Lucknow Murder

বাবাকে গুলি করে মেরে খণ্ড করলেন দেহ, অর্ধেক রাখলেন নীল ড্রামে, অর্ধেক ফেলে দিলেন পাশের গ্রামে! গ্রেফতার পুত্র

বাড়ির নীচের তলার একটি তালাবন্ধ ঘর খুলতেই নীল ড্রাম চোখে পড়ে পুলিশের। ঢাকনা বন্ধ করা। সন্দেহ হয় পুলিশের। ড্রামের ঢাকনা খুলতেই দেখা যায় ব্যবসায়ী মানবেন্দ্রের খণ্ড করা দেহ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক
শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:২৭
(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত অক্ষত সিংহ। (মাঝে) এই ড্রামের ভিতরে উদ্ধার হয় দেহ। (ডান দিকে) নিহত মাবনবেন্দ্র সিংহ। ছবি: সংগৃহীত।

(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত অক্ষত সিংহ। (মাঝে) এই ড্রামের ভিতরে উদ্ধার হয় দেহ। (ডান দিকে) নিহত মাবনবেন্দ্র সিংহ। ছবি: সংগৃহীত।

বাবা চাইতেন ছেলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় বসুন। নিট পরীক্ষা দিন। কিন্তু ছেলে তা চাইতেন না। এ নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে প্রায়শই অশান্তি হত। শুক্রবার বিকেলে সেই অশান্তি চরমে পৌঁছোয়। তার পর থেকেই নিখোঁজ হয়ে যান উত্তরপ্রদেশের লখনউয়ের ওষুধ ব্যবসায়ী মানবেন্দ্র সিংহ। থানায় গিয়ে বাবার নিখোঁজ ডায়েরিও করে আসেন ছেলে অক্ষত সিংহ। শুক্রবার থেকেই নিখোঁজ ছিলেন মানবেন্দ্র। কিন্তু তদন্তে নামতে যে তথ্য প্রকাশ্যে এল, তাতে হতবাক পুলিশ আধিকারিক থেকে পড়শিরা।

Advertisement

বাড়ির নীচের তলার একটি তালাবন্ধ ঘর খুলতেই নীল ড্রাম চোখে পড়ে পুলিশের। ঢাকনা বন্ধ করা। সন্দেহ হয় পুলিশের। ড্রামের ঢাকনা খুলতেই দেখা যায় ব্যবসায়ী মানবেন্দ্রের খণ্ড করা দেহ। দেহের উপরের অংশ থেকে গায়েব। দেহের নীচের অংশ ড্রামের মধ্যে ঢোকানো। পুলিশ জানিয়েছে, মানবেন্দ্রের দেহ উদ্ধার হতেই তাঁর ছেলে অক্ষত দাবি করেন, তাঁর বাবা আত্মঘাতী হয়েছেন। শুধু তা-ই নয়, তিনিও চমকে ওঠার ভান করে কান্নাকাটি শুরু করে দেন। কিন্তু এখানেই পুলিশের সন্দেহ আরও দৃঢ় হয়। অক্ষতকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে। তদন্তকারী এক আধিকারিকের দাবি, জেরার মুখে বাবাকে খুনের কথা স্বীকার করেন অক্ষত।

কেন খুন, কী ভাবে খুন করলেন, তা-ও জানতে পেরেছে পুলিশ। প্রাথমিক ভাবে পুলিশ জানতে পেরেছে, প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দিতে চাইতেন না অক্ষত। কিন্তু তাঁর বাবা তাঁকে এ বিষয়ে জোরাজুরি করতেন। শুক্রবার বিকেলেও একদফা অশান্তি হয় বাবা-ছেলের। তার পর মানবেন্দ্র দিল্লিতে ব্যবসার কাজে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। সেই সময় আচমকাই তাঁর লাইসেন্সড রাইফেল নিয়ে মানবেন্দ্রের মাথায় গুলি করেন। গুলির আওয়াজে অক্ষতের বোন বেরিয়ে আসেন। বোন দেখে ফেলায় তাঁকে হুমকি দেন বলে অভিযোগ। কাউকে কিছু বললে, তাঁকে প্রাণে মেরে ফেলবেন বলে হুমকি দেন অক্ষত। সেই ভয়ে মুখ খোলেনি অক্ষতের বোন। শুধু চোখের সামনে দেখেছেন কী ভাবে বাবাকে খুন করার পর তাঁর দেহ খণ্ড করেন তাঁর দাদা।

পুলিশ জানতে পেরেছে, মানবেন্দ্রকে খুনের পর তাঁর দেহ বাড়ির চারতলা থেকে নামিয়ে নীচের তলায় নিয়ে এসেছিলেন অক্ষত। একটি ফাঁকা ঘরে দেহ নিয়ে যান। তার পর মানবেন্দ্রের দেহ খণ্ড করেন। দেহের উপরের অংশ টুকরো করে কাটেন। তার পর সেগুলি প্যাকেটে ভরে পাশের গ্রাম সদারুনাতে গিয়ে ফেলে আসেন। দেহের নিম্নাংশ বাড়ির নীচেরতলায় একটি ঘরে ড্রামের মধ্যে ভরে রাখেন। বাড়ি থেকে ১০ লিটার কেরোসিন তেল উদ্ধার হয়েছে। পুলিশের সন্দেহ, ঘরে ড্রামের মধ্যে রাখা দেহাংশ পুড়িয়ে ফেলার পরিকল্পনা ছিল অক্ষতের।

পুলিশ সূত্রে খবর, নিটের প্রস্তুতি ঠিক মতো হচ্ছে না, এই নিয়ে ছেলেকে বকাঝকাও করতেন মানবেন্দ্র। অক্ষত বাণিজ্য বিভাগ নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। দ্বাদশ পাশ করেন জীববিদ্যা নিয়ে। লখনউয়ে বাবা এবং বোনের সঙ্গে থাকতেন। ২০১৮ সালে তাঁর মায়ের মৃত্যু হয়েছে।

Advertisement
আরও পড়ুন