SIR in West Bengal

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের জেরে এসআইআর শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধির ভাবনা কমিশনের, পিছিয়ে যেতে পারে চূড়ান্ত তালিকাপ্রকাশ

আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির শেষ দিন। ওই মাসের ১৪ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। কমিশন সূত্রে খবর, শুনানির দিন বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা হয়নি বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে ।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২০ জানুয়ারি ২০২৬ ২০:১৩
Election Commission considering extending SIR hearing deadline due to order of Supreme Court, final list release may be delayed

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পরে শুনানির সময়সীমা বৃদ্ধি করা হতে পারে বলে জানাল নির্বাচন কমিশন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুনানির শেষ দিন। ওই মাসের ১৪ তারিখ চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা। কমিশন সূত্রে খবর, শুনানির দিন বৃদ্ধি করা হতে পারে। তবে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে আসা হয়নি বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে । সুপ্রিম কোর্টের রায় মোতাবেক বুধবার নির্দেশিকা প্রকাশ করা হবে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের দিনও পিছিয়ে যেতে পারে।

Advertisement

প্রসঙ্গত, ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ায় (এসআইআর) তথ্যগত অসঙ্গতির (লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি) তালিকা প্রকাশ করতে হবে নির্বাচন কমিশনকে। সোমবার শুনানিপর্বে এমনটাই নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। মঙ্গলবার শীর্ষ আদালত এ সংক্রান্ত ১০ দফা নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে। তাতে বলা হয়েছে—

১) তথ্যগত অসঙ্গতি (লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি) সংক্রান্ত তালিকা প্রকাশ করতে হবে। গ্রামের ক্ষেত্রে পঞ্চায়েত ভবন, ব্লক অফিসে, এবং শহরাঞ্চলে ক্ষেত্রে ওয়ার্ড অফিসগুলিতে ওই তালিকা প্রকাশ করতে হবে। এমন ভাবে প্রদর্শন করতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ দেখতে পান।

২) সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিরা নিজেদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমে নথি বা আপত্তি জমা দিতে পারবেন। এই প্রতিনিধি বুথ লেভেল এজেন্ট (বিএলএ)-ও হতে পারেন। তবে এর জন্য স্বাক্ষর বা আঙুলের ছাপযুক্ত একটি অনুমতিপত্র থাকতে হবে (প্রসঙ্গত, তৃণমূলের তরফে বার বার বিএলএ-দের অংশগ্রহণের দাবি তোলা হয়েছিল)।

৩) নথি বা আপত্তি পঞ্চায়েত অথবা ব্লক দফতরে জমা দেওয়া যাবে।

৪) পঞ্চায়েত অথবা ব্লক দফতরে তালিকা প্রকাশের দিন থেকে অতিরিক্ত ১০ দিন সময় দিতে হবে। যাঁরা এখনও দাবি, নথি বা আপত্তি জমা দেননি, তাঁদের জন্য এই বন্দোবস্ত।

৫) নির্বাচন কমিশন ও রাজ্য নির্বাচন কমিশনকে পর্যাপ্ত কর্মী নিয়োগ করতে হবে। যাতে পঞ্চায়েত ও ব্লকদফতরে নথি গ্রহণ ও শুনানির কাজ সুষ্ঠু ভাবে করা যায়।

৬) প্রয়োজনীয় কর্মী ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন নিয়ে কমিশন এবং রাজ্যের জারি নির্দেশ যথাযথ ভাবে পালন করতে হবে প্রত্যেক জেলাশাসককে।

৭) এই প্রক্রিয়ায় যাতে কোনও আইনশৃঙ্খলার সমস্যা না হয় তা দেখতে হবে রাজ্য পুলিশের ডিজি, প্রতিটি জেলার পুলিশ সুপার এবং জেলাশাসককে। সম্পূর্ণ প্রক্রিয়া যাতে নির্বিঘ্নে হয় তা নিশ্চিত করতে হবে।

৮) কোনও ভোটারকে নথি বা আপত্তি জমা দেওয়ার সুযোগের পাশাপাশি, ব্যক্তিগত ভাবে অথবা তাঁদের অনুমোদিত প্রতিনিধির মাধ্যমেও শুনানির সুযোগও দিতে হবে, যাতে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যায়।

৯) যে আধিকারিক নথি গ্রহণ বা শুনানি করবেন তাঁকে ওই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। (এ ক্ষেত্রে স্পষ্ট ভাষায় রসিদ দেওয়ার কথা বলা হয়নি। ফলে অনেকে মনে করছেন রসিদের পাশাপাশি, জমা দেওয়া নথির ফোটোকপিতে সিল দিয়েও ‘গ্রহণ করার’ কথা জানাতে পারে কমিশন। যদিও সাম্প্রতিক অতীতে বিহারে এসআইআর পর্বের সময় নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকায় স্পষ্ট ভাবে নথি গ্রহণের রসিদ দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল)।

১০) শুনানির সময় মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ড, যেখানে জন্মতারিখ উল্লেখ থাকে, তা মাধ্যমিক পাশ সার্টিফিকেটের বিকল্প নথি হিসাবে জমা দেওয়া যেতে পারে।

কমিশন সূত্রের খবর, এ রাজ্যের প্রায় ১ কোটি ৪০ লক্ষ ব্যক্তিকে নথি যাচাইয়ের জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। এই নোটিসপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মূলত তিনটি শ্রেণিতে ভাগ করা হয়েছে। ১) ম্যাপড ভোটার— যাঁদের নাম ২০০২ সালের এসআইআরে সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ২) আনম্যাপড ভোটার— যাঁদের নাম ২০০২ সালের এসআইআরে সঙ্গে যুক্ত নেই ৩) লজিক্যাল ডিসক্রিপ্যান্সি (তথ্যগত অসঙ্গতি রয়েছে এমন ভোটার)— যার মধ্যে প্রায় ১.৩৬ কোটি ভোটার অন্তর্ভুক্ত। অন্য দিকে, এখনও সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ এসে না পৌঁছলেও মঙ্গলবার যে সব জায়গায় বিএলএ ২ রা শুনানিতে থাকতে চেয়েছেন আপত্তি করেনি কমিশনের কর্তারা। চুঁচুড়া মগড়া বিডিও দফতরে কয়েকজন বিএলএ ২ ঢুকেছিলেন মঙ্গলবার।

Advertisement
আরও পড়ুন