(বাঁ দিকে) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, শুভেন্দু অধিকারী (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর জন্ম ও প্রয়াণ দিবস উদ্যাপনের অনুষ্ঠানেও প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে তীব্র আক্রমণ করলেন রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার স্বাস্থ্য ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে মুখ্যমন্ত্রী বিধানচন্দ্র রায়ের পাশাপাশি বামফ্রন্ট সরকারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুকেও স্মরণ করেন তিনি।
জ্যোতি বসুর একটি বক্তৃতার উল্লেখ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘আমার মুখ্যমন্ত্রিত্বের বয়স এখনও দু’মাসও হয়নি। এই সময়ে দাঁড়িয়ে বিধানচন্দ্র রায়কে নিয়ে বলা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবাবুর একটি কথা আমার মনে পড়ছে। আজ যখন এই রাজ্যের কাজ করতে যাচ্ছি, তখন পরিস্থিতিটা আরও বেশি করে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠছে।’’ তিনি আরও যোগ করেন, ‘‘প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতিবাবু দায়িত্ব নেওয়ার পর বলেছিলেন, ‘আমি যেখানেই কাজ শুরু করতে যাচ্ছি, সেখানেই দেখছি ডাক্তার বিধানচন্দ্র রায় আগেই তার সূচনা করে দিয়ে গিয়েছেন। আর আজকের মুখ্যমন্ত্রীকে বলতে হচ্ছে, আমি যেখানেই হাত দিচ্ছি, সেখানেই শুধু ধ্বংসলীলা দেখতে পাচ্ছি! এই দুটি ভিন্ন পরিস্থিতির মধ্য দিয়েই আমাকে পথ চলতে হবে।’’
এ দিন বিধাননগর মহকুমা হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে ‘বিধাননগর মাল্টি স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল’ রাখা হয়। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বাংলার মানুষকে চিকিৎসার জন্য ভিন্রাজ্যে ছুটতে হচ্ছে, অথচ দেশ-বিদেশের নানা নামী স্বাস্থ্যপ্রতিষ্ঠানে এই রাজ্যের মানুষই উচ্চ পদে আসীন। অন্যান্য রাজ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’ যোজনা চালু থাকায় সাধারণ মানুষ চিকিৎসার বিপুল খরচ থেকে রেহাই পাচ্ছেন, কিন্তু বিগত বছরগুলিতে পশ্চিমবঙ্গবাসী এই কেন্দ্রীয় সুবিধা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। বিগত সরকারকে কটাক্ষ করে শুভেন্দু বলেন, ‘‘হাসপাতালগুলির অবস্থা আজ বেহাল। স্বাস্থ্য ভবন থেকে শুরু করে মেডিক্যাল কলেজগুলির করুণ দশা। তবে আমাদের সরকার আসার মাত্র দেড় মাসের মধ্যে ‘আয়ুষ্মান ভারত’-এর যৌথ চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং রাজ্যে এই পরিষেবা চালু করা হয়েছে।’’ একই সঙ্গে ‘ভারতীয় ন্যায় সংহিতা’ প্রণয়নের ফলে সরকারি চিকিৎসকেরা এখন সম্পূর্ণ ভয়মুক্ত পরিবেশে চিকিৎসা করতে পারবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এ দিন রাজ্যবাসীর সুবিধার্থে ২০০টি নতুন অ্যাম্বুল্যান্স পরিষেবার উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১০২ নম্বরে ফোন করলেই মিলবে এই অ্যাম্বুল্যান্স। মূলত গর্ভবতী মহিলা ও নবজাতকদের জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ। এ ছাড়াও, সরকারি হাসপাতালে রোগীদের জরুরি শয্যার প্রয়োজন হলে, বেসরকারি হাসপাতালগুলিতে বিনামূল্যে ১০ শতাংশ শয্যা সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি, সরকারি হাসপাতালগুলির পরিষেবা ও নজরদারি আরও কার্যকর করতে স্বাস্থ্য ভবনে একটি কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুমেরও উদ্বোধন করেন তিনি।
জেলার স্বাস্থ্য পরিকাঠামো উন্নয়নেও একাধিক পদক্ষেপের ঘোষণা করা হয়েছে। নদিয়ায় নতুন ড্রাগ কন্ট্রোল অফিসের উদ্বোধন হয়েছে। এ ছাড়া পূর্ব বর্ধমান, হাওড়া (দক্ষিণ) এবং পূর্ব মেদিনীপুরের রানিচকে তিনটি আয়ুষ্মান আরোগ্য মন্দির চালু করা হয়েছে। পূর্ব বর্ধমানের খণ্ডঘোষে উদ্বোধন হয়েছে একটি নতুন পাবলিক হেলথ ইউনিটের। মা ও নবজাতকদের স্বাস্থ্য পরিষেবা আরও সহজলভ্য করতে জননী পোর্টাল চালু করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাজ্যে প্রধানমন্ত্রী মাতৃবন্দনা যোজনারও আনুষ্ঠানিক সূচনা হয়েছে। জাতীয় চিকিৎসক দিবসে স্বাস্থ্য পরিষেবার সম্প্রসারণ ও পরিকাঠামো উন্নয়নে একাধিক পদক্ষেপের মাধ্যমে রাজ্যের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার বার্তা দিল রাজ্য সরকার।