—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
‘ভয় আউট, ভরসা ইন’— বলেছিলেন বিজেপি নেতৃত্ব। শিল্পমহলের মতে, কথা রাখা হবে কি না সময় বলবে। তবে রাজ্যে প্রথম বিজেপি সরকারের প্রথম পূর্ণাঙ্গ বাজেটে শিল্পের প্রধান প্রাপ্তি এটাই। তোলাবাজি, সিন্ডিকেট, হুমকির পরিবেশের বদল এবং মনপ্রাণ খুলে ব্যবসায় ঝাঁপানোর বার্তা।
সোমবার বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত জানিয়েছেন, শিল্পে হস্তক্ষেপ এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করে লগ্নির পরিবেশ উন্নত করা প্রয়োজন। এতে নতুন পুঁজি আসবে। শিল্পও প্রসারিত হবে। ব্যবসাকে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য থেকে রক্ষা করতে আসবে কড়া আইন। শিল্পমহল মনে করছে, লগ্নি টানতে রাজনৈতিক সিন্ডিকেটরাজের উপর খড়্গহস্ত হতে দেখা যায়নি আগের কোনও সরকারকে। শহরের সব বণিকসভা ও শিল্পের কর্তাই যার দরাজপ্রশংসা করেছেন।
এ দিন প্রত্যাশা মতোই বড় শিল্পের জন্য শহরাঞ্চলে জমি অধিগ্রহণের ঊর্ধ্বসীমা সংক্রান্ত আইন পর্যালোচনার কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। যে সীমার কারণে বাংলায় বড় জমি পাওয়া যায় না। ফলে আসে না বড় বিনিয়োগও, মন্তব্য তাঁর। তবে কবে নাগাদ তা হবে স্পষ্ট নয়। ভারত চেম্বারের সভাপতি নরেশ পাচিসিয়া একে ‘যুগান্তকারী’ আখ্যা দেন। ব্যবসার পরিবেশ সহজ করতেও একাধিক ঘোষণা হয়েছে। যেমন, প্রকল্পের মূল্য ১০০ কোটি টাকার বেশি হলে স্থানীয় জেলা পরিষদ, পঞ্চায়েত কিংবা পুরসভার ছাড়পত্র লাগবে না। এই পদ্ধতিকে আরও সহজ, সরল ও পেশাদার করতে গড়া হবে বিশেষজ্ঞ কমিটি। চার মাসের মধ্যে তারা রিপোর্ট দেবে। শিল্পের ও সরকারকে হাতে থাকা অব্যবহৃত জমি চিহ্নিত করে তৈরি হবে জমি ব্যাঙ্ক।
রাজ্য ‘শপ অ্যান্ড এস্টাবলিশমেন্ট’ আইনে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ২৪ ঘণ্টা ব্যবসার অনুমতি দেওয়া হবে। এই সংস্কার প্রথম হবে কলকাতা ও বড় শহরাঞ্চলে, জানান স্বপন। এই বাজেটকে ভবিষ্যৎমুখী তকমা দিয়েছেন শিল্পপতি সঞ্জীব গোয়েনকা। জানান, পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে রাজ্যে বৃদ্ধির নতুন সুযোগ খুলবে।
বাজেটে বড় ও ছোট শিল্পের জন্য রাজ্যের শিল্প করিডর বরাবর তালুক গড়তে ৫০০০ কোটি টাকার তহবিল নিয়ে ‘পশ্চিমবঙ্গ ইনভেস্টমেন্ট প্রোমোশন ফ্রেমওয়ার্ক’ চালুর ঘোষণা হয়েছে। শিল্পকর্তা হর্ষ নেওটিয়া বলেন, ‘‘এই বাজেটের আশার দিকটি হল, বৃদ্ধিকে একটি সামগ্রিক ‘বাস্তুতন্ত্র’ বা ‘ইকোসিস্টেম’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। ঘোষণাগুলি বাস্তবায়িত হলে কাজ, লগ্নি সব হবে।’’ বণিকসভা ফিকি স্বাগত জানিয়েছে এই ঘোষণাকে।
পিএম বিশ্বকর্মা প্রকল্প, বাংলার উদ্যম ক্রেডিট কার্ড প্রকল্প চালুর ঘোষণা ক্ষুদ্রশিল্পের জন্য ইতিবাচক বলেছে সংশ্লিষ্ট সংগঠন ফসমি ও ফ্যাকসি। উদ্যমে ২ লক্ষ যুবককে ২০০ কোটি টাকার ঋণের সুবিধা দেওয়া হবে। রাজ্যের যুবকেরা কার্যত বিনা সুদে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ধার পাবেন। বস্ত্র শিল্পের প্রসার এবং এর সঙ্গে যুক্ত শিল্পী ও কর্মীদের মানোন্নয়নের জন্য ঘোষণা হয়েছে টেক্স-র্যাম্পস প্রকল্প। শিল্পকর্তা সঞ্জয় বুধিয়ার মতে, ‘‘এই বাজেট রাজ্যের বাইরে বসবাসকারীদের বার্তা দিচ্ছে, বাংলায় ব্যবসার অনুকূল পরিবেশ রয়েছে। তাই বাংলায় ফিরে আসুন।’’
বাজেটে নতুন স্টার্ট আপ নীতি, এই ক্ষেত্রের বিশেষ তহবিল গঠন, নতুন সেমিকনডাক্টর পার্কের কথা বলা হয়েছে। স্বপন বলেন, ‘‘তিন মাসের মধ্যে স্টার্ট-আপ নীতি চালু হবে। তাতে ১০০ কোটি টাকার তহবিল থাকবে। আনা হবে জিসিসি পলিসিও।’’ দুর্গাপুরে একটি সেমিকনডাক্টর পার্ক তৈরি হবে। প্রযুক্তিবিদদের টানতে এবং বাংলায় ‘ডিপ টেক স্টার্ট-আপ ইকোসিস্টেম’ গড়ে তুলতে ৫০ কোটি টাকার তহবিল তৈরি হবে। শিলিগুড়ি তথ্যপ্রযুক্তি তালুকে ২৬ কোটি টাকা লগ্নিতে উন্নয়ন ও সম্প্রসারণকরা হবে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং-এ লগ্নি টানতে আর্থিক উৎসাহ ভাতা আনার কথাও বলা হয়েছে। বণিকসভা মার্চেন্টস চেম্বারের সভানেত্রী প্রীতি সুরেখা জানান, পশ্চিমবঙ্গকে এআই হাব করতে রাজ্যের পদক্ষেপ প্রশংসনীয়। ক্রেডাই ওয়েস্ট বেঙ্গলের চেয়ারম্যান সুশীল মোহতার দাবি, ঠিক পথে এগিয়ে চলার বাজেট এটি। ।