(বাঁ দিকে) সুনালী খাতুন এবং সুইটি বিবি (ডান দিকে)। — ফাইল চিত্র।
খুশির ইদেও এক রাশ বিষাদ বীরভূমের দুই পরিযায়ী শ্রমিকের পরিবারে। এক সন্তানকে নিয়ে সুনালী খাতুন দেশে ফিরতে পারলেও, তাঁর স্বামী দানিশ শেখ এখনও বাংলাদেশে আটকে। আর এক পরিযায়ী শ্রমিক সুইটি বিবিও দুই সন্তান-সহ আটকে সে দেশে। তাই ইদেও চোখে জল পাইকরের বাসিন্দা, দুই পরিবারের সদস্যদের।
গত জুনে দিল্লিতে কর্মরত অন্তঃসত্ত্বা পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী, তাঁর স্বামী দানিশ, তাঁদের নাবালক ছেলে এবং সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক পুত্রকে বাংলাদেশি সন্দেহে আটক করে দিল্লি পুলিশ। অসম সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। গত ডিসেম্বরে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সুনালী ও তাঁর ছেলেকে দেশে ফেরানো হয়। পরে পুত্রসন্তানের জন্ম দেন সুনালী। তবে বাকিদের ফেরানো হয়নি এখনও। তা নিয়ে আইনি লড়াই চলছে।
শনিবার, ইদের দিনে তাই খুশি আসেনি পাইকরের দর্জিপাড়ায় সুনালীদের বাড়িতে। সুনালী বলেন, ‘‘তিন মাসের ছেলের মুখ বাবা দেখতে পায়নি এখনও। গত বছর এক সঙ্গে সবাই ইদ পালন করেছিলাম। এ বার স্বামী ঘরে না থাকায় ইদে নতুন জামাও হয়নি।’’ সুনালীর স্বামী দানিশ শেখের সঙ্গে বাংলাদেশে এখনও আটকে সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক পুত্র। সুইটির বাড়িতেও ইদ কেটেছে বিষাদ, উদ্বেগে। সুইটির মামাতো ভাই আমির খান বলেন, ‘‘এ দিন সকালে দিদির সঙ্গে কথা হয়েছে। কান্নাকাটি করছে। ওর মন ভেঙে গিয়েছে।’’ তাঁর ক্ষোভ, ‘‘১৯৫২ সালের জমির দলিল-সহ সব নথি দেওয়া হয়েছে। তার পরেও কেন দিদিদের আটকে থাকতে হচ্ছে জানি না!’’ দুই বাড়ির লোকেরা জানান, আগামী ১০ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্টে দানিশ, সুইটিদের দেশে ফেরানোর মামলার শুনানি। সুইটির মা লাজিনা বিবির কথায়, ‘‘দুই ছেলেকে নিয়ে মেয়ে ওই দেশে খুব কষ্টে আছে। এখানে ওর আর এক ছেলে মায়ের জন্য দিন-রাত কাঁদছে। কবে মেয়ে ফিরবে, দিন গুনছি।’’