RG Kar Rape and Murder Case

‘সিবিআইয়ের হাত থেকে কি মামলা নিয়ে নিতে হবে’? আরজি কর তদন্তে অসন্তুষ্ট হাই কোর্ট, পরিবার চায়, ভার পাক সিআইডি

হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের প্রশ্ন, এত দিনের তদন্তে কী তথ্য, নথি সংগ্রহ করেছে সিবিআই? বলা হয়েছে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ কাজ করেছে। কিন্তু তাদের তদন্ত রিপোর্টে তার বাইরে কেন কিছু বলা হল না?

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৭:১২

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

আরজি কর মামলায় সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্টের বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চ। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, গত ২১ মে সিট গঠন করে তদন্তের যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা অনুযায়ী তদন্ত হয়নি। বিচারপতির প্রশ্ন, তবে কি সিবিআইয়ের হাত থেকে তদন্তভার নিয়ে নেওয়া হবে? আরজি করের নির্যাতিতার পরিবার জানিয়েছে, সিবিআই না পারলে সিআইডি-কে তদন্তভার দেওয়া হোক। সিবিআইয়ের বক্তব্য, আদালতের নির্দেশ বুঝতে হয়তো ভুল হয়েছে। তদন্ত চলছে। তার পরেই হাই কোর্ট আবার আগের নির্দেশ ব্যাখ্যা করে।

Advertisement

গত ২১ মে আরজি কর-কাণ্ডে সিট গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। তাদের পর্যবেক্ষণ, তার পরে গত এক মাস ধরে তদন্তের সে ভাবে অগ্রগতি হয়নি। তা নিয়ে অসন্তোষও প্রকাশ করেছে ডিভিশন বেঞ্চ। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, ‘‘২০২৪ সালের অক্টোবরে আরজি কর মামলায় চার্জশিট দেওয়া হয়েছিল। তার পর থেকে তদন্তে কোনও অগ্রগতি হয়নি। গত ১ বছর আট মাস ধরে তদন্ত একই জায়গায় রয়েছে। কী করছে সিবিআই? আমাদের নির্দেশে সব বলা হয়েছিল। কিন্তু তার পরেও সঠিক ভাবে তদন্ত করা হয়নি। আদালতের সময় নষ্ট করা হয়েছে। এক মাস আগে নির্দেশ দিয়েছিলাম। এই সময়ের মধ্যে আশাতীত কোনও তদন্তই করেনি সিবিআই।’’ বিচারপতিদের আরও পর্যবেক্ষণ, ‘‘সিবিআই কি হাই কোর্টেরও উপরে? আমাদের কি সিবিআইয়ের থেকে মামলা নিয়ে নিতে হবে?’’ বিচারপতি শম্পা সরকার বলেন, ‘‘সেমিনার রুম সম্পূর্ণ নষ্ট। তথ্যপ্রমাণ নষ্টের কোনও তদন্ত হয়নি। একই ব্যাক্তিকে ফের পরীক্ষা করেছে। অগ্রগতি কোথায়? দায়িত্বজ্ঞানহীন সিবিআই অফিসারের কাজ।’’ ডিভিশন বেঞ্চ বলেছে, ‘‘আদালতের নির্দেশ কী, সেটাই বুঝতে পারছে না সিবিআই।’’

সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে হাই কোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ আরও বলে, ‘‘এত দিনের তদন্তে কী তথ্য, নথি সংগ্রহ করেছে সিবিআই? ওই ঘটনায় শুধুমাত্র বলা হয়েছে ‘বৃহত্তর ষড়যন্ত্র’ কাজ করেছে। কিন্তু তদন্ত রিপোর্টে তার বাইরে কিছু বলা হল না? কারা সিবিআইয়ের হাত বেঁধে রেখেছে? সিবিআইয়ের এত কিসের ইগো? আমরা বিচার দিতে চেয়েছিলাম।’’

