Post Poll Violence

২০২১ সালের ভোটপরবর্তী হিংসাকবলিত এলাকায় কারা ওসি ছিলেন, ডিজির কাছে তালিকা চাইল নির্বাচন কমিশন

রবিবার রাতে কলকাতায় এসেছে জ্ঞানেশ-নেতৃত্বাধীন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সফরের তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর সঙ্গে বৈঠক করে তারা। সেই বৈঠকে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডেও।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১০ মার্চ ২০২৬ ১৯:৫৩
Election Commission asks DGP Piyush Pandey for list of OCs during 2021 post-poll incidents

রাজ্য পুলিশ-প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠক করেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের নানা প্রান্তে অশান্তির ঘটনা ঘটেছিল। তা নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল রাজ্য-রাজনীতি। আসন্ন বিধানসভা ভোটের আগে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে উঠল সেই প্রসঙ্গও। সেই সময় হিংসাকবলিত এলাকার থানাগুলিতে কারা ওসি ছিলেন, সেই তালিকা রাজ্য পুলিশের ডিজি পীযূষ পাণ্ডের কাছে চাইল কমিশন। শুধু তা-ই নয়, সংশ্লিষ্ট ওসিদের ঊর্ধ্বতন কর্তা কারা ছিলেন, তা-ও জানতে চেয়েছেন দেশের মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।

Advertisement

রবিবার রাতে কলকাতায় এসেছে জ্ঞানেশ-নেতৃত্বাধীন কমিশনের ফুল বেঞ্চ। সফরের তৃতীয় দিনে মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যসচিব নন্দিনী চক্রবর্তীর সঙ্গে বৈঠক করে তারা। সেই বৈঠকে ছিলেন রাজ্য পুলিশের ডিজি, মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় বাহিনীর নোডাল অফিসারেরা। সেই বৈঠকেই গত বারের ভোট-পরবর্তী হিংসার বিষয়টি ওঠে।

সূত্রের খবর, নন্দিনী-পীযূষদের সঙ্গে বৈঠকে ভোটপরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তোলেন জ্ঞানেশ। গত বার কী ঘটেছিল, তা স্মরণ করিয়ে দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, সেই সময় হিংসাকবলিত এলাকার ওসি এবং তাঁদের ঊর্ধ্বতন কর্তাদের তালিকা চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, জানতে চাওয়া হয়েছে ওই পুলিশ অফিসার এবং আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও বিভাগীয় তদন্ত করা হয়েছে কি না! পুরো বিষয়টি রিপোর্ট আকারে জমা দেওয়ার কথা বলেছেন জ্ঞানেশ।

পুলিশ-প্রশাসনের বৈঠকে মঙ্গলবারও কড়া মনোভাব দেখা যায় কমিশনের। সোমবারের বৈঠকেও কমিশনকে একই ভূমিকায় দেখা গিয়েছিল। জ্ঞানেশের ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় ডিজি (আইনশৃঙ্খলা) বিনীত গোয়েলকে। রাজ্যে মাদক নিয়ন্ত্রক উপদেষ্টা কমিটি নেই কেন, প্রশ্ন তোলেন জ্ঞানেশ। প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে কমিশনের ফুল বেঞ্চের বৈঠকে ‘ধমক’ খান রাজ্য এবং কেন্দ্রের বিভিন্ন আধিকারিক।

দু’দিনের বৈঠকে কমিশন বার বার স্পষ্ট করে দিয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে অবাধ এবং শান্তিপূর্ণ ভোট চায় তারা। সোমবার সব জেলার জেলাশাসক, পুলিশ কমিশনার, পুলিশ সুপারের সঙ্গে বৈঠকেও ভোটপরবর্তী হিংসার বিষয়টি তুলেছিল কমিশন। সূত্রের খবর, ওই বৈঠকে জ্ঞানেশ বলেন, ‘‘২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের পর পশ্চিমবঙ্গের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। গোটা দেশ দেখেছিল ভোট-পরবর্তী হিংসার ছবি।’’ কমিশনের নির্দেশ, ভবিষ্যতে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না-হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে প্রশাসনকেই।

উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ভোটপরবর্তী হিংসায় পশ্চিমবঙ্গের শাসকদল তৃণমূলকে কাঠগড়ায় তুলেছিল বিরোধীরা। অভিযোগ উঠেছিল, পুলিশ সব জেনেও নিষ্ক্রিয়। নানা প্রান্তে যা ঘটনা ঘটেছিল, তাতে হস্তক্ষেপ করে আদালতও। গঠন হয়েছিল বিশেষ বেঞ্চ। বিশেষ বেঞ্চ নির্দেশ দিয়েছিল, খুন, ধর্ষণের মতো গুরুতর মামলার তদন্ত করবে সিবিআই। মারধর এবং হুমকির মতো ঘটনার তদন্ত করবে কোর্টের নির্দেশে গঠিত রাজ্য পুলিশের বিশেষ দল। ঘরছাড়াদের কোর্টের নজরদারিতে বাড়িতে ফেরানোর নির্দেশও হয়েছিল। হিংসার শিকার হওয়া মানুষদের ক্ষতিপূরণেরও নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।

Advertisement
আরও পড়ুন