—প্রতীকী চিত্র।
যোগী রাজ্যের মেরঠে মার্চেন্ট নেভি অফিসার সৌরভ রাজপুতের হৃদ্পিণ্ডে ধারালো অস্ত্র চালিয়ে তাঁর দেহ একটি নীল ড্রামে ঢুকিয়ে সিমেন্ট দিয়ে ওই ড্রাম ভর্তি করে দিয়েছিলেন সৌরভের স্ত্রী ও প্রেমিক। সেই কাণ্ডের ছায়া এ বার পশ্চিমবঙ্গে। নীল ড্রাম থেকে উদ্ধার হল দেহ। বুধবার সকালে হুগলি জেলার ভদ্রেশ্বরের ঘটনা।
বুধবার সকালে শ্বেতপুরের দিল্লি রোড সংলগ্ন একটি অঞ্চলের জমিতে বস্তা বাঁধা নীল ড্রাম পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়েরা। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় পুলিশ ফাঁড়িতে। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে বস্তা থেকে ড্রাম বার করে তার ভিতর থেকে এক যুবকের দেহ উদ্ধার করে।
পুলিশ সূত্রে খবর, উদ্ধার হওয়া গলা কাটা দেহটি ছিল নগ্ন ও ঝলসানো। মধ্য বয়স্ক ওই অজ্ঞাত পরিচয় ব্যক্তির দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে চুঁচুড়া ইমামবাড়া হাসপাতালে। কাকে কেন কে বা কারা খুন করেছে, তা জানতে তদন্ত চলছে। প্রাথমিক ভাবে পুলিশের অনুমান, অন্য কোথাও খুন করে দেহ ড্রামে ভরে ভদ্রেশ্বরে ফেলা হয়েছিল।
গত বছর মার্চে মেরঠে মার্চেন্ট নেভি অফিসারকে খুন করে নীল ড্রামে ঢুকিয়ে দেওয়ার খবর প্রকাশ্যে আসে। তার পরে একধিক ‘নীল ড্রাম’ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। ওই বছরের জুন মাসেই পঞ্জাবের লুধিয়ানায় একটি নীল ড্রাম থেকে এক তরুণের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর গলার সঙ্গে হাত ও পা বাঁধা ছিল দড়ি দিয়ে। গত বছরের অক্টোবরে মধ্যপ্রদেশের দেওয়াসে নীল ড্রামের ভিতর থেকে ২২ বছরের তরুণীর হাত-পা বাঁধা পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়েছিল। এই ঘটনায় তাঁর ‘বন্ধু’ মনু ওরফে মনোজ চৌহান থানায় গিয়ে আত্মসমর্পণ করেছিলেন।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে উত্তর প্রদেশের লখনউয়ের ওযুধ ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র সিংহকে গুলি করে মেরে দেহ খণ্ড করে অর্ধেক নীল ড্রামে রেখে অর্ধেক পাশের গ্রামে ফেলে দিয়েছিলেন ছেলে। এ বছরেরই মার্চ মাসে যোগী রাজ্যের বুলন্দ শহরের যুবক রাজকুমার দেখেছিলেন, সমাজমাধ্যমে তাঁর স্ত্রী লিখেছেন ‘নীল ড্রাম এবং সিমেন্ট’। ওই পোস্ট দেখেই স্ত্রীকে প্রেমিকের হাতে তুলে দিয়েছিলেন স্বামী। এ বার পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে দেখা গেল ‘নীল ড্রাম’ হত্যাকাণ্ড।