অ্যান্টিবায়োটিকে নষ্ট হয় না এমন সব জীবাণুকে ধ্বংস করবে নতুন ওষুধ। ছবি: ফ্রিপিক।
করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে কোন ওষুধ কাজ করবে, এখনও তার উত্তর পাননি বিজ্ঞানী-গবেষকেরা। বিভিন্ন ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চলছে। তার মধ্যেই বিশ্ব জুড়ে নতুন উপদ্রব শুরু হয়েছে, যার নাম ‘অ্যান্টিবায়োটিক রেজ়িস্ট্যান্স’। অনিয়ন্ত্রিত ভাবে অ্যান্টিবায়োটিক খাওয়ার ফলে বেশির ভাগ জীবাণুই মাল্টি ড্রাগ রেজ়িস্ট্যান্ট (এমডিআর) হয়ে গিয়েছে। ফলে চেনা ওষুধেও আর কাজ হচ্ছে না তেমন। জ্বর, পেটের সমস্যা বা অ্যালার্জি যে কারণেই অ্যান্টিবায়োটিক খান না কেন, সে রোগ সম্পূর্ণ ভাবে নির্মূল হচ্ছে না। বরং আরও নানা রকম পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে চেনা ওষুধগুলিকে তো আর বাতিল করা যায় না। তাই এমন ওষুধ তৈরির চেষ্টা চলছে, যা পরিচিত অ্যান্টিবায়োটিকগুলির থেকেও বেশি কার্যকরী হবে। এমন এক নতুন ওষুধ, যার নাগাল এখনও জীবাণুরা পায়নি। অতএব সেটিই হবে জীবাণুর যম। তেমনই ওষুধ তৈরি করে ফেলেছে ভারত।
মুম্বইয়ের ওষুধ নির্মাতা সংস্থা ওকহার্ট একটি ওষুধ তৈরি করেছে যার নাম জ়ায়নিচ। ওষুধটি যে কোনও সংক্রামক ব্যাক্টেরিয়া-জনিত রোগের প্রকোপ কমাতে পারে বলে দাবি করা হয়েছে। অর্থাৎ, অ্যান্টিবায়োটিকেও প্রতিরোধ করা যায় না, এমন ব্যাক্টেরিয়াদেরই ধ্বংস করবে এই ওষুধ। এটি সেপসিস, ব্যাক্টেরিয়াল মেনিনজ়াইটিস, নিউমোনিয়া, প্যারাটাইফয়েড, ফুসফুস এবং মূত্রনালি সংক্রান্ত সংক্রমণকারী জীবাণুকে প্রতিহত করতে সক্ষম বলে দাবি করা হয়েছে। জ়ায়নিচ ওষুধটির কার্যকারিতা দেখে অনুমোদন দিয়েছে আমেরিকার ‘ফুড অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন’ (এফডিএ)।
গবেষকেরা বিশ্বের ২০৪টি দেশে সমীক্ষা চালিয়ে দাবি করেছেন, ২০৫০ সালের মধ্যে অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী সংক্রমণের কারণেই প্রায় ৩ কোটি ৯০ লক্ষ মানুষের মৃত্যুর আশঙ্কা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে শিশু ও বয়স্কদের ঝুঁকি বেশি। ঠিক যেমন ‘ড্রাগ রেজ়িস্ট্যান্ট নিউমোনিয়া’ ছোটদের শরীরে বেশি ধরা পড়ছে। নিউমোনিয়ার জীবাণু অ্যান্টিবায়োটিক-প্রতিরোধী হয়ে উঠেছে, ফলে এত দিনের যে ওষুধে নিউমোনিয়া সারত, তা আর ঠিকমতো কাজই করছে না। কেন্দ্রের বায়োটেকনোলজি বিভাগ বা ডিবিটি-র উদ্যোগে বায়োটেকনোলজি ইন্ডাস্ট্রি রিসার্চ অ্যাসিস্ট্যান্স কাউন্সিল (বিআইআরএসি) দেশীয় প্রযুক্তিতেই অ্যান্টিবায়োটিক তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই অনুযায়ী গবেষণাও শুরু হয়। ওষুধ তৈরির বরাত দেওয়া হয় মুম্বইয়ের ওকহার্টকে। জানা গিয়েছে, তিন দিনের কোর্সে ওষুধটি দেওয়া হবে রোগীদের।