মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
‘পদ্মপত্রে জল’ পরিচিত প্রবচন। কিন্তু বিজেপি ‘জল’-এর বদলে চাইছে স্বাক্ষর!
এখন ফোন, ভিডিয়ো কল, ইমেল, হোয়াটসঅ্যাপ, সমাজমাধ্যমের যুগ। সে ভাবে কেউ আর চিঠি লেখেন না। কিন্তু ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির যুবমোর্চা চিঠির জমানা ফেরাতে চায়। একটানা মাস দেড়েক ধরে চিঠি লেখার এবং লেখানোর পরিকল্পনা করেছে যুবমোর্চা।
‘পোস্টকার্ড’ প্রস্তুত। বয়ানও তৈরি। চাই শুধু প্রেরক। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চিঠি পাঠাতে চান, এমন সব প্রেরক। রাজ্য জুড়ে এক হাজার শিবির খোলার তোড়জোড় শুরু হয়েছে। ফেব্রুয়ারি কাটলে চিঠির গোছা নবান্নে পাঠানো হবে বলে যুবমোর্চার ঘোষণা। কিন্তু নবান্নে চিঠি পৌঁছবে কী উপায়ে, সে বিষয়ে এখন মুখ খুলতে নারাজ সংগঠনের নেতৃত্ব।
পোস্টকার্ডের আকারে তৈরি ‘বরখাস্ত পত্রে’ বয়ান ছাপিয়ে নেওয়া হয়েছে ইতিমধ্যেই। নীচে খালি রাখা হয়েছে প্রেরকের নাম লেখার এবং স্বাক্ষর করার জায়গা। যাঁরা মুখ্যমন্ত্রীকে এই চিঠি পাঠাতে চাইবেন, ‘পোস্টকার্ড’-এর নির্দিষ্ট অংশে তিনি নিজের পুরো নামটি লিখে সই করে দিলেই হবে। বাকি দায়িত্ব বিজেপির যুব সংগঠনের। যুবমোর্চার ছাপানো এই ‘পোস্টকার্ড’-এ যে বয়ান লেখা হয়েছে, তাতে মুখ্যমন্ত্রীর নাম লেখা হয়নি। শুধু ‘মাননীয়া’ বলে সম্বোধন করা হয়েছে। তার পরে অভিযোগ করা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গের যুবসমাজ চাকরি, নতুন শিল্প, বিনিয়োগ ইত্যাদি চাইলেও গত ১৫ বছর ধরে এ রাজ্যের সরকার সে সব আনতে পারেনি। দু’টি স্তবকের চিঠিতে শেষ দুই বাক্যে লেখা হয়েছে, ‘সরকারে থেকে ছাত্র-যুবদের ভবিষ্যৎ ধ্বংস করার কোনও অধিকার আপনার নেই। অবিলম্বে পদত্যাগ করুন।’
গত ২২ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিক ভাবে এই কর্মসূচির সূচনা করা হয়েছে। যুবমোর্চা সূত্রের দাবি, রাজ্যে বিভিন্ন জনবহুল এলাকা বেছে মোট এক হাজার শিবির খুলছে সংগঠন। শিবিরগুলিতে এই ছাপানো ‘পোস্টকার্ড’ রাখা থাকবে। পথচলতি মানুষজনকে এই চিঠিতে স্বাক্ষর করার আহ্বান জানানো হবে। স্বাক্ষরিত পোস্টকার্ডগুলি একটি ড্রপ বক্সে ভরে নেওয়া হবে। গোটা কর্মসূচিকে একেবারে নীরবে অবশ্য সেরে ফেলা হবে না। দলের প্রতিটি সাংগঠনিক বিভাগে চিঠির বাক্স হাতে নিয়ে যুবমোর্চার মিছিল করার পরিকল্পনাও রয়েছে। পরে সারা রাজ্য থেকে সব ড্রপ বক্স সংগ্রহ করে একসঙ্গে চিঠিগুলি নবান্নে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হবে।
কী ভাবে নবান্নে পৌঁছোবে বিজেপি যুবমোর্চার পত্রাবলি? সশরীরে নবান্নে গিয়ে চিঠি পৌঁছে দেওয়ার অনুমতি বা সুযোগ যে যুবমোর্চা পাবে না, সে কথা বলাই বাহুল্য। তা হলে কোন পথে? সংগঠনের রাজ্য সভাপতি ইন্দ্রনীল খাঁ সেই পরিকল্পনা ভেঙে বলতে রাজি নন। তাঁর কথায়, ‘‘কী ভাবে নবান্নে পৌঁছে দেওয়া হবে, সে কথা এখনই বলব না। সব ড্রপ বক্স কলকাতায় এনে মিছিল করে নবান্নের দিকে যেতে পারি। যেখানে আটকানো হবে, সেখানেই পরবর্তী পদক্ষেপ ভাবা হবে, এমনও হতে পারে। কিন্তু এর চেয়ে বেশি বলব না।’’ যুবমোর্চা সূত্র বলছে, বিভিন্ন পোস্ট অফিস থেকে চিঠির বাক্সগুলিকে নবান্নের ঠিকানায় পোস্ট করে দেওয়া হতে পারে। সে ক্ষেত্রে বিজেপির পত্রাবলির নবান্ন প্রবেশ রোখা কঠিন হবে।
দেশে যখন ডিজিটাল যোগাযোগে বিপ্লব এসে গিয়েছে, তখন ‘পোস্টকার্ড’ পাঠানোর কথা কেন মাথায় এল বিজেপির? ইন্দ্রনীল বলছেন, ‘‘তৃণমূলের লোকজন শিক্ষাদীক্ষার ধার ধারেন না। এই জমানায় শিক্ষা সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত। তার বিরুদ্ধে আমাদের রাজ্যের শিক্ষিত যুবসমাজ যে প্রতিবাদ করছে, ওই পোস্টকার্ড বা ওই চিঠি তার অকাট্য প্রমাণ বহন করবে। কারণ, সেখানে একটা লিখিত বয়ান পড়ে একজন স্বেচ্ছায় স্বাক্ষর করছেন। অর্থাৎ প্রত্যেকটা চিঠি তৃণমূলের অপশাসনের সাক্ষ্য বহন করবে।’’