রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।
অভিনেতা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবার রাতে দিঘায় এক প্রশাসনিক বৈঠকের পর এ কথা জানিয়েছেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, "কিছুদিন আগেই একজন চিত্র তারকার মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে উদয়পুরে। ওড়িশা সরকার সিট গঠন করে তদন্ত শুরু করেছে। আমি পূর্ব মেদিনীপুর জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছি অবিলম্বে ডিজিপির মাধ্যমে স্বরাষ্ট্রসচিবের কাছে পাঠাতে যাতে এই মামলাটি সিআইডি নিয়ে নেয়।" মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, "অভিনেতার পরিবারের তরফ থেকে এখানে মামলা করে গিয়েছেন। যেটা আনন্যাচারাল ডেথ হিসাবে ইউডি মামলা হয়েছে।" ২৯ মার্চ, রবিবার বিকেল সাড়ে ৫টা নাগাদ মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মাত্র ৪২ বছর বয়সে রাহুলের অকালমৃত্যু হয়। এই মৃত্যু নিয়ে তদন্তের দাবিতে সরব হয়েছিল অভিনেতার পরিবার-সহ টালিগঞ্জ ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সর্বস্তর। সেই দাবিকে মান্যতা দিয়েই মুখ্যমন্ত্রী সিআইডিকে দিয়ে এই ঘটনার তদন্ত করাচ্ছেন বলেই প্রশাসন সূত্রে খবর।
পরবর্তীতে ময়নাতদন্তের রিপোর্টে জানানো হয়, দীর্ঘ ক্ষণ জলের নীচে আটকে থাকার কারণে তাঁর ফুসফুস ও খাদ্যনালীতে প্রচুর নোনা জল ও বালি ঢুকে গিয়েছিল, যার ফলে দমবন্ধ হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়। ৩০ মার্চ কলকাতার কেওড়াতলা মহাশ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়। সেই ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে দিঘায় পর্যটকদের সুরক্ষা দিতে বেশি সংখ্যায় নুলিয়া নিয়োগ করা নিয়েও নিজের সরকারের অবস্থান জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে বর্তমানে দিঘা-সহ ওই এলাকার সামুদ্রিক এলাকায় মাত্র ৬৩ জন নুলিয়া রয়েছেন। আগামী দিনে যাতে অভিনেতার রাহুলের মতো কোনও ব্যক্তি জলে ডুবে মারা না যান, সেই জন্য তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার দিঘা-সহ উপকূলবর্তী এলাকায় নুলিয়ার সংখ্যা বাড়ানোর কাজে হাত দেবে। এই বিষয়ে কাঁথির মহকুমাশাসককে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন তিনি। বর্তমানে নুলিয়ারা ৬৩০ টাকা করে পারিশ্রমিক পান, আলাপ আলোচনা ও বিবেচনার ভিত্তিতে সেই অর্থের পরিমাণ বৃদ্ধি করার নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি দিঘা-শঙ্করপুর উন্নয়ন পর্ষদের প্রশাসনিক বৈঠক শেষে মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, এ বার থেকে দিঘায় আসা পর্যটকদের আর বাড়তি ১০ টাকা করে চাঁদা দিতে হবে না। আগামী ১ জুলাই থেকেই এই নিয়ম কার্যকর হতে চলেছে। রবিবার বিকেলের এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূর্ব মেদিনীপুরের জেলাশাসক নিরঞ্জন কুমার, সেচমন্ত্রী অরূপ কুমার দাস, কাঁথির সাংসদ সৌমেন্দু অধিকারী, রামনগরের বিধায়ক চন্দ্রশেখর মণ্ডল এবং প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকেরা।