— প্রতীকী চিত্র।
প্রাতর্ভ্রমণে যাওয়ার পথে বৃহস্পতিবার ভদ্রেশ্বরের গেটবাজারে জিটি রোডে টোটোর ধাক্কায় আহত হয়েছিলেন রাজ্যের এক আমলার বছর সত্তরের বৃদ্ধ বাবা। প্রতিবাদ করায় ওই টোটোচালক এবং তার বৌদি বৃদ্ধের উপরে চড়াও হয় এবং মেরে মাথা ফাটিয়ে দেয় বলে অভিযোগ। অভিযুক্তদের পুলিশ গ্রেফতার করলেও ফের হুগলির শহরাঞ্চলে টোটোর বাড়বাড়ন্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠল।
চন্দননগর কমিশনারেটের এক কর্তা জানান, বৃদ্ধের অভিযোগের ভিত্তিতে নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে টোটোচালক ও তার বৌদিকে গ্রেফতার করা হয়। বৃদ্ধের চিকিৎসারও ব্যবস্থা করা হয়। তদন্ত চলছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বৃদ্ধ এবং অভিযুক্তদের বাড়ি গেটবাজারেই। বৃদ্ধ প্রতিদিন গঙ্গার ধারে, তেলেনিপাড়া মাঠে প্রাতর্ভ্রমণ করেন। বাড়ি থেকে সেখানে হেঁটেই যান। বৃহস্পতিবার ঘটনাটি ঘটে সকাল ৬টা নাগাদ। পিছন থেকে টোটোটি ধাক্কা মেরে চলে যাওয়ার চেষ্টা করলে বৃদ্ধ আহত অবস্থাতেই দৌড়ে গিয়ে আটকান। দু’জনের বচসার সময়েই পিছন দিক থেকে এক মহিলা এসে লোহার খুন্তি দিয়ে বৃদ্ধের মাথায় আঘাত করে বলে অভিযোগ। তাঁর মাথা ফাটে। পরে বৃদ্ধ জানতে পারেন, ওই মহিলা টোটোচালকের বৌদি। ঘটনাস্থলের কাছেই ফুটপাতে মহিলা কচুরির দোকান চালান।
বৃদ্ধ বলেন, ‘‘এমনিতেই আমার পায়ে এবং হাতে টোটোর ধাক্কায় আঘাত লেগেছিল। তার পরে মাথাও ফাটিয়ে দেওয়া হল। ওই অবস্থায় তেলেনিপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে অভিযোগ করি। ফাঁড়ি থেকে আমাকে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য চন্দননগর মহকুমা হাসপাতালে পাঠানো হয়। পরে ভদ্রেশ্বর থানায় গিয়ে অভিযোগ দায়ের করি।’’
ঘটনাস্থলের কাছে দু’দিকের ফুটপাত অনেক জায়গাই দখল হয়ে গিয়েছে। এ নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ কম নয়। ফলে, তাঁরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হন। তার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে টোটোর উপদ্রবও। একই ক্ষোভ শোনা গিয়েছে আক্রান্ত বৃদ্ধের কণ্ঠেও। তিনি বলেন, ‘‘জিটি রোডের ফুটপাতে সাধারণ মানুষের হাঁটাচলার জায়গা নেই। তার উপরে টোটোর দৌরাত্ম্য। ধাক্কা মারার পরে বয়স্কদের প্রতি তাঁদের কোনও সহানুভূতি নেই। প্রতিবাদ করায় মাথা ফাটল। পথচারীদের স্বার্থে ফুটপাত জবরদখল মুক্ত করা হোক।’’
আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন সড়কে টোটো চলারই কথা নয়। তার মধ্যে জিটি রোডও রয়েছে। কিন্তু হুগলিতে এই বিধিনিষেধের তোয়াক্কা না করেই জিটি রোডে অজস্র টোটো চলে। বিভিন্ন জায়গায় টোটোর ধাক্কায় মানুষজনের আহত হওয়ার সংখ্যাও কম নয়। এই পরিস্থিতিতে বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন পুরসভা বা প্রশাসনের তরফে টোটো নিয়ন্ত্রণের নানা ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও কাজের কাজ কিছুই হয়নি। অবিলম্বে টোটো নিয়ন্ত্রণ জরুরি বলে মনে করেন বহু মানুষ।