(বাঁ দিকে) মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত (ডান দিকে)। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশের পর। —নিজস্ব চিত্র।
নতুন পাঁচটি জেলা পেতে চলেছেন রাজ্যবাসী। সোমবার বিধানসভায় বাজেট পেশ করেন রাজ্যের অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেখানে একাধিক প্রশাসনিক এবং পরিকাঠামোগত পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করেন তিনি। জানান যে, ‘প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের’ লক্ষ্যে রাজ্যে নতুন পাঁচটি জেলা গঠন করা হচ্ছে।
রাজ্যের বিজেপি সরকারের তরফে যে পাঁচটি নতুন জেলা গঠনের কথা বলা হয়েছে, সেগুলি হল কলকাতা, বসিরহাট, সুন্দরবন, জঙ্গিপুর এবং আরামবাগ। এর পাশাপাশি কাঁথিতে একটি নতুন পুলিশ জেলা গঠনের কথা বলা হয়েছে। ঝাড়গ্রামের গোপীবল্লভপুরে তৈরি করা হবে নতুন মহকুমা। আর নতুন পুরসভা হবে দার্জিলিঙের শিবমন্দির, মালদহের গাজোল, চাঁচল, পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা, হাওড়ার বাগনান, পূর্ব মেদিনীপুরের কোলাঘাট, হুগলির কামারপুকুর, উত্তর দিনাজপুরের টুঙ্গিদিঘি এবং আলিপুরদুয়ারের জয়গাঁতে। মালদহের মানিকচক, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতার মতো কয়েকটি জায়গায় নতুন দমকলকেন্দ্র তৈরি করার কথাও জানানো হয়েছে।
কলকাতাকে আলাদা জেলা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে একটা বিভ্রান্তি দেখা দিয়েছে। অনেকেই বলছেন, কলকাতা তো এমনিতেই একটা জেলা! তা হলে রাজ্যের রাজধানীকে নিয়ে আলাদা জেলা গঠনের কথা বলা হচ্ছে কেন? প্রশাসনিক সূত্রে খবর, কলকাতাকে জেলা হিসাবেই ধরা হয় ঠিকই। কিন্তু অন্যান্য জেলার তুলনায় কলকাতার প্রশাসনিক কাজ আলাদা ভাবে হয়। প্রশাসনিক কাঠামোও ভিন্ন। কারণ, এখানে কোনও জেলাশাসক থাকেন না। থাকেন এক জন কালেক্টর। যাঁর কাজ মূলত রাজস্ব সংগ্রহ করা।
এ ছাড়া, রাজ্য সরকারের যে কোনও দফতর কলকাতায় সরাসরি কাজ করে। ফলে মানুষকে যে কোনও প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট দফতরেই যেতে হয়। মাঝে কিছু নেই। অথচ অন্য জেলাগুলিতে প্রশাসনিক কাজের ক্ষেত্রে অনেকগুলি স্তর আছে। সংশ্লিষ্ট দফতর থেকে নির্দেশ যায় জেলাশাসকের কাছে। সেখান থেকে যায় মহকুমাশাসকের কাছে। কলকাতায় এখনও পর্যন্ত তেমন ব্যবস্থা নেই। প্রশাসনিক সূত্রে খবর, জেলায় যে ভাবে প্রশাসনিক কাজকর্ম চলে, এ বার কলকাতাতেও সেই ভাবেই চলবে। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্য উপদেষ্টা সুব্রত গুপ্ত বলেন, “সরকারের এই সিদ্ধান্তের ফলে কলকাতার মানুষ উপকৃতই হবেন।”
সোমবার পুরুলিয়া, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাট এবং মালদহে তিনটি নতুন বিমানবন্দর তৈরি করার কথা জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী। স্বপন জানিয়েছেন, কোচবিহারে যে বিমানবন্দরটি চালু রয়েছে, সেটিকে আরও সম্প্রসারিত করা হবে। এই কাজের জন্য চলতি অর্থবর্ষে ১০ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য। নিরাপত্তা এবং কৌশলগত কারণে হাসিমারার বিমানঘাঁটির সম্প্রসারণ এবং প্রয়োজনীয় উন্নয়নের জন্য ২৫ একর জমি দিচ্ছে রাজ্য। একই কারণে কলকাতায় বায়ুসেনাকে ৩৭ একর জমি দেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। স্বপন জানিয়েছেন, কলকাতা বিমানবন্দরে উপর যাত্রীদের চাপ কমাতে নদিয়ার কল্যাণীর কাছে একটি ‘গ্রিনফিল্ড’ বিমানবন্দর তৈরি করা হবে। এই বিমানবন্দরের জন্য ১০০০ থেকে ১৫০০ একর জমি শনাক্ত করবে রাজ্য।
সোমবার এক লক্ষ শূন্যপদে নিয়োগের কথা বলেছেন অর্থমন্ত্রী। এই নিয়োগের ক্ষেত্রে ৩৩ শতাংশ মহিলা সংরক্ষণ থাকছে। ৫০ হাজার শূন্যপদে অধ্যাপক, শিক্ষক এবং অশিক্ষক কর্মী নিয়োগ করা হবে। আর পুলিশে চাকরি হবে ২০ হাজারের। এর পাশাপাশি স্বপন জানিয়েছেন, বিধায়ক তহবিলে বার্ষিক টাকার পরিমাণ ৭০ লক্ষ থেকে বাড়িয়ে এক কোটি টাকা করা হচ্ছে।