—প্রতীকী চিত্র।
নিয়োগ সংক্রান্ত নিয়মের তোয়াক্কা না করে শুধু ক্ষমতার বলেই এক মহিলাকে স্কুলশিক্ষা দফতরে চাকরি দেওয়ার জন্য বাম আমলের তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীর পদক্ষেপকে ‘অনৈতিক’ বলল কলকাতা হাই কোর্ট। পালাবদলের পরে ওই মহিলার চাকরি বাতিল করা হয়েছিল। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে তিনি হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন। সেই মামলা খারিজ করে বিচারপতি রাই চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “রাজ্য চাইলে নিজের ক্ষমতা প্রয়োগ করে বেআইনি ভাবে এই নিয়োগের তদন্ত করে সত্য উদ্ঘাটন করতে পারে এবং আইনানুগ পদক্ষেপ করতে পারে।”
কোর্টের খবর, ২০০৭ সালে সর্বশিক্ষা অভিযান প্রকল্পে হাওড়ার এক মহিলাকে চুক্তিভিত্তিক ভাবে গ্রুপ-সি পদে নিয়োগ করে স্কুলশিক্ষা দফতর। তারপর ২০১০ সাল পর্যন্ত তাঁর চাকরির মেয়াদ বাড়ানো হয়। ২০১০ সালের মার্চের পরে চাকরির মেয়াদ বাড়েনি। এর পরেই স্কুলশিক্ষা দফতরে চিঠি দিয়ে অভিযোগ জানান ওই মহিলা। তার পরেই তৎকালীন স্কুলশিক্ষা-মন্ত্রী তাঁর সচিবালয়ে ওই মহিলাকে বিভাগীয় সহকারী হিসেবে নিযুক্ত করেন। পালাবদলের পরে ২০১২ সালের অগস্টে তাঁকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করেন শিক্ষামন্ত্রীর ওএসডি। সেই নির্দেশের বিরুদ্ধে হাই কোর্টে মামলা করেন ওই মহিলা।
মামলার সওয়াল-জবাব শেষে রায় দিতে গিয়ে ওই মহিলার দাবি ‘আইনসঙ্গত নয়’ বলেই জানান বিচারপতি চট্টোপাধ্যায়। তাঁর পর্যবেক্ষণ, ‘অজ্ঞাত কারণে’ নাটকীয় পটপরিবর্তন হয়েছিল মামলাকারীর। কার্যত ‘দেবদূত’ হয়ে রাজ্যের নিয়োগ সংক্রান্ত কোনও নিয়ম না মেনেই মামলাকারীকে দফতরের সচিবালয়ে চাকরি দেওয়া হয়েছিল। তাঁর বিরুদ্ধে থাকা দফতরের রিপোর্টকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, “অনুমোদিত শূন্যপদ ছাড়াই মন্ত্রীর নিজস্ব অনুমোদনের ভিত্তিতে মামলাকারীকে নিয়োগ করা হয়েছিল এবং সরকারি কোষাগার থেকে অনৈতিক ভাবে বেতন দেওয়া হয়েছিল। বেআইনি ভাবে মন্ত্রিত্বের ক্ষমতার বলে চাকরি দেওয়া হয়েছিল।”