Teacher Recruitment Case

প্রাথমিক নিয়োগ মামলা: মানিক ‘ঘনিষ্ঠ’ বীরভূমের সেই বিভাসকে তলব ইডির! নকল থানা খোলার অভিযোগে গ্রেফতার হন

প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি তথা তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতারের পরই এই মামলায় নাম জড়ায় বীরভূমের নলহাটির ২ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি বিভাসের।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ১৩:০৩
প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত বিভাস অধিকারী। ফাইল চিত্র।

প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত বিভাস অধিকারী। ফাইল চিত্র।

প্রাথমিক নিয়োগ মামলায় বীরভূমের সেই বিভাস অধিকারীকে তলব করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ইডি)। সিবিআইয়ের পাশাপাশি ইডিও তদন্ত শুরু করেছিল এই মামলায়। এর আগে ইডি এবং সিবিআই দুই তদন্তকারী সংস্থাই বিভাসের একাধিক ঠিকানায় তল্লাশি চালিয়েছিল। সিবিআই তাঁকে বেশ কয়েক বার তলবও করেছিল। নিয়োগ মামলায় বিভাসের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিটও জমা করেছে আদালত। এ বার সেই বিভাসকেই তলব করল আর এক তদন্তকারী সংস্থা।

Advertisement

প্রসঙ্গত, প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের অপসারিত সভাপতি তথা তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচার্যকে গ্রেফতারের পরই এই মামলায় নাম জড়ায় বীরভূমের নলহাটির ২ নম্বর ব্লকের প্রাক্তন তৃণমূল সভাপতি বিভাসের। তিনি মানিকের ‘ঘনিষ্ঠ’ বলে পরিচিত ছিলেন। বেসরকারি বিএড এবং ডিএলএড কলেজ সংগঠনের প্রাক্তন সভাপতিও ছিলেন বিভাস।

মানিকের গ্রেফতারির পর পরই ইডি আধিকারিকেরা উত্তর কলকাতার আমহার্স্ট স্ট্রিটে একটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়েছিল। সেই ফ্ল্যাটের সঙ্গে বিভাসের যোগ রয়েছে বলে দাবি করে ইডি। তল্লাশি অভিযানের পর সেই ফ্ল্যাট সিলও করে দেওয়া হয়। ২০২৩ সালে এপ্রিল মাসে বীরভূমে বিভাসের বাড়ি এবং আশ্রমে তল্লাশি অভিযান চালায় সিবিআই। সেখান থেকে প্রচুর নথি বাজেয়াপ্ত করে তারা। তার পর বার কয়েক নিজাম প্যালেসে তাঁকে ডেকে পাঠান সিবিআই আধিকারিকেরা।

উল্লেখ্য, বিভাসকে কেন গ্রেফতার করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নিয়োগ দুর্নীতিতে ধৃত হুগলির বলাগড়ের প্রাক্তন তৃণমূল যুবনেতা কুন্তল ঘোষ। শুধু তা-ই নয়, নিয়োগ দুর্নীতিতে নাম জড়ানো গোপাল দলপতিও বিভাসের বিরুদ্ধে সরব হয়েছিলেন। পরে নলহাটিতে বিভাসের বাড়ি এবং আশ্রমে হানা দেয় সিবিআই।

২০২৫ সালের অক্টোবরে প্রাথমিকে নিয়োগ দুর্নীতির মামলায় চূড়ান্ত চার্জশিট জমা দেয় সিবিআই। নিয়োগ মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত মানিক ভট্টাচার্য, বিভাস অধিকারী এবং রত্না বাগচীর বিরুদ্ধে চার্জশিট পেশ করা হয়। প্রাথমিকে নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুরপথে ৩৫০ জনকে চাকরি দেওয়া হয়েছিল বলে সিবিআইয়ের তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্তকারীদের সন্দেহ, এই চক্রে এজেন্ট হিসাবে কাজ করছিলেন বিভাস। তাঁর বিরুদ্ধে নকল থানা চালানোরও অভিযোগ ওঠে। এক সময় নয়ডা পুলিশ গ্রেফতারও করেছিল বিভাসকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতেরা দাবি করতেন, তাঁদের ব্রিটেনেও অফিস রয়েছে। ইন্টারপোল এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গেও যোগাযোগ রয়েছে তাঁদের। পুলিশের দাবি, এই নথি দেখিয়েই অভিযুক্তেরা মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করতেন।

Advertisement
আরও পড়ুন