এর পরেই সিবিআইয়ের আইনজীবী আদালতে জানান, হাই কোর্টের নির্দেশ হয়তো বুঝতে ভুল হয়েছে। তদন্ত চলছে। প্রতিটি বিষয় খতিয়ে দেখা হবে। আরজি করের চিকিৎসক-ছাত্রীর পরিবার জানিয়েছে, সিবিআই যদি সঠিক ভাবে তদন্ত করতে না পারে, তা হলে ওই মামলা সিআইডিকে দেওয়া হোক। প্রসঙ্গত, এর আগেও সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে বার বার অসন্তোষ প্রকাশ করেছে নির্যাতিতার পরিবার। আগের শুনানিতে আদালতে প্রশ্নের মুখে পড়েছিল সিবিআই। আদালত প্রশ্ন তোলে, তদন্ত শেষ না-হওয়া সত্ত্বেও ঘটনাস্থলে কী ভাবে লোকজন ঢুকে পড়ছে? সেমিনার রুম-সহ আরজি করের যে যে জায়গা ‘সিল’ করা প্রয়োজন, সে বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ করতেও নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। বৃহস্পতিবার আবার সিবিআইয়ের তদন্ত নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করল হাই কোর্ট। গত ২১ জুন যে নির্দেশ দিয়েছিল আদালত, তা আবার সিবিআই-কে ব্যাখ্যা করে দিল। আগামী ৬ অগস্ট এই মামলার পরবর্তী শুনানি।

আরজি কর মামলায় পরিবারের দাবিগুলি খতিয়ে দেখতে গত ২১ জুন পুনরায় তদন্ত করার নির্দেশ দিয়েছিল হাই কোর্ট। তিন সদস্যের বিশেষ তদন্তকারী দল গঠন করে তদন্ত করতে বলেছিল। হাই কোর্ট জানিয়েছিল, সিবিআইয়ের জয়েন্ট ডিরেক্টরের নেতৃত্বে ওই দল কাজ করবে। আদালত আরও জানিয়েছে, সিবিআইকে পুনরায় ঘটনাস্থলে যেতে হবে। পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে হবে। সব তথ্য এবং নথি খতিয়ে দেখতে হবে। গত শুনানিতে হাই কোর্ট আরও নির্দেশ দিয়েছিল, শুধু প্রমাণ নষ্ট হয়েছে কি না তা নয়, ঘটনার দিন রাতে চিকিৎসক বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে রাতের খাবার খাওয়া থেকে শুরু করে শেষকৃত্য (দাহ) পর্যন্ত পুরো ঘটনাক্রম নতুন করে খতিয়ে দেখবে সিবিআই। প্রয়োজন হলে আবেদনকারী-সহ অন্যদেরও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারবে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। বৃহস্পতিবার আবার সেই নির্দেশ স্মরণ করিয়ে দিল।

প্রায় দু’বছর আগে, ২০২৪ সালের অগস্টে আরজি কর হাসপাতালে ধর্ষণ ও খুন করা হয় এক চিকিৎসক-ছাত্রীকে। ওই ঘটনায় আসামি সঞ্জয় রায়কে ইতিমধ্যে আমৃত্যু কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত। তবে আরজি করের ওই ঘটনার তদন্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলে ফের আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে নির্যাতিতার পরিবার। এই মামলার শুনানি থেকে সরে দাঁড়িয়েছে কলকাতা হাই কোর্টের তিনটি বেঞ্চ। গত ১২ মে ‘এই গুরুত্বপূর্ণ মামলার দ্রুত শুনানি প্রয়োজন’, এই পর্যবেক্ষণ রেখে মামলা ছেড়ে দিয়েছিল বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা এবং বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের ডিভিশন বেঞ্চ। তার পরে প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের বেঞ্চ জানিয়েছিল, নির্যাতিতার পরিবারের আরজি কর ঘটনাস্থল পরিদর্শন-সহ সমস্ত আবেদনের শুনানি হবে নতুন ডিভিশন বেঞ্চে। সেইমতো এখন মামলাটি রয়েছে বিচারপতি শম্পা সরকার এবং বিচারপতি তীর্থঙ্কর ঘোষের ডিভিশন বেঞ্চে।

Advertisement
আরও পড়ুন