Calcutta High Court

স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুন! প্রমাণের অভাবে ২৫ বছর পরে যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত স্বামী বেকসুর খালাস হাই কোর্টে

মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত নেমে অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পরে দীর্ঘ দিন মামলা চলার পর ২০১০ সালে কাঁথির ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজ শোনায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১১ জানুয়ারি ২০২৬ ১৫:৪৮
Calcutta High Court acquits convicted convict after 25 years

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

স্ত্রীকে খুন করার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছিলেন। অনেকগুলি বছর জেলও খাটেন। দীর্ঘ দিন ধরে কলকাতা হাই কোর্টে মামলা চলার পর সেই অভিযুক্তের যাবজ্জীবন সাজা মকুব হল। জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছেন তিনি।

Advertisement

ঘটনাটি ২০০১ সালের। পূর্ব মেদিনীপুরের পটাশপুর থানা এলাকার বাসিন্দা প্রণবকুমার শাসমলের বিরুদ্ধে স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে খুনের অভিযোগ উঠেছিল। ২০০১ সালের ৩০ জুলাই মৃতার বাবা মনোরঞ্জন ঘড়াই জানতে পারেন, শ্বশুরবাড়িতে তাঁর মেয়েকে মারধর করা হচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের শ্বশুরবাড়ি যান তিনি। অভিযোগ সেখানে নাকি তাঁকে মারধর করা হয়। মেয়েকে নিয়ে থানায় যেতে চাইলে প্রণবের এক বন্ধু বাধা দেন। পরের দিন মনোরঞ্জন জানতে পারেন তাঁর মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ ওঠে, শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছে।

মৃতার বাবার অভিযোগের ভিত্তিতে এফআইআর দায়ের করে তদন্ত নেমে প্রণবকে গ্রেফতার করে পুলিশ। তার পরে দীর্ঘ দিন মামলা চলার পর ২০১০ সালে কাঁথির ট্রায়াল কোর্ট অভিযুক্তকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা শোনায়। প্রণবকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন নিম্ন আদালতের বিচারক। সঙ্গে ১০ হাজার টাকা জরিমানাও করেন। নির্দেশ দেন, জরিমানা অনাদায়ে আরও দু’বছর কারাবাস করতে হবে প্রণবকে। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন প্রণব। তাঁর হয়ে আদালতে মামলা করেন আইনজীবী অমাজিৎ দে।

হাই কোর্টে মামলা চলাকালীন সাক্ষীদের বয়ানে অসঙ্গতি ধরা পড়ে। মৃতার বাবা আদালতে মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করেন। মৃতার মা, বোন, কাকা কেউই খুনের কথা নিশ্চিত করেননি। পরিবারের কেউই অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জোরালো সাক্ষ্য দেননি। প্রতিবেশীরা সাক্ষী দেন। তবে তাঁরা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নন। কেউই পরিষ্কার ভাবে অভিযুক্তকে ‘দোষী’ বলেননি। মৃত্যুর ময়নাতদন্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে। জানা যায়, মৃত্যুর ৩০ ঘণ্টা পরে ময়নাতদন্ত হয়। যে চিকিৎসক ময়নাতদন্ত করেন, তিনি জানান, দেহ পচে গিয়েছিল। মৃত্যুর সঠিক কারণ বলা সম্ভব নয়। খুন না কি স্বাভাবিক মৃত্যু— তা নিশ্চিত করা যায়নি।

বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি অজয় গুপ্তের বেঞ্চ প্রশ্ন তোলে, মাত্র ৩০ ঘণ্টায় শরীর এতটা পচে গেল কী ভাবে? যদিও তার সদুত্তর মেলেনি। সওয়াল-জবাব শেষে হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, কাউকে দোষী ঘোষণা করার আগে ঘটনাক্রম থাকা দরকার। কিন্তু এই মামলায়, কেন খুন করা হয়েছে তার কারণ স্পষ্ট নয়। খুন প্রমাণ হয়নি। প্রণবকে বেকসুর খালাস করে দেয় আদালত।

Advertisement
আরও পড়ুন