(বাঁ দিকে) নরেন্দ্র মোদী, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (ডান দিকে)। —ফাইল চিত্র।
আগামী ২৮ জানুয়ারি সিঙ্গুরে প্রশাসনিক সভা করবেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ওই সভা থেকে উপভোক্তাদের বিভিন্ন প্রকল্পের সুবিধা তুলে দেবেন তিনি। নবান্ন সূত্রে খবর, আরও ১৬ লক্ষ পরিবারকে বাংলার বাড়ি প্রকল্পে পাকা বাড়ি বানানোর প্রথম কিস্তির টাকা তুলে দেবেন মুখ্যমন্ত্রী।
গত রবিবার সিঙ্গুরে জোড়়া কর্মসূচি ছিল প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর। প্রথমে তিনি প্রশাসনিক সভা করেন। তার পর জনসভায় বক্তৃতা করেন। সভা থেকে বিভিন্ন বিষয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে আক্রমণ করেন তিনি। তৃণমূল সূত্রে খবর, ২৮ জানুয়ারি প্রশাসনিক সভা থেকে রাজনৈতিক বার্তাও দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। তৃণমূলের একটি সূত্রের দাবি, প্রধানমন্ত্রী এবং বিজেপিকে পাল্টা ‘জবাব’ দেবেন তিনি।
হুগলি জেলা তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রীর সভার পরেই সিঙ্গুরে মুখ্যমন্ত্রীর সভা নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছিল। পরে মুখ্যমন্ত্রীর সচিবালয় থেকে জানানো হয়, প্রশাসনিক সভার জন্য ২৮ ডিসেম্বর সময় দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো প্রশাসনিক স্তরে তো বটেই, দলীয় স্তরেও প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, প্রধানমন্ত্রী যেখানে সভা করেছিলেন, সেখানেই হবে মুখ্যমন্ত্রীর সভামঞ্চ।
সিঙ্গুরের মাটিতে দাঁড়িয়ে রাজ্যের তৃণমূল সরকারকে কটাক্ষ করে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, “আইনশৃঙ্খলা ঠিক হলে তবেই বিনিয়োগ আসবে পশ্চিমবঙ্গে।” তৃণমূল সূত্রে খবর, প্রধানমন্ত্রীর কটাক্ষের জবাব দিয়ে রাজ্যে শিল্প বিনিয়োগের পরিসংখ্যান তুলে ধরতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। সিঙ্গুরে সভা করলেও সেখানে নতুন শিল্প বা বিনিয়োগ নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও আশ্বাস দেননি প্রধানমন্ত্রী। যা নিয়ে হতাশা গোপন করেননি সভায় আসা বেশ কয়েক জন। এই আবহে রাজ্যে শিল্প, বিনিয়োগ নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী কোনও ঘোষণা করতে পারেন বলেও মনে করছেন কেউ কেউ। শিয়রে বিধানসভা ভোট। তার আগে একদা তাঁর জমি-আন্দোলনের আঁতুড়ঘড় সিঙ্গুর থেকে মুখ্যমন্ত্রী কী বার্তা দেন, সে দিকে নজর রাখছে রাজনৈতিক মহলও।