Adani Group

নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর সঙ্গে গৌতম আদানির পুত্রের বৈঠক, বাংলায় ফের বিনিয়োগের ইঙ্গিত

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নতুন প্রশাসন যে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে, এই বৈঠককে তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০৩ জুন ২০২৬ ২২:৫৮
(বাঁ দিকে) আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম কর্তা করণ আদানি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী  (ডান দিকে)।

(বাঁ দিকে) আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম কর্তা করণ আদানি এবং মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। —সংগৃহীত।

পশ্চিমবঙ্গে ফের বড় শিল্প ও পরিকাঠামো বিনিয়োগের সম্ভাবনা উজ্জ্বল করে বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে বৈঠক করলেন আদানি গোষ্ঠীর অন্যতম কর্তা করণ আদানি। নবান্নে অনুষ্ঠিত এই বৈঠককে ঘিরে রাজনৈতিক ও শিল্পমহলে যথেষ্ট আগ্রহ তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, রাজ্যে পরিকাঠামো উন্নয়ন, বিদ্যুৎ, লজিস্টিক্স এবং গ্রিনফিল্ড সড়ক নির্মাণ-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়েছে।

Advertisement

রাজ্যে সরকার পরিবর্তনের পর শিল্পবান্ধব পরিবেশ তৈরির লক্ষ্যে নতুন প্রশাসন যে সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে, এই বৈঠককে তারই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

শিল্পমহলের একাংশের মতে, দীর্ঘ দিন পর পশ্চিমবঙ্গে বৃহৎ কর্পোরেট বিনিয়োগের ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলতে পারে এই আলোচনা। উল্লেখ্য, অতীতে পশ্চিমবঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে আদানি গোষ্ঠীর সঙ্গে রাজ্য সরকারের সম্পর্ক খুব একটা মসৃণ ছিল না। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের আমলে তাজপুর গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের জন্য গৌতম আদানি গোষ্ঠী টেন্ডার পেলেও পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন প্রশাসনিক ও নীতিগত জটিলতার কারণে সেই প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়নি। শেষ পর্যন্ত ওই টেন্ডার বাতিল হয় এবং আদানি গোষ্ঠী তাদের বিনিয়োগ পরিকল্পনা রাজ্য থেকে সরিয়ে নেয়।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সেই অধ্যায় পেরিয়ে আবারও পশ্চিমবঙ্গে আদানি গোষ্ঠীর আগ্রহ দেখা যাওয়ায় শিল্প ও বাণিজ্যমহলে ইতিবাচক বার্তা পৌঁছেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্দর, সড়ক, বিদ্যুৎ এবং লজিস্টিক্স খাতে বড় বিনিয়োগ এলে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, শিল্পোন্নয়ন এবং রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি আসতে পারে।

পশ্চিমবঙ্গে শিল্পায়ন ও পরিকাঠামো উন্নয়নের ক্ষেত্রে এই বৈঠককে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকেরা। যদিও বৈঠকের পর আনুষ্ঠানিক ভাবে কোনও প্রকল্প বা বিনিয়োগের পরিমাণ ঘোষণা করা হয়নি, তবুও ভবিষ্যতে বড়সড় শিল্প বিনিয়োগের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলেই মনে করা হচ্ছে।

Advertisement
আরও পড়ুন