ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার সেই মঞ্চ। ছবি: ঈশানদেব চট্টোপাধ্যায়।
জেলায় জেলায় মঙ্গলবারই শেষ হচ্ছে বিজেপির ‘পরিবর্তন যাত্রা’। কলকাতায় চলছে সে ‘যাত্রা’র পরিসমাপ্তি পর্ব, অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ব্রিগেড সমাবেশের প্রস্তুতি। কিন্তু সেই প্রস্তুতি কিয়দংশে থমকে গেল এসপিজির হস্তক্ষেপে। জনসভার মঞ্চ খুলে ফেলতে বলল প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা বাহিনী। মাটির তলা পরীক্ষা করে দেখে তবেই মঞ্চ বাঁধা যাবে, তার আগে নয়। এসপিজির তরফ থেকে জানানো হল প্রস্তুতির দায়িত্বে থাকা বিজেপি নেতাদের। তাই মঙ্গলবারই খুলে ফেলা হতে পারে মঞ্চের কাঠামো।
গত রবিবার থেকে ব্রিগেডের মাঠকে জনসভার জন্য সাজিয়ে তোলার কাজ শুরু করেছে বিজেপি। শুধু রাজনৈতিক জনসভা অবশ্য নয়, এ রাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর শেষ ছ’টি কর্মসূচির মতো এটির ক্ষেত্রেও প্রথমে প্রশাসনিক সভা, তার পরে জনসভা। প্রশাসনিক সভাস্থল থাকছে মূল সভামঞ্চের একটু পিছন দিকে মাঠের এক পাশ ঘেঁষে। তার দায়িত্বে বিভিন্ন সরকারি বিভাগ, যে সব বিভাগের নানা প্রকল্পের শিলান্যাস বা উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রী আগামী শনিবার ব্রিগেডে দাঁড়িয়েই করবেন। আর মূল সভামঞ্চের নির্মাণ এবং মাঠ সাজিয়ে তোলার কাজ দেখভাল করছেন বিজেপি নেতা রাজু বন্দ্যোপাধ্যায়। সঙ্গে রয়েছেন অনল বিশ্বাস, কৃষ্ণেন্দু মুখোপাধ্যায়রা। মঙ্গলবার বিকেলে রাজু-অনলদের রক্তচাপ খানিকটা বাড়িয়ে দিয়েছে এসপিজি। প্রধানমন্ত্রীর সভাস্থল পরিদর্শন করতে এসে এসপিজি কর্তারা জানিয়েছেন, মঞ্চ খুলে ফেলতে হবে। কারণ যেখানে মঞ্চ বাঁধা হয়েছে, সেখানে মাটির তলায় অনুসন্ধান প্রয়োজন রয়েছে।
ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রীর জনসভার এই মঞ্চই খুলে ফেলা হচ্ছে। ছবি: ঈশানদেব চট্টোপাধ্যায়।
মোদীর সভার জন্য ব্রিগেডে যে মঞ্চ বাঁধা হচ্ছে, তা পুরোটাই হ্যাঙারের আচ্ছাদনের নীচে থাকছে। সেই হ্যাঙার খাড়া করা হয়ে গিয়েছে। মাথার উপরে, দু’পাশে এবং পিছনে আচ্ছাদনের কাজও হয়ে গিয়েছে। তার ভিতরে লোহার স্তম্ভের উপরে কাঠের পাটাতন বসিয়ে মঞ্চের মূল কাঠামোও তৈরি। এমন এক পরিস্থিতিতে এসপিজি জানিয়েছে যে, মঞ্চের নীচের মাটি পরীক্ষা করতে হবে। মাটির উপরে তো বটেই, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে মাটির গভীরেও পরীক্ষা করা দরকার। কোথাও কোনও বিপদের সম্ভাবনা নেই, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া দরকার। সুতরাং মঞ্চের কাঠামো খুলে ফেলতে হবে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে এসপিজি সন্তুষ্ট হলে সেখানে মঞ্চ বাঁধা যাবে।
মঙ্গলবার বিকেলে মঞ্চের সামনে দাঁড়িয়ে এসপিজির লোকজনের সঙ্গে রাজুকে দীর্ঘ ক্ষণ আলাপ-আলোচনা চালাতে দেখা যায়। রাজুকে সঙ্গে নিয়ে তাঁরা হ্যাঙারের ভিতরে ঢুকে মঞ্চের পিছন দিকের অংশও ঘুরে দেখেন। সেখানে দাঁড়িয়েও বেশ কিছু ক্ষণ আলোচনা চলে। তার পরে মঞ্চ বাঁধার কাজে নিযুক্ত সংস্থার লোকজনকে জানিয়ে দেওয়া হয় যে, এসপিজি মঞ্চ খুলে ফেলতে বলেছে। তবে হ্যাঙারটি না-ও খুলতে হতে পারে বলে বিজেপি সূত্রের খবর।
আগামী শনিবার, অর্থাৎ ১৪ মার্চ ব্রিগেডে মোদীর সভা। অর্থাৎ মাঝে মাত্র তিন দিন। গত তিন দিন ধরে যে মঞ্চ খাড়া করা হয়েছিল, তা এখন খুলে ফেললে সময়মতো আবার বেঁধে ফেলা যাবে কি না, তা নিয়ে রাজ্য বিজেপি চিন্তায় পড়েছে। মাঠের প্রস্তুতির দায়িত্বে যাঁরা রয়েছেন, তাঁদের একাংশ অবশ্য দাবি করছেন, মঞ্চ নতুন করে বাঁধতে খুব বেশি সময় লাগবে না। গোটা মাঠ জুড়ে শালখুঁটি এবং বাঁশের ব্যারিকেড তৈরি করা, জমায়েত সুষ্ঠু রাখার জন্য মাঠকে আলাদা আলাদা ব্লকে ভাগ করে দেওয়া, অস্থায়ী স্তম্ভ তৈরি করিয়ে তার মাথায় মাইক বা সাউন্ডবক্স লাগানো-সহ নানা কাজ সময়মতো শেষ করা বরং বেশি কঠিন। সেই কাজ অনেকটাই এগিয়ে গিয়েছে। তাই মঞ্চ এখন খুলে দিতে হলেও পরিস্থিতি সামলে দেওয়া যাবে বলে বিজেপি নেতারা আশা করছেন।