Life imprisonment

তরুণীকে খুন করে ব্যাগে দেহ, দুর্গাপুরে ব্যাঙ্ককর্তার যাবজ্জীবন

২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে এক আবাসনে লিফ‌্টের সামনে ছোট ঘর থেকে শিল্পা আগরওয়ালের (২৮) পচন ধরা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ০১ জুলাই ২০২৬ ০৭:৫৫

—প্রতীকী চিত্র।

তরুণীকে খুন করে ট্রলিব্যাগে দেহ ভরে রাখার ঘটনায় ধৃত ব্যাঙ্ক ম্যানেজারকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সাজা দিল দুর্গাপুর আদালত। সোমবার বিচারক প্রশান্ত চৌধুরী অভিযুক্ত রাজীব কুমারকে দোষী সাব্যস্ত করেন। মঙ্গলবার খুনের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং দেহ লোপাটের চেষ্টায় সাত বছরের কারাদণ্ড ও ১০ হাজার টাকা জরিমানার সাজা শোনান। মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবীদেবব্রত সাঁই জানান, দু’টি সাজাই একসঙ্গে চলবে।

২০১৮ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি দুর্গাপুরের বেনাচিতিতে এক আবাসনে লিফ‌্টের সামনে ছোট ঘর থেকে শিল্পা আগরওয়ালের (২৮) পচন ধরা দেহ উদ্ধার করে পুলিশ। ওই আবাসনে ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে থাকতেন বাঁকুড়ার মেজিয়ার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের ম্যানেজার রাজীব। অভিযোগ, সেখানে ‘ব্যাঙ্কমিত্র’ হিসেবে কাজ করা শিল্পার সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

পুলিশ সূত্রের খবর, সেই বছর ৯ ফেব্রুয়ারি রাজীবের স্ত্রী মনীষা রাঁচীতে মায়ের কাছে যান। সে দিন রাজীবের ফ্ল্যাটে আসেন শিল্পা। ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করে দেহ পরিত্যক্ত রেফ্রিজ়ারেটরে ভরেন রাজীব। ১২ ফেব্রুয়ারি রাঁচী থেকে ফেরেন মনীষা। তার পরে প্রায় সাত হাজার টাকা দিয়ে বাজার থেকে ট্রলিব্যাগ কিনে শিল্পার দেহ তাতে ভরে লিফ্টের সামনের ঘরে রাখেনরাজীব। ১৫ ফেব্রুয়ারি মনীষা পুলিশকে জানান, আবাসনে এক জনের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশ রাজীব ও মনীষাকে গ্রেফতার করে। পুলিশের দাবি, রাজীব জেরায় জানায়, শিল্পা বিয়ের জন্য বার বার চাপ দেওয়ার ফলেই তাঁকে খুন করা হয়েছিল। ঘটনায় তাঁর যোগের তেমন প্রমাণ না মেলায়, মনীষাকে মামলা থেকে মুক্তি দেওয়া হয়। আদালতে ২১ জন সাক্ষ্য দেন। সাজা ঘোষণার পরে শিল্পার দাদা সন্দীপ আগরওয়াল বলেন, “বোনের আয়ে পরিবার চলত। দোষীর ফাঁসি চেয়েছিলাম।”

আরও পড়ুন