অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল চিত্র।
রদবদলেও অসন্তোষ কমেনি তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে। নির্বাচনের পরে প্রায় এক মাসের মাথায় দলীয় কমিটিতে যে রদবদল হয়েছে, তা নিয়েও সতীর্থদের ক্ষোভের আঁচ পেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তা-ই নয়, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে ঘিরে চাপ বাড়ছে। দলীয় সূত্রে খবর, পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, চতুর্দিকে ভাঙনের মধ্যে গোটা বিষয়টি নিয়ে নতুন করে ভাবনাচিন্তা শুরু হয়েছে কালীঘাটে।
ভোটে বিপর্যয়ের জন্য দলের একটা বড় অংশই আঙুল তুলেছেন অভিষেকের দিকে। দল ছাড়ার সময়েও জনপ্রতিনিধিদের প্রায় সকলেই সংগঠন পরিচালনায় অভিষেকের ভূমিকার কথা বলেছেন। তার পরও সাংগঠনিক রদবদলে অভিষেক সম্পর্কে কোনও পদক্ষেপ না-হওয়ায় অসন্তোষ কমেনি। এই অংশের মধ্যে মমতার ‘অন্ধ অনুগামী’ নেতারাও রয়েছেন অনেকে। তাঁদের বক্তব্য, গত কয়েক বছর ধরেই সংগঠন পরিচালনা করেছেন অভিষেক। আর এ বারের নির্বাচনে তিনি ছিলেন ‘প্রশ্নহীন’। ফলে, ভোটে বিপর্যয়ের পরে কাজের মূল্যায়ন করা উচিত ছিল বলে মনে করছেন তাঁরা। ইতিমধ্যে এ কথা নানা ভাবে পৌঁছে গিয়েছে মমতার কাছে। সেই সঙ্গেই নতুন রাজ্য কমিটির সভাপতি চন্দ্রিমা ভট্টাচার্যকে নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ কিছু জায়গা থেকেআপত্তি উঠেছে।
দলীয় সূত্রের ইঙ্গিত, নতুন করে তৈরি সংগঠনের যে সব জায়গা নিয়ে আপত্তি উঠছে, তা ‘ঠিকঠাক’ করে নিতে পারেন তৃণমূল নেত্রী।
নির্বাচনী বিপর্যয়ের পরেই এই ‘বিপদ’ যে আসতে পারে, সম্ভবত তা আন্দাজ করতে পেরেছিলেন তৃণমূল নেত্রী। বিশেষ করে, এ বারের নির্বাচনে একার হাতে সংগঠন পরিচালনার দায়িত্বে থাকায় অভিষেককে ঘিরে চাপ যে থাকবে, তা বুঝতে পেরে ভোট-পরবর্তী প্রথম বৈঠকে অভিষেকের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনিই তা এড়াতে চেয়েছিলেন। কিন্তু তাতে সমস্যার কোনও সমাধান তো হয়ইনি, উল্টে বিধায়ক ও সাংসদেরা দল ছাড়ার আগে অভিষেককেইনিশানা করেছেন।
কালীঘাটের প্রতি আস্থা রাখেন এমন এক নেতার কথায়, ‘‘তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ বিষয় নিয়ে আলাদা হয়ে যাওয়া সাংসদ বা বিধায়কদের কথার আর কোনও গুরুত্ব নেই। কারণ, তাঁরা নিজেদের বিশ্বাসযোগ্যতা রক্ষা করতে পারেননি। কিন্তু অভিষেকের ‘পারফরম্যান্স’ পর্যালোচনা করে অবশ্যই পদক্ষেপ করা উচিত।’’ তাঁর কথায়, ‘‘যে হেতু গত দু’টি নির্বাচনে পারফরম্যান্স’-এর ভিত্তিতে সাংগঠনিক দায়িত্ব দেওয়ার কথা অভিষেকই বলেছিলেন, তাঁর ক্ষেত্রেও তা প্রযোজ্য হলে অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র নিয়ে দলত্যাগীদের প্রচারভোঁতা হবে।’’
এখনও তৃণমূলের মূল স্রোতে থাকা এক সাংসদ প্রশ্ন তুলেছেন অভিষেকের সহযোগী হিসেবে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের নিয়োগ নিয়ে। তাঁর কথায়, ‘‘এই ব্যবস্থা কোনও ভাবেই কার্যকর হতে পারে না। কারণ, অভিষেকের সহযোগী হিসেবে দুই কেন, কুড়ি জনকে নিয়োগ করলেও তাঁরা কোনও সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন বলে দলের নীচের তলার নেতা-কর্মীরা বিশ্বাস করতে পারবেন না!’’
তৃণমূল নেত্রীর দীর্ঘ দিনের সঙ্গী এক বিধায়ক প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্য সভাপতি ও শ্রমিক সংগঠনের রাজ্য সভাপতি পদ নিয়েও। তাঁর কথায়, ‘‘মন্ত্রী হিসেবে চন্দ্রিমা কাজ করেছেন। কিন্তু সাংগঠনিক কাজে তিনি উপযুক্ত কি না, নেত্রীর তা ভাবা উচিত।’’
অনেকেই মনে করছেন, পরাজিত মলয় ঘটকের বদলে বিধায়ক মদন মিত্রকে শ্রমিক সংগঠনের দায়িত্ব দিলে তা কিছুটা কাজের হতে পারে। একই ভাবে যুব সংগঠনের সভাপতি পদে সায়নী ঘোষকে রেখে দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে তাঁরা কালীঘাটে বার্তা দিয়েছেন। তাঁরা মনে করছেন, বিরোধী হিসেবে যুব সংগঠনে কাজে আগের ধারা বদলাতে হবে।