Chandrima Bhattacharya

‘ওদের হাতে ভবন তুলে দিলে!’ মমতার ভর্ৎসনার পরেই রাজ্য সভাপতির পদে ইস্তফা দিলেন চন্দ্রিমা, যাবেন না কালীঘাটেও

তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। চিঠি দিয়ে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি জানিয়েছেন, গত ৩ জুন যে পদে তাঁকে বসানো হয়েছিল, তা থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৪ জুলাই ২০২৬ ১৩:২৩
Chandrima Bhattacharya resigns as Tmc state president

রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

তৃণমূলের রাজ্য সভাপতির পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য। চিঠি দিয়ে নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তিনি জানিয়েছেন, গত ৩ জুন যে পদে তাঁকে বসানো হয়েছিল, তা থেকে তিনি সরে দাঁড়াচ্ছেন। তৃণমূল এবং তার বিভিন্ন শাখা সংগঠনের বিভিন্ন ব্যাঙ্কে যে অ্যাকাউন্ট রয়েছে, তার সিগনেটরির দায়িত্ব থেকেও অব্যাহতি চাইলেন চন্দ্রিমা। অর্থাৎ ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের লেনদেনে তিনি আর সই করবেন না। নির্বাচন কমিশনে তৃণমূলের প্রতিনিধিত্ব করার দায়িত্ব ছিল তাঁর। সেই দায়িত্বও ছাড়লেন রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী। ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূলের ‘বিদ্রোহীদের’ যে গোষ্ঠী হয়েছে, সম্প্রতি তাতে যোগ দিয়েছেন চন্দ্রিমার পুত্র সৌরভ বসু। তার পরেই তৈরি হয়েছিল জল্পনা। প্রশ্ন উঠেছিল, পুত্র যেখানে বিরোধী শিবিরে নাম লেখান, সেখানে মা মমতা-পন্থী তৃণমূল শিবিরে আর কত দিন? শনিবারই মমতাকে চিঠি দিয়ে সমস্ত পদ ছাড়লেন চন্দ্রিমা। তার পরে জানান, কারও বিরুদ্ধে কোনও অভিযোগ তাঁর নেই। কিছু বিষয় নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, তাই ইস্তফা দিয়েছেন তিনি। মমতা-পন্থী তৃণমূলে তিনি থাকবেন কি না, তা নিয়ে কিছু স্পষ্ট করতে চাননি রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী।

Advertisement

এই নিয়ে ঋতব্রতকে প্রশ্ন করা হলে তিনি আনন্দবাজার ডট কম-কে বলেন, ‘‘প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানিতে পান থেকে চুন খসলেই রক্তচক্ষুর মুখে পড়তে হত। সেই সংস্কৃতি এখন অতীত। তাই কেউ প্রাইভেট লিমিটেড কোম্পানির সংস্পর্শে থাকতে চান না।’’ মমতা-পন্থী তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায় জানান, চিঠি না দেখে তিনি কিছু বলবেন না। এখনও চিঠি তাঁর হাতে পৌঁছোয়নি।

মমতার মন্ত্রিসভায় নেত্রীর পরে দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ছিলেন চন্দ্রিমা। অর্থ এবং স্বাস্থ্য— রাজ্যের এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দফতরে মমতা মন্ত্রী থাকলেও প্রতিমন্ত্রীর পদে ছিলেন চন্দ্রিমা। নেত্রীর ঘনিষ্ঠদের একাংশ বলে, চন্দ্রিমা ছাড়া সরকারে এত আস্থা আর কাউকে করেননি মমতা। সে কারণে কিছু নেতাদের আপত্তি সত্ত্বেও দলের ভাঙন পর্বে চন্দ্রিমাকেই রাজ্য সভাপতির পদে বেছে নিয়েছিলেন নেত্রী। শনিবার মমতাকে চিঠি লিখে সেই পদ থেকেই সরে দাঁড়ালেন চন্দ্রিমা। তিনি লিখেছেন, ‘‘৩ জুন কালীঘাটের বৈঠকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় রাজ্য সভাপতির যে পদে আমাকে বসানো হয়েছিল, তা থেকে ইস্তফা দিলাম। বর্তমানে আর যে যে পদে আমি রয়েছি, তা থেকেও ইস্তফা দিলাম।’’

মুখ্যমন্ত্রী ফোন করলে কি তিনি ফিরে যাবেন? সংবাদমাধ্যমের প্রশ্নের উত্তরে চন্দ্রিমা বলেন, ‘‘ফেরার কিছু বিষয় নয়। বিশ্বাসযোগ্যতা যখন প্রশ্নচিহ্নের মুখে থাকে, তখন সেই জায়গায় ফেরা যায় না।’’

(সবিস্তার আসছে)

Advertisement
আরও পড়ুন