—প্রতীকী চিত্র।
দল দখলের লড়াই নেমে এসেছে রাস্তায়। কিন্তু রাস্তায় নেমে লড়াই করবে কে? রাস্তার রাজনীতিতে বড় এবং দড় হয়ে ওঠা যাবে কী ভাবে?
আদি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিদ্রোহী শিবিরে নাম লেখানো এখনও চলছে অবিরাম। কারা ‘আসল’ তৃণমূল, সেই প্রশ্নে দাবি ও পাল্টা দাবি নির্বাচন কমিশনের বিবেচনাধীন। নেতাদের ভিড় যখন বাড়ছে বিদ্রোহী শিবিরে, একই সঙ্গে অন্দর মহলে দেখা দিচ্ছে নানা প্রশ্নও। বিদ্রোহী তৃণমূলের বিধায়ক ও পুর-প্রতিনিধিদের একাংশের প্রশ্ন, বিধানসভায় প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদা বা এর পরে কমিশনের স্বীকৃতি পেলেও মাঠে-ময়দানে বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরি হবে কী ভাবে? তাঁদের কারও কারও আশঙ্কা, দলের নাম, প্রতীক বা তহবিল সব কিছু নিয়ে টানাটানি করতে গিয়ে তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাতে ‘সহানুভূতি’র অস্ত্র তুলে দেওয়া হচ্ছে না তো! বিদ্রোহী শিবিরের নেতৃত্ব অবশ্য বলছেন, সংগঠন সাজানোর কাজ শেষ হলেই দ্রুত রাস্তায় নামা হবে। তখন মেঘ কেটে যাবে।
তৃণমূলে মমতা ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘স্বৈরাচারী আচরণে’র প্রতিবাদকে সামনে রেখেই বিদ্রোহী শিবিরের আত্মপ্রকাশ ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গে। প্রথম দিকে যাঁরা কালীঘাটের সঙ্গে ছিলেন, তাঁদের অনেকেও বিদ্রোহী শিবিরের দিকে পা বাড়াচ্ছেন। নির্বাচনে বিপর্যয়ের পরেও দলের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাবে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ তাঁদের। শিবিরের কলেবর বেড়ে চললেও আশঙ্কার চোরাস্রোতও আছে বিদ্রোহীদের মহলে। এক বিধায়কের কথায়, ‘‘বিধানসভায় স্বীকৃতি পেলেও স্থানীয় স্তরে বিজেপির নেতা-কর্মীরা আমাদের কোনও জমি ছাড়বে না। আবার বিজেপির সঙ্গে ওঠাবসা আছে বলে ধারণা ছড়িয়ে গেলে বেশ কিছু ক্ষেত্রে ভাবমূর্তির সমস্যা হবে। সামনের দিন কিন্তু বেশ কঠিন!’’ আর এক বিধায়কের সংযোজন, ‘‘নেতারা অনেকেই আসছেন। তৃণমূলের কর্মীদের কারা কোথায় কোন দিকে আছেন, তার কোনও পরীক্ষা কিন্তু হয়নি। আমরা বিজেপি-বিরোধিতা করতে যাব, উল্টে আদি তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকেরা নানা জায়গায় আমাদেরই বিরোধিতা করবেন! আর আমার সব কেড়ে নিচ্ছে, এই প্রচার চালিয়ে দিদি এর পরে সহানুভূতি টেনে নিলে সমস্যা আরও বাড়বে।’’
বিধানসভা ভোটে পরিবর্তনের পরে শাসক ও বিরোধীর পরবর্তী যুদ্ধের ময়দান হতে চলেছে পুরভোট। বিদ্রোহী শিবিরে আসা তৃণমূলের এক পুর-প্রতিনিধির আশঙ্কা, ‘‘বিধানসভার ওই ফলের পরে পুরভোটে বিজেপি একতরফা জিতবে, এটা ধরেই নেওয়া যায়। আমরা তৃণমূলে বিদ্রোহ করেছি বলে বিজেপি তো ভোটে আমাদের দায়িত্ব নেবে না!’’ এমন উদ্বেগ থাকলেও তৃণমূলে বিদ্রোহীর তালিকা দীর্ঘ হচ্ছে কেন? বিদ্রোহী এক বিধায়কের মতে, ‘‘নিজস্ব কিছু স্বার্থ হয়তো একাংশের আছে। কিন্তু শাসক তৃণমূলের বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে পুকুর নয়, মহাসাগর চুরির অভিযোগ আছে। এখনও অনেক কিছু বেরোনো বাকি। সেই সব ফাইল খুললে গোটা দলটার যে বিপদ আসবে, সেটা আশঙ্কা করেই অধিকাংশ নেতা বেরিয়ে আসছেন।’’
এই পরিস্থিতিতে কলীঘাটপন্থী তৃণমূল নিশানা করছে বিদ্রোহীদের। বর্ষীয়ান বিধায়ক শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ের দাবি, ‘‘দলের কর্মী-সমর্থক এবং মানুষ মমতার সঙ্গে আছেন। ভবিষ্যতে প্রমাণ হবে। আর বিদ্রোহীরা পারলে ইস্তফা দিয়ে নিজেদের এলাকা থেকে আবার জিতে এসে দেখান!’’
বিদ্রোহীদের নেতা ও বিধানসভার বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় অবশ্য বলছেন, ‘‘প্রাইভেট কোম্পানির মালিক এবং কয়েক জন ম্যানেজিং ডিরেক্টর ছাড়া কেউ ও’দিকে থাকবেন না! আমাদের কর্মসূচির প্রশ্নে কর্মসমিতিতে এক প্রস্ত আলোচনা হয়েছে। জেলা ও শাখা সংগঠনের নেতৃত্ব ঠিক হবে কিছু দিনের মধ্যেই। তার পরে আমরা রাস্তায় নামলে সব কিছুই পরিষ্কার হয়ে যাবে।’’