Dowry Death

‘দেশের মহিলারা বিশ্বকাপ জিতে গেলেও বৈষম্য মেটেনি’! সকন্যা বধূর মৃত্যুতে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মুক্তির আবেদন খারিজ হাই কোর্টে

নিম্ন আদালত প্রমাণের অভাবে বধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে মুক্তি দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১০:২৫

— প্রতীকী চিত্র।

পণ চেয়ে নিত্যদিন বধূর উপর চলত নিগ্রহ। কন্যাসন্তানের জন্ম দেওয়ায় সেই অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়ে যায়। তার জেরেই মৃত্যু হয় মহিলা এবং তাঁর দেড় বছরের শিশুর। এ বার সেই ঘটনায় স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে মুক্তি দিল না কলকাতা হাই কোর্ট। খারিজ করল নিম্ন আদালতের রায়। হাই কোর্টের পর্যবেক্ষণ, দেশের মেয়েরা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতে গেলেও কন্যাসন্তানের ক্ষেত্রে বৈষম্য রয়েই গিয়েছে।

Advertisement

নিম্ন আদালত প্রমাণের অভাবে বধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে মুক্তি দিয়েছিল। সেই রায়ের বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল রাজ্য সরকার। তাদের আর্জি মেনে নিয়ে বধূর শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে মুক্তি দিল না হাই কোর্টে। বিচারপতি অপূর্ব সিংহ রায়ের পর্যবেক্ষণ, ‘‘আমরা খুব খুশি যে, সম্প্রতি আমাদের দেশের মহিলারা ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছেন। আরও অনেক ক্ষেত্রে সফল হয়েছেন মহিলারা। দেড় বছরের একটি শিশুর চলে যাওয়া আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, আমাদের কন্যাসন্তানদের জন্য সাম্যের অধিকার অর্জন করতে এখনও অনেক পথ বাকি রয়েছে।’’

২০১৮ সালে অভিযুক্ত যুবকের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল তরুণীর। ওই বছরের মে মাস থেকে তাঁরা আন্দামানে একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন। তাঁদের এক কন্যাসন্তান হয়। ২০২১ সালে স্বামীর সঙ্গে এক দিন বিবাদের পরে শিশুকে খুন করে আত্মঘাতী হন তরুণী। এই ঘটনায় তরুণীর বাবা তাঁর স্বামী এবং শ্বশুরবাড়ির পরিবারের বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন। নিম্ন আদালত জানায়, মহিলার স্বামীর বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা গেলেও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করার মতো যথেষ্ট প্রমাণ নেই। কারণ নিহত বধূ স্বামীর সঙ্গে আন্দামানে আলাদা থাকতেন। ২০২৪ সালে শ্বশুরবাড়ির লোকজনকে খালাস করে দেয় নিম্ন আদালত। তার বিরুদ্ধে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয় রাজ্য সরকার।

আদালতে মৃত বধূর পরিবারের দাবি, স্বামী এবং তাঁর পরিবার বিয়ের পরেই মৃতার বাবাকে জানিয়েছিলেন, কন্যাসন্তান জন্মালে তাঁকে অতিরিক্ত পাঁচ লক্ষ টাকা দিতে হবে। অভিযোগ, তরুণী যখন অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন, তখন ভ্রূণের লিঙ্গ নির্ধারণের চেষ্টা করেছিল শ্বশুরবাড়ির পরিবার। অভিযুক্তদের আইনজীবীর সওয়াল, তরুণীর মৃত্যুর সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল তা শ্বশুরবাড়ির লোকজন। তা ছাড়া শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে মনোমালিন্য ছিল তরুণীর। আদালত তা মানেনি। জানিয়েছে, চার সপ্তাহের মধ্যে নিম্ন আদালতে গিয়ে আত্মসমর্পণ করতে হবে বধূর শ্বশুরবাড়ির লোককে।

Advertisement
আরও পড়ুন