Annapurna Yojana

অন্নপূর্ণা যোজনায় নাম ওঠেনি ২৬ লক্ষ আবেদনকারীর! কেন ঝাড়াইবাছাইয়ের দরকার ছিল, কী জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট করা ভাতা যাতে শুধু বৈধ উপভোক্তারাই পান, তা নিশ্চিত করতে চাইছে সরকার। সেই লক্ষ্যে নিবিড় ঝাড়াইবাছাইও চলেছে। ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে বাদ গিয়েছে প্রায় ২৬ লক্ষ নাম।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ১৬:৫৯
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ঝাড়াইবাছাই করে ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মহিলাকে অন্নপূর্ণা যোজনার সুবিধা পৌঁছে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। তার মধ্যে প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যে পৌঁছে গিয়েছে ৩০০০ টাকা। বুধবার নেতাজি ইনডোরের কর্মসূচি থেকে এ কথাই ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

Advertisement

পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডারের জন্য বাজেটে যা বরাদ্দ ছিল, নতুন সরকারের বাজেটে সেই বরাদ্দ বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র এক হাজার কোটি টাকা। অথচ পূর্বতন সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডারে দেওয়া হত ১৫০০ টাকা করে। নতুন সরকার অন্নপূর্ণা যোজনায় দিচ্ছে ৩০০০ টাকা করে। মাত্র এক হাজার কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দে কী ভাবে মাসিক ভাতার পরিমাণ দ্বিগুণ করা সম্ভব হবে, তা নিয়ে প্রশ্নও উঠেছিল। নেতাজি ইনডোরের মঞ্চ থেকে সেই প্রশ্নের জবাব দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। বুঝিয়ে দিলেন নিবিড় ঝাড়াইবাছাই চলেছে অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা বণ্টনের আগে। বললেন, “দেখতে হয় যাতে নিয়মের বাইরে কেউ না চলে যায়। কারণ, এটা কোনও ব্যক্তি বা দলের টাকা নয়। এটা সরকারের টাকা। সরকারের টাকা উপযুক্ত প্রাপকেরাই পাবেন। এই নীতিতেই আমরা বিশ্বাস করি।”

মুখ্যমন্ত্রী জানালেন, নতুন সরকারের অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য প্রায় ১ কোটি ৬০ লক্ষ আবেদন জমা পড়েছিল। তার মধ্যে ২৬ লক্ষ আবেদনকারীর ফর্ম বাতিল করা হয়েছে। কারণ, তাঁরা এই সরকারি প্রকল্পের উপভোক্তা হওয়ার মাপকাঠি পূরণ করেননি। ঝাড়াইবাছাইয়ের পরে যে ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি মহিলা ‘যোগ্য’ বলে বিবেচিত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে ১ কোটি ৯ লক্ষ ৯২ হাজার ৩৭৮ জনের অ্যাকাউন্টে ইতিমধ্যে টাকা পাঠিয়ে দিয়েছে সরকার। যাঁরা বাকি রয়েছেন, তাঁদেরও অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকতে শুরু করবে বলে আশ্বস্ত করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দুর দেওয়া হিসাব অনুযায়ী বাকি প্রায় চার লক্ষ আবেদনকারীর কী হবে, সে বিষয়ে সরকারি সূত্রে কিছু জানা যায়নি।

ভাতা দেওয়ার আগে কেন ঝাড়াইবাছাই করার দরকার ছিল, সেই ব্যাখ্যাও দেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পে সর্বশেষ যে টাকা পাঠানো হয়েছিল মহিলাদের, তাতে ২ কোটির কাছাকাছি উপভোক্তা ছিলেন। শুভেন্দু বলেন, “আমরা সার্ভে করে দেখলাম, ভারতীয় নন বা ভোটার তালিকায় নাম নেই এমন ২৭ লক্ষ মহিলার নাম রয়েছে।” বিবরণ দিতে গিয়ে তিনি জানান, এই ২৭ লক্ষের মধ্যে অনেকেই মৃত, কেউ আবার এখানে থাকেন না। আবার এমনও অনেকে ছিলেন যাঁদের ভোটার তালিকায় তিন জায়গায় নাম ছিল এবং তিন জায়গায় তাঁর অ্যাকাউন্টে টাকা ঢুকছিল। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা এদের নাম কেটেছি। কারণ, সরকারের টাকা ভারতীয় ছাড়া অন্য কেউ পেতে পারে না।”

