—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
অবশেষে কি দেশে ফিরতে চলেছেন বীরভূমের পরিযায়ী শ্রমিক সুনালী খাতুনের স্বামী দানিশ শেখ এবং তাঁদের পড়শি সুইটি বিবি ও তাঁর দুই নাবালক সন্তান? আগামী কয়েক দিনের মধ্যে তা ঘটতে পারে বলে আশা করছে তাঁদের পরিবার।
পরিবার সূত্রের দাবি, সম্প্রতি ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রকের তরফে এ ব্যাপারে বাংলাদেশের হাই কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। সুনালী-সুইটিদের ফেরানোর প্রক্রিয়ায় গোড়া থেকে জড়িত রাজ্যের পরিযায়ী শ্রমিক উন্নয়ন পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি সামিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘এ কথা আমিও শুনেছি।’’
গত ২২ মে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্রীয় সরকার ১০ দিনের মধ্যে সুইটিদের বাংলাদেশ থেকে দেশে ফেরানোর আশ্বাস দিয়েছিল। জুনের ১ তারিখে পেরিয়েছে। তার পরে আরও আট দিন কেটেছে। উৎকণ্ঠা বেড়েছে দানিশ, সুইটিদের পরিবারে। সুনালী মঙ্গলবার বলেন, ‘‘আমিও শুনেছি, দু’-তিন দিনের মধ্যে ফিরবে স্বামী। অপেক্ষায় আছি সকলে।’’ সুইটি বিবির মামাতো ভাই আমির খান বলেন, ‘‘সোমবারই ফোনে দিদির সঙ্গে কথা হয়েছে। আমাকে বলেছে, বাংলাদেশ প্রশাসনের তরফে ওদের চার জনের ছবি তুলে নিয়ে গিয়েছে। সেটা সম্ভবত ফেরানোর প্রক্রিয়ারই অংশ।’’
‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী’ সন্দেহে গত জুনে দিল্লিতে কর্মরত সুনালী, তাঁর নাবালক সন্তান, স্বামী দানিশ, সুইটি ও তাঁর দুই ছেলেকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। পরে অসম সীমান্ত দিয়ে তাঁদের বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করা হয়। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে নাবালক সন্তানকে নিয়ে ডিসেম্বরে দেশে ফেরেন সুনালী। কিন্তু আসতে দেওয়া হয়নি দানিশ-সুইটিদের। কারণ, কেন্দ্রীয় সরকার তাঁদের ভারতীয় বলে মানেনি।
বাংলাদেশ থেকে তাঁদের ফেরাতে দু’টি পৃথক মামলা হয়েছিল। একটি করেছিলেন দানিশের শ্বশুর তথা সুনালীর বাবা ভদু শেখ। অন্যটি সুইটির মামাতো ভাই আমির। সে প্রেক্ষিতেই গত ২২ মে সুপ্রিম কোর্টে কেন্দ্র জানিয়েছিল, দানিশ ও সুইটিদের ১০ দিনের মধ্যে দেশে ফেরানো হবে। তার পরে তাঁদের নাগরিকত্ব বিচার করা হবে। আগামী ১৫ জুলাই সুপ্রিম কোর্টের ফের মামলাটি শোনার কথা।