Janatar Darbar in Salt Lake

জমি নিয়েও ফ্ল্যাট দেননি জয় কামদার, সোনা পাপ্পুরা! জনতার দরবারে এসে শুভেন্দুকে নালিশ ভবানীপুরের অশীতিপর বৃদ্ধের

মুখ্যমন্ত্রীকে যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি ফেরানোর আর্জি জানান ২৬ হাজার ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের প্রতিনিধিরা। আবার জমি দিয়েও ফ্ল্যাট না-পাওয়ার অভিযোগ জানান ভবানীপুরের অশীতিপর বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৫ মে ২০২৬ ১৩:২১
‘জনতার দরবারে’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অভিযোগ জানাচ্ছেন ভবানীপুরের বাসিন্দা প্রবীর মুখোপাধ্যায়। সোমবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে।

‘জনতার দরবারে’ মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে অভিযোগ জানাচ্ছেন ভবানীপুরের বাসিন্দা প্রবীর মুখোপাধ্যায়। সোমবার সল্টলেকের বিজেপি দফতরে। —নিজস্ব চিত্র।

সাপ্তাহিক ‘জনতার দরবারে’ উপস্থিত থেকে জনগণের অভাব-অভিযোগ শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার সকাল ৯টা থেকে সল্টলেকের বিজেপি দফতরে এই দরবার শুরু হয়। সেখানে উপস্থিত থেকে নিজেদের দাবিদাওয়ার কথা তুলে ধরেন রাজ্যের বিভিন্ন জায়গার, বিভিন্ন পেশার মানুষ। মুখ্যমন্ত্রীকে যোগ্যতার ভিত্তিতে চাকরি ফেরানোর আর্জি জানান ২৬ হাজার ‘যোগ্য’ চাকরিহারাদের প্রতিনিধিরা। আবার জমি দিয়েও ফ্ল্যাট না-পাওয়ার অভিযোগ জানান ভবানীপুরের অশীতিপর বৃদ্ধ প্রবীর মুখোপাধ্যায়।

Advertisement

৮১ বছর বয়সি ওই বৃদ্ধের অভিযোগ, জয় কামদার, সোনা পাপ্পুরা তাঁর সঙ্গে প্রতারণা করেছেন। পৈতৃক সম্পত্তি জয়কে দিয়েছিলেন প্রবীর। কিন্তু সেই জমিতে প্রোমোটিং করা হলেও তাঁকে ফ্ল্যাট দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ। প্রবীরের আরও অভিযোগ, গ্রেফতার হওয়ার আগে জয় তাঁকে ফ্ল্যাট দেওয়ার কথা বললেও বিনিময়ে ১৭ লক্ষ টাকা দাবি করেন। বর্তমানে স্ত্রীকে নিয়ে একটি ভাড়াবাড়িতে রয়েছেন বলে জানিয়েছেন ওই বৃদ্ধ। তবে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে খুশি তিনি। প্রবীর বলেন, “আশ্বস্ত হলাম। মুখ্যমন্ত্রী বলেছেন সমস্যার সমাধান করবেন।”

২৬ হাজার চাকরিহারা শিক্ষকদের তরফে মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন সুমন বিশ্বাস। কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় পুনরায় স্থায়ী নিয়োগ চালু করার আর্জি জানান মলয় সিংহ রায়। তাঁর অভিযোগ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির কারণে ১৫ বছর নিয়োগ হয়নি। স্থায়ী পদ অস্থায়ী হয়ে গিয়েছে। সুচিত্রা দে রাজ্যের কিছু চাকরিতে অনাথদের সংরক্ষণ পুনরায় চালু করার আর্জি জানান শুভেন্দুকে। তাঁর অভিযোগ, রাজ্যের কিছু চাকরির ক্ষেত্রে অনাথদের জন্য সংরক্ষণ তুলে দেওয়া হয়েছে। ফলে অনেককেই চাকরি পেতে সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে। প্রত্যেকের বক্তব্য শুনে যথাযথ পদক্ষেপ করার আশ্বাস দেন শুভেন্দু। দুপুর ১২টা নাগাদ সল্টলেকের দলীয় দফতর থেকে বেরিয়ে নবান্নের উদ্দেশে রওনা দেন মুখ্যমন্ত্রী।

মুখ্যমন্ত্রীর কুর্সিতে বসে সাধারণ মানুষের সমস্যা সমাধানের জন্য ‘জনতার দরবার’-এর কথা ঘোষণা করেছিলেন শুভেন্দু। বিজেপির তরফে জানানো হয়, প্রতি সোমবার সকালে ৯টা থেকে ১১টা পর্যন্ত মুখ্যমন্ত্রী সল্টলেকের দলীয় কার্যালয়ে থাকবেন। সেখানেই ‘জনতার দরবার’ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে। গত সোমবারের পর এই সপ্তাহেও শুভেন্দু সেই কর্মসূচিতে ছিলেন। শুভেন্দু ছাড়াও সল্টলেকের দফতরে লকেট চট্টোপাধ্যায়, শশী অগ্নিহোত্রীদের মতো রাজ্য বিজেপির নেতৃত্ব ছিলেন। চাকরিপ্রার্থীদের মোট ১৫টি সংগঠনের প্রতিনিধি সোমবার সকালে শুভেন্দুর সঙ্গে দেখা করেন বলে খবর। ভিড় সামলাতে কার্যত হিমশিম খেতে হয় নিরাপত্তারক্ষীদের।

গত সোমবার দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা জিজ্ঞাসাবাদের পর কসবার ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ পোদ্দার ওরফে সোনা পাপ্পুকে গ্রেফতার করে ইডি। আদালতে ইডির তরফে দাবি করা হয়, ভয় দেখিয়ে কম দামে অন্যের জমি, সম্পত্তি হস্তগত করতেন সোনা পাপ্পু। শুধু তিনি একা নন, এখানে তিন জনের চক্রের কথাও আদালতে উল্লেখ করে ইডি। তাদের দাবি, বেহালার ব্যবসায়ী জয় কামদার এবং কলকাতার পুলিশকর্তা শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের হয়ে কাজ করতেন পাপ্পু।

Advertisement
আরও পড়ুন