লালবাজার। —ফাইল চিত্র।
২০২১ সালের নির্বাচন পরবর্তী হিংসার ঘটনায় অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের অবিলম্বে শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্যে লালবাজারকে নির্দেশ দিল নির্বাচন কমিশন। সম্প্রতি কলকাতা পুলিশের নগরপাল-সহ রাজ্য পুলিশের কর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হয় নির্বাচন কমিশনের প্রতিনিধিদের।
সূত্রের খবর, সেখানেই জামিন অযোগ্য গ্রেফতারি পরোয়ানা কার্যকর করার পাশাপাশি ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনপরবর্তী হিংসা ও অপরাধে যুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের বার্তা দেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, পাঁচ বছর আগে বিধানসভা নির্বাচন মিটতেইউত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন এলাকা। খোদ কলকাতায় নারকেলডাঙা থানা এলাকায় পিটিয়ে মারা হয় বিজেপি সমর্থককে। অভিযোগ ওঠে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে শাসকদলের দুষ্কৃতীরা ওই কাজ করেছে। প্রথমে কলকাতা পুলিশ খুনের ওই তদন্ত করলেও পরে তদন্তভার যায় সিবিআইয়ের হাতে। ওই ঘটনায় তৎকালীন নারকেলডাঙার ওসিকে গ্রেফতারও করা হয়েছিল।
লালবাজার জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশনের ওই নির্দেশ সব থানাকে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিবিআই ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচন পরবর্তী হিংসা এবং অপরাধের বিভিন্ন ঘটনার তদন্ত করলেও কলকাতা পুলিশের হাতে ছিল প্রায় ষাটটি মামলা। যার তদন্তভার রয়েছে কলকাতা পুলিশের বিশেষ দলের হাতে। সূত্রের খবর, ওই সব মামলার চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেফতারও করা হয়েছে। পুলিশের এক কর্তা জানান, ভোটের সময়ের শুধু নয়, ভোট পরবর্তী হিংসা বা অপরাধ রুখতে বদ্ধপরিকর নির্বাচন কমিশন। তাই ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসা এবং ২০২৪ সালের লোকসভা ভোটের আগে, ভোটের দিন এবং ভোটের পরে অশান্তির সময়ে সংশ্লিষ্ট থানার দায়িত্বে কোন কোন পুলিশ অফিসার ছিলেন, তাঁদের নামের তালিকা রাজ্যের কাছ থেকে চলতি সপ্তাহেই নিয়েছে কমিশন। উল্লেখ্য, রাজ্যের প্রশাসনিক কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে ভোট পরবর্তী হিংসার প্রসঙ্গ তুলে ছিলেন মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমার।
চাকরি থেকে অবসরের পরে পুনরায় নিযুক্ত পুলিশ কর্তারা কোন স্থায়ী বা নির্বাচন সম্পর্কিত পদে বহাল থাকতে পারবেন না বলে ওই দিনের বৈঠকে বলা হয়েছে। সে জন্যে কলকাতা পুলিশের নগরপালকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।
লালবাজার সূত্রের খবর, বিধানসভা নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ করতে বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছেন পুলিশের কর্তারা। দুষ্কৃতীদের মোকাবিলায় পুলিশ কতটা প্রস্তুত, তা জানতে শুক্রবার থানাগুলির কাছে হেলমেট, বডি প্রোটেক্টর, পলি কার্বোনেট লাঠি কতগুলি রয়েছে, তা জানতে চাইল লালবাজার। সে সবের আরও প্রয়োজন আছে কিনা, জানাতে বলা হয়েছে।