বহরমপুরে শনিবার সকালে অবৈধ নির্মাণ ভাঙছে বুলডোজ়ার। — নিজস্ব চিত্র।
বেআইনি ভাবে তৈরি হওয়া দোকানঘর ভেঙে দিতে শনিবার দুপুরে নন্দীগ্রামে চলল প্রশাসনের বুলডোজ়ার। সকালে বহরমপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডেও চলে অভিযান। পুরসভার চেয়ারম্যান জানান, আইন আইনের পথেই চলবে। বুলডোজ়ার অভিযান চলে হলদিয়া, আসানসোলেও। হলদিয়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে রাজ্য সড়কের পাশে গজিয়ে ওঠা বেশ কিছু অবৈধ দোকান ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে।
শনিবার সকালে নন্দীগ্রাম হাসপাতাল এবং সিএমওএইচ দফতর চত্বরে সরকারি জায়গায় অবৈধ ভাবে তৈরি অস্থায়ী দোকান ভেঙে ফেলা হয়। অভিযোগ, এই অস্থায়ী দোকানগুলিকে বারবার নোটিস দেওয়া সত্বেও সরকারি জায়গা খালি করছিল না। সে কারণে সরকারি জায়গা খালি করার জন্য চালানো হয় বুলডোজ়ার।
স্থানীয় সূত্রে খবর, বহরমপুর পুরসভার ২১ নম্বর ওয়ার্ডে বেআইনি ভাবে কিছু দোকানঘর নির্মাণ করা হয়েছিল। অভিযোগ, পূর্বতন রাজ্য সরকারের মদতে ওই দোকানগুলি নির্মাণ করা হয় এবং তার পরে তা বিভিন্ন ব্যবসায়ীর কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। শনিবার সকালে পুলিশবাহিনীকে সঙ্গে নিয়ে পুরসভা এবং মহকুমা প্রশাসনের কর্তারা বুলডোজ়ার দিয়ে ওই বেআইনি দোকানগুলি ভেঙে ফেলেন।
স্থানীয় বিজেপি বিধায়ক কাঞ্চন মৈত্র বলেন, ‘‘তৃণমূল পরিচালিত পুরসভা বেআইনি ভাবে এবং মোটা অঙ্কের কাটমানি খেয়ে এই দোকানগুলি তৈরি করে বিক্রি করেছিল। এত দিন এ রাজ্যে প্রশাসন বলে কিছু ছিল না। এখন রাজ্যে আইনশৃঙ্খলা এবং প্রকৃত প্রশাসন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রশাসন নিরপেক্ষ ভাবে কাজ করতে পারছে বলেই এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করা সম্ভব হল।’’
‘কাটমানি’ নেওয়ার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন বহরমপুর পুরসভার চেয়ারম্যান নাড়ুগোপাল মুখোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘‘যদি কোনও নির্মাণ নিয়ম বহির্ভূত ভাবে তৈরি হয়ে থাকে, তবে আইন সর্বদা আইনের পথেই চলবে। প্রশাসন তার নিজের নিয়মে কাজ করছে।’’ তার পরেই তিনি বলেন, ‘‘তবে পুরসভার চেয়ারম্যান হিসাবে আমি এটুকু দায়িত্ব নিয়ে বলতে পারি, এখানে কোনও কাটমানি নেওয়া হয়নি। বিরোধীদের এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।’’
শনিবার সকালে হলদিয়া পুরসভার ১৪ নম্বর ওয়ার্ডে বুলডোজ়ার চালিয়ে বেআইনি ভাবে নির্মিত বেশ কিছু দোকান এবং অস্থায়ী বাড়ি ভাঙার কাজ চলে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সেখানে রয়েছে হলদিয়া থানার পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনী। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, পাঁচ দিন আগেই ওই জায়গা খালি করার নোটিস দিয়েছিল পুর প্রশাসন। শনিবার সেই মর্মে ভাঙার কাজ শুরু করা হয়।
আসানসোল রেল ডিভিশনের অন্তর্গত বরাকরে রেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে আবার বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। শনিবার বরাকরের বলতোড়িয়া এলাকার উপর ধাওড়ায় রেলের জমি দখলমুক্ত করতে বুলডোজ়ার নিয়ে নামেন রেল কর্তৃপক্ষ। বহু বছর ধরে রেলের জমির উপর গড়ে ওঠা একাধিক অবৈধ ঝুপড়ি ও কাঁচা বাড়ি ভেঙে ফেলা হয় এই অভিযানে।
এর আগে গত ১৯ মে একই এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে প্রায় ৫০০ ফুট জায়গা ‘দখলমুক্ত’ করা হয়েছিল। সেই সময় ছয়টি ঝুপড়ি ও কাঁচা বাড়ি ভেঙে ফেলা হয়। এ বার দ্বিতীয় দফার অভিযানে ধাওড়া এলাকায় রেল লাইনের পাশে অবৈধ নির্মাণ ভেঙে ফেলা হয়।
অবৈধ নির্মাণ নিয়ে ‘জ়িরো টলারেন্স’ নীতি অবলম্বনের কথা জানিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর নির্দেশের পরই বিভিন্ন জায়গার অবৈধ নির্মাণ চিহ্নিত করে নোটিস পাঠাতে শুরু করে রাজ্যের বিভিন্ন পুরসভা। এর আগে কলকাতার তিন জায়গা— তিলজলা, কসবা এবং বেলেঘাটা চলে বুলডোজ়ার অভিযান। শনিবার চলল নন্দীগ্রাম, আসানসোল, বহরমপুর এবং হলদিয়ায়।