Note Ban

নোটবন্দির পরে জাল নোটের ফিরে আসা

মালদহ, মুর্শিদাবাদে সীমান্ত এলাকা পেরিয়ে যে ৫০০ টাকার জাল নোট ঢুকছে তার গুণমান ফেলনা নয়। আসলের থেকে অপেক্ষাকৃত হালকা কাগজ। রং বা চেহারা, চরিত্রে কিছু ফারাক আছে।

শুভাশিস ঘটক
শেষ আপডেট: ১২ এপ্রিল ২০২৬ ০৬:৪২

—প্রতীকী চিত্র।

পরিবর্তন নয়! প্রত‍্যাবর্তনই। ২০১৬র নোটবন্দির পরে সীমান্ত এলাকায় ফের সক্রিয় জাল নোট কারবার। রাতারাতি দেশের বেশির ভাগ নোট বাতিল করে ভারত-বিরোধী জাল নোট কারবারিদের নির্মূল করার দাবি করেছিল নরেন্দ্র মোদী সরকার। নতুন নোটের সুরক্ষা বিধি নিয়েও অঢেল আশ্বাস দেওয়া হয়। নোটবাতিল পর্বের এক দশক পার হওয়ার আগেই জাল নোট চক্র কার্যত স্বমহিমায় ফিরে এসেছে।

এ রাজ‍্যেই মালদহ, মুর্শিদাবাদে সীমান্ত এলাকা পেরিয়ে যে ৫০০ টাকার জাল নোট ঢুকছে তার গুণমান ফেলনা নয়। আসলের থেকে অপেক্ষাকৃত হালকা কাগজ। রং বা চেহারা, চরিত্রে কিছু ফারাক আছে। নোটের গায়ে লেখা নম্বরের হরফও অবিকল নকল করা যায়নি। কিন্তু নোটের তাড়ার মধ্যে ঢুকিয়ে দিলে চেনা সোজা নয়। বিশেষত সাধারণ লোকের খালি চোখে হুট করে আসল নকল বোঝার জো নেই।গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, ২০২৪-২৫এ ২০ কোটির বেশি ৫০০ টাকার জাল নোট বাজেয়াপ্ত করেছে মালদহ, মুর্শিদাবাদের জেলা পুলিশ, কলকাতা ও রাজ‍্য পুলিশের এসটিএফ এবং রেল পুলিশ। তা দেশের পশ্চিম দিকের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে তৈরি বলেও গোয়েন্দা সূত্রের দাবি। জাল নোট চক্রের সঙ্গে যুক্ত শতাধিক ব‍্যক্তিকে গ্রেফতারও করা হয়।

সপ্তাহখানেক আগে সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এবং জাল নোট পাচার নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীকে বাড়তি সতর্কতার নির্দেশও দেওয়া হয়। উদ্ধার হওয়া জাল নোট শালবনীর টাঁকশালে খুঁটিয়ে দেখে তার কী কী খামতি জরিপ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি। রিজার্ভ ব্যাঙ্কের তরফেও বিজ্ঞপ্তি জারি করে আসল ৫০০ টাকার নোট ছাপার কালি ও কাগজের গুণমান বৃদ্ধির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মূলত সীমান্তের ও-পার থেকে মালদহ, মুর্শিদাবাদ ঘেঁষা বৈষ্ণবনগর ও কালিয়াচক এলাকা দিয়ে জাল নোট পাচার করা শুরু হয়েছে। ওই সব এলাকার বেশ কিছু জায়গায় কাঁটাতারের বেড়া নেই। সীমান্তরক্ষীর নজরদারির ফাঁক বুঝে জোরদার হয়েছে জাল নোট পাচার চক্র।তদন্তকারীদের সূত্রে দাবি, সীমান্ত পেরিয়ে ঢোকা ৫০০ টাকার জাল নোট সাধারণত একটি সিরিজের নম্বরে তৈরি বলে জানা যাচ্ছে। বৈষ্ণবনগর ও কালিয়াচক সীমান্ত এলাকায় সাধারণত মুখ বন্ধ বস্তাভর্তি জাল নোট ও-পার থেকে এ-পারে ছুড়ে দেওয়া হয়। আবার এ দেশের আসল নোটের বস্তাও ছুড়ে দেওয়া হয় ও-পারে। প্রতি ১০০ টাকার জাল নোটের পরিবর্তে ৪০ টাকা মূল‍্যের আসল ভারতীয় টাকা দেওয়া হয় বলে দাবি গোয়েন্দাদের।

গোয়েন্দা কর্তাদের কথায়, ২০২৫এর অক্টোবর ও নভেম্বরে হাওড়া এবং শালিমার জিআরপি জাল নোট সমেত ৮-১০ জনকে গ্রেফতার করেছিল। তারা মুর্শিদাবাদজেলার বাসিন্দা।

মুর্শিদাবাদ থেকে কলকাতায় এসে তাদের ভিন রাজ্যের ট্রেনে ওঠার কথা ছিল। গোয়েন্দা সূত্রে দাবি, ভিন রাজ‍্যগামী সীমান্তবর্তী জেলার বাসিন্দাদের একাংশকে এ দেশের অন্দরে জাল নোট ছড়াতে কাজে লাগানো হচ্ছে। এ ছাড়া, কিছু এজেন্টও মোতায়েন করছে জাল নোট চক্রের কারবারিরা। তদন্তে উঠে এসেছে, এজেন্টদের হাতে এক লক্ষ টাকার জাল নোট পাচার করলে ৩০০০ টাকা পারিশ্রমিকের লোভ দেখানো হচ্ছে ভিন রাজ‍্যগামী শ্রমিকদের একাংশকে। রেলপথে জাল নোট পাচার নিয়ে দেশের রেলপুলিশকেও সতর্ক করেছে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক।

মালদহ জেলা পুলিশের তৎপরতা অবশ‍্য জাল নোট পাচারের কিছুটা রাশ টেনেছে। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর এক কর্তা বলেন, “বাংলাদেশের ভোটে সীমান্তবর্তী এলাকায় অপেক্ষাকৃত কট্টরপন্থীদের প্রভাব বৃদ্ধিতেও ভারত-বিরোধী কাজের বাড়বাড়ন্ত নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে।”

আরও পড়ুন