SIR

নথি আপলোড হয়নি, কড়া পথে কমিশন

জেলা প্রশাসনগুলির সুপারিশের ভিত্তিতেই এর আগে দু’দফায় শুনানির দিন বাড়িয়েছিল কমিশন। এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে শুনানি এবং বাকি থাকা নথি আপলোড করে ফেলার কথা ছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৬:১৬

—প্রতীকী চিত্র।

শুনানির শেষ হওয়ার আগে কিছু ভোটারের নথি ইআরও বা এইআরও-রা কেন আপলোড করেননি, সে ব্যাপারে প্রশ্ন তুলে কড়া অবস্থান নিতে চলেছে জাতীয় নির্বাচন কমিশন। প্রসঙ্গত, এ নিয়ে ইতিমধ্যেই রাজনৈতিক বিতর্কও শুরু হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিশানা করছেন কমিশনকে। এই অবস্থায় কমিশনের ‘কড়া অবস্থান’ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন অনেকে। একই সঙ্গে নথির প্রশ্নে কমিশন নজর আরও তীব্র করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে খবর। সূত্রের দাবি, যাচাইয়ের পর্বে এমন বহু নথি পাওয়া যাচ্ছে, যার সঙ্গে বাস্তবের মিল নেই। পাশাপাশি প্রত‍্যন্ত এলাকায় বসবাসকারী জনজাতি, তফসিলি জাতি, বনবাসী, আশ্রমের আবাসিক— এমন ভোটারদের জন‍্য পৃথক ব্যবস্থা করে সমস‍্যা সমাধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। আজ, বৃহস্পতিবারের মধ্যে জেলাশাসকদের এই তথ্য কমিশনকে পাঠাতে হবে।

জেলা প্রশাসনগুলির সুপারিশের ভিত্তিতেই এর আগে দু’দফায় শুনানির দিন বাড়িয়েছিল কমিশন। এই অতিরিক্ত সময়ের মধ্যে শুনানি এবং বাকি থাকা নথি আপলোড করে ফেলার কথা ছিল। ১৪ ফেব্রুয়ারি সেই সময়সীমা শেষ হয়েছে। তার পর থেকে নথি আপলোড করা যাচ্ছে না। প্রসঙ্গত, মঙ্গলবারই মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, আগেভাগেই আপলোডের সুবিধা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। কমিশন অবশ্য জানিয়েছিল, সময়সীমা শেষেই ওই সুবিধা বন্ধ করা হয়েছে। বুধবার কমিশন সূত্রের বক্তব্য, দু’বার সময় বাড়ানোর পরেও কেন ১ লক্ষ‌ ১৪ হাজার ৭৭২ জনের নথি আপলোড হয়নি? ইআরও এবং এইআরও-দের এই কাজের দায়িত্ব ছিল। সময়ে কাজ শেষ হবে না, সে কথাও কমিশনকে জানানো হয়নি। তাই নথি আপলোড না-করা ইআর‌ও-এইআর‌ওর ভূমিকা আতশকাচের তলায় এনেছে কমিশন। এ ক্ষেত্রে তা‌ঁদের ‘শো-কজ়’ করা হবে। প্রয়োজনে সাসপেন্ড করার রিপোর্টও পাঠানো হবে দিল্লির নির্বাচন সদনে। প্রসঙ্গত, আধিকারিকদের একাংশের উপরে রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক প্রভাবের অভিযোগ এবং প্রমাণ ইতিমধ্যেই পেয়েছে কমিশন। ফলে এ নিয়ে আরও জলঘোলা হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

প্রসঙ্গত, ১ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৭২ জনের তালিকা কতদূর ঠিক, তা‌ নিয়েও সন্দিহান রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) অফিস। সিইও মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, এর মধ্যে কত জন নথি দিয়েছিলেন তার তালিকা স‌ই করে ডিইও তথা জেলাশাসকদের জমা দিতে হবে। সেই তালিকা পাওয়ার পরেই আসল সংখ্যা জানা যাবে। সিইও-র বক্তব্য, “১ লক্ষ ১৪ হাজার ৭৭২ জনের মধ্যে যাঁদের নথি ঠিক ছিল না, তাঁদের তখনই অযোগ্য বলে দেওয়া হয়নি কেন?”

সূত্রের দাবি, ইতিমধ্যে কমিশনের যাচাইয়ে বহু নথির গরমিল ধরা পড়েছে। তার মধ্যে জন্মের শংসাপত্রের গরমিল বেশি। এমনও সামনে এসেছে যে জন্মের আগেই ‘রেজিস্ট্রেশন’ করা হয়েছে। যেমন, কারও জন্ম ১৯৯০ সালের ৩০ অক্টোবর। অথচ সরকারি নথিতেই রেজিস্ট্রেশন হয়েছে সে বছরের ২৩ অগস্ট! প্রশাসনিক সূত্রের মতে, জন্মের কিছু দিন পরে রেজিস্ট্রেশন হতে পারে। আগে হওয়া সম্ভব নয়। প্রশাসনের এক কর্তার কথায়, “এমন শংসাপত্র স্বাস্থ্য ও পরিবারকল‍্যাণ দফতরের নামে থাকলেও সাধারণত তা দেয় পঞ্চায়েত। এমন শংসাপত্র গ্রাহ্য না হওয়ারই কথা।” অনেক ক্ষেত্রে ভোটারের যে ছবি এনুমারেশন ফর্মে ছাপানো ছিল, পরে সেখানে অন্য ব্যক্তির ছবি সাঁটানো হয়েছে।

অন‍্য দিকে, প্রত‍্যন্ত এলাকায় জনজাতি, তফসিলি জাতি, বনবাসী, চা-বাগান এলাকার মানুষের একাংশের কাছে নথির সমস‍্যা দেখা গিয়েছে। এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলিও কমিশনকে নানা সময়ে জানিয়েছে। আশ্রমে বসবাসকারীদের ক্ষেত্রেও নথির সমস্যা থেকে গিয়েছে। কমিশনের সিদ্ধান্ত, পৃথক ব‍্যবস্থা চালু করে এই সমস্যার সমাধান বার করা হবে।

প্রসঙ্গত, কয়েক দিন আগে কমিশনের ফুল বেঞ্চের সামনে জনজাতিদের নথি-প্রশ্নে তোপের মুখে পড়েছিলেন পূর্ব বর্ধমানের জেলাশাসক আয়েষা রানি। পূর্ব বর্ধমানে এমন প্রায় সাড়ে ১১ হাজার জনজাতি বা তফসিলি ভোটার আছেন। এ ছাড়াও, ৬৫ জন নথিহীন যৌনকর্মী, ১০ জন আশ্রমিক এবং ২৯ জন বৃদ্ধাশ্রমবাসী আছেন। ওই ভোটারদের অনেকের দাবি, তাঁরা রাস্তার বা বাঁধের পাশে থাকেন। জমির পাট্টা থাকলেও অনেকের কাছেই আসল নথি নেই। তফসিলিদের মধ্যে অনেকেই জানান, ‘বাবু’দের দেওয়া জমিতে বংশ পরম্পরায় বাস করেন। ১৯৮৭ সালের আগে বা পরে বেশিরভাগ বাড়িতেই জন্মগ্রহণ করেছেন। তাই জন্মের শংসাপত্র নেই। এই বিষয়গুলিও বিবেচনা করছে কমিশন।

আরও পড়ুন