মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। ফাইল চিত্র।
মালদহ: মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হবে। তাঁদের কথা শুনতে হবে। সব পক্ষের স্মারকলিপি জমা নিতে হবে, যাতে স্থানীয় স্তরের ক্ষোভ-বিক্ষোভ আন্দোলনের পর্যায়ে না পৌঁছয়। শুক্রবার বিকেলে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দুই দিনাজপুর জেলার প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী পুলিশকে এমনই নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি সূত্রের। মালদহের ইংরেজবাজারের দুর্গাকিঙ্কর সদনে চার জেলার পুলিশ ও প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের আধিকারিকদের নিয়ে বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী পুলিশকে রাজনৈতিক মামলা যাচাই করে দেখার পরামর্শ দিয়েছেন এবং মিথ্যা মামলা যাতে না হয় সে ব্যাপারে সতর্কও করেছেন।
বৈঠকে থাকা রাজ্য পুলিশের এক কর্তার কথায়, “পুলিশকে সক্রিয় ভাবে জনতার সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষায় জোর দিতে বলা হয়েছে।” সূত্রের খবর, মুখ্যমন্ত্রী এ দিন বলেছেন, কোনও ঘটনা ঘটলে থানার ওসি ও আইসি-রা তা ডিএসপিকে জানাবেন, ডিএসপি অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকে এবং অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তা পুলিশ সুপারকে জানাবেন। পুলিশ সুপার এডিজি-র (আইনশৃঙ্খলা) সঙ্গে কথা বলবেন। রাজ্যে বিজেপির সরকার আসার আগে এই পদ্ধতি মানা হত না বলে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করেন। অনুপ্রবেশ-সমস্যায় ভোগা জেলাগুলিতে পুলিশকে নির্দেশ দেন সীমান্তে বিএসএফকে সহযোগিতা করার। জাতীয় সড়কে যানজট নিয়ন্ত্রণ, ট্রাক-ডাম্পারে বহন ক্ষমতার থেকে বেশি পণ্য পরিবহণ রোখার মতো বিষয়ে নজর দিতেও বলা হয়।
প্রশাসন সূত্রের খবর, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী আগামী ১৫-১৭ জুন রাজ্য জুড়ে জনকল্যাণ শিবির (দুয়ারে সরকার শিবিরের বিকল্প) শুরুর কথা জানান। আবাস যোজনার প্রকৃত প্রাপকদের তালিকা ২০ জুলাইয়ের মধ্যে তৈরি করার কথা বলেন। শুভেন্দু জানান, একশো দিনের প্রকল্প ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে এবং এই কাজের জন্য কেন্দ্র থেকে ৭০০ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গিয়েছে। ১ জুলাই থেকে ‘বিকশিত ভারত প্রকল্প’ চালু হবে এবং এ জন্য ৮২০০ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় বরাদ্দ মিলেছে।
ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন (এসআইআর) পর্বে মুর্শিদাবাদ ও মালদহে বহু নাম বাদ পড়েছিল। সূত্রের দাবি, বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সিএএ (সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন) অনুযায়ী এবং ট্রাইবুনালে যাঁরা ভোটার তালিকায় নাম তোলার আবেদন করেছেন, তাঁরা যাতে সরকারি সুযোগ-সুবিধায় বঞ্চিত না হন, প্রশাসনকে তা দেখতে হবে।