ব্যক্তি একাধিক টোটো বা ই-রিকশার মালিক হচ্ছেন এবং সেগুলি অন্য চালকদের দিয়ে চালানো হচ্ছে।

তাঁর আরও দাবি, এই পরিস্থিতির ফলে শহর ও শহরতলিতে যানজট বাড়ছে, অনিয়ন্ত্রিত ভাবে টোটোর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রকৃত চালকদের জীবিকা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে। পাশাপাশি কিছু এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা সংক্রান্ত সমস্যাও তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি চিঠিতে উল্লেখ করেছেন।

এই পরিস্থিতিতে পরিবহণ দফতরকে দ্রুত হস্তক্ষেপ করার আবেদন জানিয়ে বিজেপি বিধায়ক প্রস্তাব দিয়েছেন যে, একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কতগুলি টোটো বা ই-রিকশার মালিক হতে পারবেন, সেই বিষয়ে একটি নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হোক। একই সঙ্গে তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, নিবন্ধিত মালিকই যেন অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিজে গাড়ি চালান— এমন বিধানও বিবেচনা করা যেতে পারে। এতে প্রকৃত চালকদের জীবিকা সুরক্ষিত থাকবে বলে তাঁর মত। এ ছাড়াও টোটো মালিকদের সংগঠন, স্থানীয় প্রশাসন, পরিবহণ দফতরের আধিকারিক এবং জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা করে এই সংক্রান্ত নিয়ম তৈরি করার প্রস্তাবও দিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এমন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে যেমন টোটোচালকদের ন্যায্য জীবিকার সুযোগ নিশ্চিত হবে, তেমনই শহরের যানবাহন চলাচলও আরও নিয়ন্ত্রিত ও সুশৃঙ্খল হবে।

পরিবহণ দফতর বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করবে বলেই তিনি আশা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সুবিধা এবং প্রকৃত টোটোচালকদের স্বার্থ রক্ষার জন্য দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার আবেদনও জানিয়েছেন শঙ্কর। জবাবে পরিবহণ প্রতিমন্ত্রী দিলীপ মণ্ডল বলেন, ‘‘টোটো এবং ই-রিকশার জন্য আমাদের সুস্পষ্ট নীতি তৈরি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কে কত সংখ্যায় ওই ধরনের গাড়ি কিনছেন, তার উপরেও পরিবহণ দফতরের নজর রয়েছে। যদি কোনও ক্ষেত্রে নতুন কোনও নিয়ম নীতি প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়, তবে তা অবশ্যই বিবেচনা করা হবে।’’

Advertisement
আরও পড়ুন