Buddhadeb Bhattacharjee CPM

সরকার না-ই বা হল, সিপিএম চেনে জহর! বুদ্ধদেবের নামাঙ্কিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সূচনায় বক্তা তৃণমূলের প্রাক্তন আমলা-সাংসদ

আগামী ১ মার্চ বুদ্ধদেবের জন্মদিন। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডে সিপিএমের মুখপত্রের দফতরের পাশে যে খালি জায়গাটি রয়েছে, সেখানে বুদ্ধদেবের নামাঙ্কিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়বে সিপিএম। ১ মার্চই তার সূচনা হবে।

Advertisement
আনন্দবাজার ডট কম সংবাদদাতা
শেষ আপডেট: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ২২:০১
Former TMC MP Jahar Sircar will be present as a speaker at CPMs programme

রাজ্যসভার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকার। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এ বছরের বিধানসভা ভোটের আগে অতি বড় সিপিএম-ও সরকার গঠনের স্বপ্ন দেখছেন না! বরং তাঁদের কাছে এখন শূন্যের গেরো কাটানোই মূল লক্ষ্য। সরকার না-ই বা হল, সিপিএম কিন্তু ‘জহর’ চিনতে ভুল করল না। প্রয়াত প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্যের নামাঙ্কিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সূচনা অনুষ্ঠানে সিপিএম বক্তা হিসাবে আমন্ত্রণ জানিয়েছে প্রাক্তন আমলা তথা রাজ্যসভার প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জহর সরকারকে।

Advertisement

২০২১ সালে বিধানসভা ভোটের প্রাক্কালে দীনেশ ত্রিবেদী রাজ্যসভা থেকে ইস্তফা দেওয়ার পরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রাজ্যসভায় পাঠিয়েছিলেন জহরকে। আরজি কর পর্বের পরে রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন জহর। তাঁর জায়গায় আবার তৃণমূল পাঠিয়েছিল প্রাক্তন সিপিএম নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়কে। ঋতব্রতের মেয়াদ শেষ হচ্ছে এপ্রিলে। একই সঙ্গে মেয়াদ শেষ হচ্ছে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভার একমাত্র সিপিএম সাংসদ বিকাশ ভট্টাচার্যেরও। বিধানসভা, লোকসভার পরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রাজ্যসভাতেও শূন্য হতে চলেছে সিপিএম। সেই আবহে বুদ্ধদেবের নামাঙ্কিত কর্মসূচিতে বক্তা হিসাবে থাকছেন প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জহর।

কেন হঠাৎ প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জহর? সিপিএমের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য শমীক লাহিড়ী বলেন, ‘‘উনি তো বিভিন্ন জায়গায় তৃণমূল এবং বিজেপি-বিরোধী বক্তব্য পেশ করছেন।’’ কিন্তু উনি তো প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ! শমীকের বক্তব্য, ‘‘হ্যাঁ। প্রাক্তন।’’ উনি যখন সাংসদ হয়েছিলেন, তখন তো তৃণমূলের বিরুদ্ধে সারদা-নারদের মতো অভিযোগ উঠে গিয়েছিল। শমীক ফের বলেন, ‘‘দু’টোই সত্যি। তিনি সাংসদ হয়েছিলেন যেমন সত্যি, তেমন ইস্তফা দিয়েছেন এটাও সত্যি।’’ এর আগে প্রাক্তন তৃণমূল সাংসদ জহর সিপিএমের ছাত্র সংগঠন এসএফআইয়ের একটি কর্মসূচিতে বক্তা ছিলেন। সেটি হয়েছিল মৌলালি যুবকেন্দ্রে। সিপিএমের অন্দরে এ-ও গুঞ্জন যে, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে জহরকে বেহালা পূর্ব আসন থেকে নির্দল প্রার্থী হিসাবে দাঁড় করানো যায় কি না, সেই বিষয়ে ভাবনাচিন্তাও শুরু হয়েছে। যদিও এখনও কিছু চূড়ান্ত হয়নি বলেই খবর। তার মধ্যেই তাঁকে বুদ্ধদেবের নামাঙ্কিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সূচনা অনুষ্ঠানে বক্তা করল সিপিএম।

আগামী ১ মার্চ বুদ্ধদেবের জন্মদিন। আচার্য জগদীশচন্দ্র বসু রোডে সিপিএমের মুখপত্রের দফতরের পাশে যে খালি জায়গাটি রয়েছে, সেখানে বুদ্ধদেবের নামাঙ্কিত সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গ়ড়বে সিপিএম। ১ মার্চই তার সূচনা হবে। যদিও খাতায়কলমে এই কেন্দ্র নির্মাণ করছে ‘প্রমোদ দাশগুপ্ত ট্রাস্ট’। ঘটনাচক্রে, সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক প্রমোদ দাশগুপ্ত ষাটের দশকের ছাত্র-যুব আন্দোলন থেকে যে সপ্তরথীকে সিপিএমের নেতৃত্বে তুলে এনেছিলেন তাঁদের মধ্যে বুদ্ধদেব ছিলেন অন্যতম। সেই তালিকায় ছিলেন সুভাষ চক্রবর্তী, শ্যামল চক্রবর্তী, অনিল বিশ্বাস, দীনেশ মজুমদার, শঙ্কর গুপ্ত এবং বিমান বসু। ইতিমধ্যেই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জ্যোতি বসুর নামে নিউটাউনে গবেষণাকেন্দ্র গড়ে তুলেছে সিপিএম। প্রথম পর্যায়ের কাজ শেষ হওয়ার পরে তার উদ্বোধন হয়েছে বছর খানেক আগে। বুদ্ধদেবের প্রয়াণের পরে দলের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল, জ্যোতিবাবুর মতো বুদ্ধদেবের নামেও কিছু করার। তার পরে ঠিক হয় বুদ্ধদেবের নামে সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। তারই সূচনা ১ মার্চ। ঘটনাচক্রে, ওই দিন সিপিএমের প্রাক্তন রাজ্য সম্পাদক অনিল বিশ্বাসেরও জন্মদিন।

Advertisement
আরও পড়ুন