(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে দেব (ডান দিকে)। ছবি: সংগৃহীত।
অবশেষে! ফি বছর বন্যা থেকে মুক্তির পথ পেল পশ্চিম মেদিনীপুরের বিস্তীর্ণ অংশ। বুধবার হুগলির সিঙ্গুর থেকে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের উদ্বোধন করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে উপস্থিত থাকবেন ঘাটালের তিন বারের সাংসদ দীপক অধিকারী (দেব)। থাকবেন রাজ্যের জলসম্পদ মন্ত্রী মানস ভুইয়াঁ।
ঘাটালের মানুষের দীর্ঘ দিনের দাবি ছিল ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান। গত লোকসভা ভোটে তৃতীয় বারের জন্য দেব প্রার্থী হতে রাজি হন ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের জন্য। প্রকাশ্য সভা থেকে জানিয়ে দেন, এ বার প্রকল্পের বাস্তবায়ন হবেই। তাঁকে কথা দিয়েছেন তৃণমূলের সর্বময় নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং দলের দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।
২০২৪ লোকসভা ভোটে জয়ী হয়ে আবার সাংসদ হয়েছেন দেব। তার পর শুরু হয়ে যায় বহু প্রতীক্ষিত প্রকল্পের কাজও। অবশেষে দেব, মানসদের উপস্থিতিতেই বিধানসভা ভোটের আগে উদ্বোধন হচ্ছে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের।
ওই প্রকল্পের বাস্তবায়নে উপকৃত হবেন পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার ৭টি ব্লক— ঘাটাল, দাসপুর-১ ও ২, চন্দ্রকোনা-১ ও ২, কেশপুর এবং ডেবরা ছাড়াও পূর্ব মেদিনীপুরের ৪টি ব্লক— পাঁশকুড়া-১, কোলাঘাট, ময়না এবং তমলুকের মানুষ। তা ছাড়াও ঘাটাল ও পাঁশকুড়া পুরসভা রয়েছে। প্রশাসনের দাবি, ১০ লক্ষ মানুষকে জল-যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দেবে ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান।
রাজ্য প্রশাসন জানিয়েছে, প্রকল্পের জন্য কেন্দ্র থেকে কোনও টাকা নেওয়া হয়নি। ১৫০০ কোটি টাকা ব্যয়ে তৈরি হয়েছে ওই প্রকল্প। তৃণমূলের একটি সূত্রে খবর, সাংসদ দেবের অনুরোধে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। গত লোকসভা নির্বাচনের আগে দেব ঘাটাল মাস্টার প্ল্যানের দাবি জানিয়েছিলেন মমতা এবং অভিষেকের কাছে। দেবকে পাশে নিয়ে ঘাটালে নির্বাচনী প্রচারে মমতা ঘোষণা করেছিলেন, কেন্দ্র বঞ্চনা করলেও ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান রাজ্য সরকারই করবে।
এর পর প্রথম পর্যায়ে ৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে এই প্রকল্পের জন্য। জেলা সেচ দফতরের এক আধিকারিক জানান, গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকেই কাজ শুরু হয়েছিল। অবশেষে উদ্বোধনের অপেক্ষায় ঘাটাল মাস্টার প্ল্যান।