রাজ্যে নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর মহিলা ভাতাপ্রাপকদের ঝাড়াইবাছাইয়ে বেশ কিছু তথ্য ইতিমধ্যে প্রকাশ্যে এসেছে। উঠে এসেছে ‘পুরুষ-লক্ষ্মী’দের কথাও। মুখ্যমন্ত্রী নিজেও আগে এ বিষয়ে সরব হয়েছেন। বুধবার নেতাজি ইনডোর থেকে মুখ্যমন্ত্রী জানান, লক্ষ্মীর ভান্ডারের ওই ২ কোটি উপভোক্তার মধ্যে ১০ লক্ষ পুরুষ বেরিয়েছেন। তিনি বলেন, “লক্ষ্মীর ভান্ডারের নামের টাকা কি পুরুষের অ্যাকাউন্টে যাওয়া উচিত? তাই ঝাড়াইবাছাই প্রয়োজন ছিল।”

নতুন সরকার অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য যে ১২ পাতার ফর্ম পূরণ করিয়েছিল, তা নিয়েও মন্তব্য করেন মুখ্যমন্ত্রী। শুভেন্দু বলেন, “সমালোচনা হয়েছে… ১২ পাতার ফর্ম। আসলে চারটে পাতা ছাড়া পূরণ করার ছিল না।” মহিলাদের আশ্বস্ত করে তিনি জানান, ওই তথ্য ইতিমধ্যে সরকারি পোর্টালে আপলোড হয়ে গিয়েছে। তার মাধ্যমে কেন্দ্র এবং রাজ্য সরকারের অন্য প্রকল্পেরও সুবিধা পাবেন মহিলারা। তার জন্য আর আলাদা করে ফর্ম পূরণের দরকার হবে না।

সম্প্রতি রাজ্য সরকার যে জনকল্যাণ শিবিরের আয়োজন করেছিল, তাতে অন্নপূর্ণা যোজনার জন্য ৮ লক্ষ ১৫ হাজার জন নাম নথিভুক্ত করিয়েছিলেন। মুখ্যমন্ত্রী জানান, তাঁদের প্রত্যেকেই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন। বিরোধীদের অনেকেই অভিযোগ তুলতে শুরু করেছিল যে, আগের সরকারের যে বরাদ্দ ছিল, এই সরকার বরাদ্দ মাত্র ১ হাজার কোটি টাকা বাড়িয়ে উপভোক্তার সংখ্যা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে। বুধবার ১ কোটি ৩০ লক্ষেরও বেশি ‘বৈধ’ উপভোক্তার কথা ঘোষণা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা এক জন উপভোক্তাকেও বাদ দেব না। আমরা উপভোক্তা বলি না। আমরা বলি এটা আপনার অধিকার।”

মুখ্যমন্ত্রী জানান, কর্মসূচি চলাকালীনই প্রায় ১ কোটি ১০ লক্ষের অ্যাকাউন্টে প্রকল্পের টাকা পৌঁছে গিয়েছে। শুভেন্দু জানান, এই প্রকল্পের আওতায় যাঁরা টাকা পাচ্ছেন, তাঁদের মধ্যে তফসিলি জাতির ২৬ লক্ষ ৬৩ হাজার ৫৫৫ জন উপভোক্তা আছেন। আদিবাসী মহিলা রয়েছেন ৫ লক্ষের কাছাকাছি। পাহাড়ি এলাকার নেপালি-গোর্খা উপভোক্তাও রয়েছে ১ লক্ষ ২২ হাজার ৬২৮ জন। একই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী এ-ও জানান, বাংলাদেশ থেকে আসা শরণার্থীদেরও সিএএ বিষয়ক আবেদন নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত প্রকল্পের সুবিধা দেওয়া হবে। ট্রাইবুনালে আবেদনকারীদের আবেদনের নিষ্পত্তি না-হওয়া পর্যন্ত সুবিধা মিলবে।

তবে শুভেন্দু বার বার স্পষ্ট করে দিয়েছেন, তাঁর সরকার শুধুমাত্র বৈধ উপভোক্তাদেরই সুবিধা দেবে। জানিয়ে দিয়েছেন, সরকারি টাকা কোনও বিদেশিকে দেওয়া হবে না। বললেন, “আমরা কখনওই বলি না বিজেপির টাকা, মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টাকা, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত টাকা। আমরা বলি সরকারি টাকা। যাঁরা যোগ্য তাঁরাই পাবেন।”

Advertisement
আরও পড়ুন