এসআইআর নিয়ে শনিবার বৈঠকে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
নির্বাচন কমিশন এবং রাজ্য সরকারের আধিকারিকদের সঙ্গে শনিবারই কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতিকে বৈঠক করতে বলেছে সুপ্রিম কোর্ট। সেই নির্দেশ মতো দুপুরে বৈঠক হচ্ছে। সূত্রের খবর, বৈঠকে থাকবেন রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক (সিইও) মনোজ কুমার আগরওয়াল। এ ছাড়াও মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তী, রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডের ওই বৈঠকে থাকার কথা। থাকবেন নির্বাচন কমিশনের এক সিনিয়র আধিকারিক, অ্যাডভোকেট জেনারেল এবং অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল। এসআইআর প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রাজ্যে যে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তার সমাধানসূত্র খোঁজা হবে শনিবারের বৈঠকে।
শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গের এসআইআর মামলার শুনানি ছিল সুপ্রিম কোর্টে। বেনজির নির্দেশ দিয়েছে প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি এনভি অঞ্জরিয়ার বেঞ্চ। এসআইআরের কাজে রাজ্য এবং কমিশনের সংঘাতে অসন্তোষ প্রকাশ করে বিচারবিভাগের উপর দায়িত্ব দিয়েছে তারা। বলা হয়েছে, এসআইআরের তথ্যগত অসঙ্গতির বিচার করতে কলকাতা হাই কোর্টের প্রধান বিচারপতি জেলায় জেলায় কয়েক জন আধিকারিক নিয়োগ করবেন। আদালতের বর্তমান বিচারক বা অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতিদের এই কাজে নিয়োগ করা হবে। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাঁরা তথ্যগত অসঙ্গতির ঘটনাগুলি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন। তাঁদের সিদ্ধান্তই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ হিসাবে গণ্য হবে এবং রাজ্যকে তা পালন করতে হবে। কমিশন এবং রাজ্যকে মিলেমিশে কাজ করার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
বিচারবিভাগীয় আধিকারিকেরা কী ভাবে কাজ করবেন, কোথা থেকে প্রক্রিয়া শুরু হবে, শনিবারের বৈঠকে মূলত তা নিয়েই আলোচনা হওয়ার কথা। আদালত এর আগে কখনও এমন নির্দেশ দেয়নি। তবে পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতিকে ‘ব্যতিক্রমী’ বলেছেন প্রধান বিচারপতি। সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৪২-এর ক্ষমতা ব্যবহার করে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এই অনুচ্ছেদ সুপ্রিম কোর্টকে বিশেষ পরিস্থিতিতে সম্পূর্ণ ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষমতা দেয়। আদালত জানিয়েছে, ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে এসআইআরের কাজ যতটা সম্পন্ন হবে, তার ভিত্তিতেই ভোটার তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন। তবে এই তালিকাকে চূড়ান্ত বলে ধরা যাবে না। পরে অতিরিক্ত আরও তালিকা প্রকাশ করা হবে। এসআইআরের কাজের প্রভাব আদালতের স্বাভাবিক কাজের উপরেও পড়তে পারে আশঙ্কা করে প্রধান বিচারপতি জানিয়েছেন, প্রয়োজনে হাই কোর্ট কোনও কোনও মামলা অন্য আদালতে স্থানান্তরিত করতে পারবে।