WhatsApp reunites family missing person

‘এ তো বাবা’! দু’দশক পর পিতা-পুত্রের মিলন, ঘরছাড়া ব্যক্তিকে খুঁজে দিল একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ মেসেজ, কী ভাবে?

ঝাড়খণ্ডের চতরা জেলার রমেশ গঞ্জু নামে এক ব্যক্তি দীর্ঘ ১৬ বছর আগে বাড়ি ছাড়েন। কারণ, পারিবারিক বিবাদ। একটি হোয়াট্‌সঅ্যাপ মেসেজের মাধ্যমে অবশেষে তাঁর খোঁজ পেল রমেশের পরিবার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ জুন ২০২৬ ১৭:৪০

ছবি: এআই সহায়তায় তৈরি।

সামান্য পারিবারিক বিবাদের জেরে দীর্ঘ ১৬ বছর আগে বাড়ি ছাড়েন। তার পর পরিবার বহু চেষ্টা করেও তাঁর খোঁজ পায়নি। অবশেষে রমেশ গঞ্জু নামে ওই ব্যক্তির পরিবার তাঁকে খুঁজে পায় হোয়াট্‌সঅ্যাপ মেসেজের সূত্র ধরে। মর্মস্পর্শী এই ঘটনাটি সম্প্রতি সমাজমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তা দেখে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েছেন নেটাগরিকেরাও।

Advertisement

সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, ঝাড়খণ্ডের চতরা জেলার বাসিন্দা ছিলেন পেশায় দিনমজুর রমেশ। বাড়ি ছাড়ার পর তিনি মানসিক বিকার এবং মাদকের কবলে পড়েন বলে জানা গিয়েছে। একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা তাঁকে গত ১৬ জুন চেন্নাইয়ের পুনমল্লী থেকে উদ্ধার করে এবং একটি পুনর্বাসনকেন্দ্রে ভর্তি করায়। ওই সংস্থার এক কর্মী শ্রীনিবাস রাও জানান, সেখানেই রমেশের চিকিৎসা চলছিল। তবে, কী ভাবে তিনি ঝাড়খণ্ড থেকে চেন্নাই পৌঁছেছিলেন, সে সম্পর্কে স্পষ্ট ভাবে কিছুই জানা যায়নি।

চিকিৎসায় রমেশের মানসিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাঁর অস্পষ্ট স্মৃতিগুলি ফিরে আসে। তিনি জানান যে তিনি ঝাড়খণ্ডের বাসিন্দা। স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাটির কর্মীরা হোয়াট্‌সঅ্যাপের মাধ্যমে তাঁর ছবি এবং তথ্য ছড়িয়ে দিতে শুরু করেন। ঝাড়খণ্ডের এক মুদি দোকানদার সেটি দেখে রমেশকে চিনতে পারেন। এর পর সেই দোকানদারই রমেশের স্ত্রী মুন্না দেবীকে খবর দেন।

এর পর একটি অদ্ভুত বিষয় জানা যায়। রমেশের দুই পুত্রসন্তান। তিনি যখন বাড়ি ছাড়েন, সেই সময় তাঁর বড় ছেলে নাগেশ্বরের বয়স ছিল মাত্র ৫ বছর। সেই ছেলেই এখন কাজের সূত্রে চেন্নাইয়ে থাকেন। শুধু তা-ই নয়, যে পুনর্বাসনকেন্দ্রে রমেশের চিকিৎসা চলছিল, সেখান থেকে নাগেশ্বরের বাড়ি ছিল মাত্র কয়েক কিলোমিটার দূরে। খবর পাওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ১৮ জুন বাবা ও ছেলের চেন্নাইয়ে দেখা হয়। গত ২১ জুন রমেশ তাঁর গ্রামে ফিরে আসেন। নাগেশ্বর জানান, বাবার স্মৃতি তাঁর কাছে খুব আবছা, কিন্তু তাঁকে হারানোর যন্ত্রণা তিনি এত কাল ধরে বয়ে বেড়িয়েছেন। বাবার ফিরে আসা তাঁর জীবনের সেরা খুশির মুহূর্ত।

Advertisement
আরও পড়ুন