মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। —ফাইল চিত্র।
রেল থেকে শিক্ষা— কোনও ক্ষেত্রেই কেন্দ্রীয় প্রকল্প রূপায়ণে সাহায্য করছে না পশ্চিমবঙ্গ সরকার। আজ সংসদের উভয় কক্ষে এই অভিযোগে সরব হয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রীরা।
পশ্চিমবঙ্গে রেল প্রকল্পের কাজ থমকে থাকার পিছনে জমি জট এবং তা ছাড়াতে রাজ্য সরকারের অসহযোগিতার দিকেই আজ ফের এক বার আঙুল তুললেন রেলমন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। অন্য দিকে কেন্দ্রীয় শিক্ষা মন্ত্রকের ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্পে সারা ভারতে যেখানে ৮,৪৪,৯২৫টি স্কুল লাভবান হয়েছে, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে মাত্র ৫৫টি স্কুল ওই প্রকল্পের আওতায় এসেছে বলে জানালেন কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত চৌধরি। এ ক্ষেত্রে রাজ্য সরকারের গা-ছাড়া মনোভাব ও অসহযোগিতাকেই দায়ী করেছে কেন্দ্র।
লোকসভায় প্রশ্নোত্তরে আজ তৃণমূল সাংসদ কীর্তি আজাদ বলেন, ২০২৩ সালে অমৃত ভারত স্টেশন প্রকল্পে পশ্চিমবঙ্গের ১০১টি স্টেশন পুনর্নির্মাণ হওয়ার কথা ছিল। যার মধ্যে তিন বছরে কেবল তিনটি স্টেশনে কাজ হয়েছে। তিনি পশ্চিমবঙ্গের প্রতি রেলের বিদ্বেষ ও পক্ষপাতমূলক মনোভাবের কারণ কী তা জানতে চান। জবাবে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘‘সাংসদের কাছে অনুরোধ করছি, তিনি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীর কাছে গিয়ে ওই রাজ্যে রেলের কাজে গতি আনার জন্য যেন তদ্বির করেন। কারণ, পশ্চিমবঙ্গে রেলের প্রকল্পের জন্য ৪,৬৬২ হেক্টর জমি প্রয়োজন। যার মধ্যে কেবল ২৭ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ হয়েছে।’’ এর পরে বিভিন্ন প্রকল্পের উদাহরণ তুলে ধরে অশ্বিনী বলেন, ‘‘নবদ্বীপ ঘাট থেকে নবদ্বীপ ধাম নতুন লাইন, কালিয়াগঞ্জ থেকে বুনিয়াদপুর নতুন লাইন প্রকল্পে এক ছটাকও জমি অধিগ্রহণ হয়নি।’’ কীর্তিকে রেলমন্ত্রীর পাল্টা প্রশ্ন, ‘‘ওই রাজ্য সরকারের রাজ্যবাসীর প্রতি এত বিদ্বেষ কেন?’’
রাজ্যসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে ‘বিদ্যাঞ্জলি’ প্রকল্পের আওতায় পশ্চিমবঙ্গে ক’টি স্কুল রয়েছে তা জানতে চেয়ে প্রশ্ন করেন বিজেপি সাংসদ শমীক ভট্টাচার্য। জবাবে শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী জয়ন্ত বলেন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের ৮২,১৫৯টি স্কুলের মধ্যে মাত্র ৫৫টি স্কুল ওই প্রকল্পের আওতায় এসেছে। দেশে যেখানে দু’কোটি স্বেচ্ছাসেবক এই প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হয়েছেন, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে সংখ্যাটি হল ২,১৩৪। সংকীর্ণ রাজনীতির কারণে পশ্চিমবঙ্গের পড়ুয়ারা পিছিয়ে পড়ছেন।’’ জয়ন্তের কথা শুনে প্রতিবাদ করেন তৃণমূল সাংসদেরা। জয়ন্তের প্রশ্ন, ‘‘পশ্চিমবঙ্গের পড়়ুয়ারা কেন বঞ্চিত হবেন? কর্পোরেট সংস্থার সামাজিক দায়বদ্ধতা খাতে কম্পিউটার, গ্রন্থাগার, খেলার মাঠের সুবিধে কেন পাবে না রাজ্যের ছাত্রছাত্রীরা?’’ পরে শমীক বলেন, ‘‘দেশের মধ্যে একমাত্র রাজ্য হিসেবে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধে পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন? কেন রেল থেকে স্বাস্থ্য কোনও বিষয়েই রাজ্যের কোনও সহযোগিতা মিলবে না। এই প্রতারণা ও প্রতিহিংসার রাজনীতির জবাব এ বার বাংলার মানুষ দেবেন।’’