—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের অস্থায়ী রেজিস্ট্রারের মেয়াদ শেষ হয়েছে ২৪ জুন। উপাচার্যহীন অবস্থায় এ বার রেজিস্ট্রারের পদও ফাঁকা। বৃহস্পতিবার থেকে এ ভাবে বিশ্ববিদ্যালয় কার্যত অভিভাবকহীন থাকায় উদ্বেগ বাড়ছে। গরমের ছুটির পরে বিশ্ববিদ্যালয় খুলবে ১ জুলাই থেকে। ৬ জুলাই থেকে স্নাতকোত্তর স্তরের পরীক্ষা শুরু হবে। তার মধ্যে এই পরিস্থিতিতে যে কোনও সমস্যা তৈরি হলে কে সামলাবেন, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
উপাচার্য নিয়োগ নিয়ে পূর্বতন রাজ্য সরকার এবং রাজ্যপালের সংঘাতের জেরে বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে উপাচার্য নিয়োগ থমকে ছিল। পরে সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে সার্চ কমিটি করে নিয়োগ প্রক্রিয়া চলে। রাজ্যের অধিকাংশ বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্য নিয়োগ করা হলেও, তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য নিয়োগ ঝুলে রয়েছে। তার মধ্যে উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ও রয়েছে। দুই বছরের বেশি উপাচার্য নেই। সম্প্রতি সুপ্রিম কোর্টের তত্ত্বাবধানে দ্বৈপায়ন ভরদ্বাজের নাম উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য হিসেবে ঘোষণা হলেও উচ্চ শিক্ষা দফতর থেকে এখনও নির্দেশিকা জারি করা হয়নি।
দুই বছর ধরে অস্থায়ী রেজিস্ট্রার নিয়োগ করে, কখনও তাঁদের মেয়াদ বাড়িয়ে কাজ চলেছে। গত বুধবার অস্থায়ী রেজিস্ট্রার ভাস্কর বিশ্বাসের মেয়াদ ফুরিয়েছে। ২২ জুন আচার্য তথা রাজ্যপালের ডাকে লোকভবনে গিয়েছিলেন অস্থায়ী রেজিস্ট্রার-সহ উত্তরবঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন সদস্যের প্রতিনিধিদল। তাঁরা আচার্যকে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতির কিছু কথা জানান।
জয়েন্ট রেজিস্ট্রার স্বপন রক্ষিত বলেন, ‘‘উপাচার্য নিয়োগ না-হওয়া পর্যন্ত এই পরিস্থিতি চলতে থাকবে। তাই যত দ্রুত উপচার্য নিয়োগ হবেন, ততই ভাল।’’
উপাচার্যহীন অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্ম সমিতির বৈঠক, ফিনান্স কমিটির বৈঠকও থমকে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মমাফিক সমস্ত কাজ, সিদ্ধান্ত উপাচার্যের উপস্থিতিতে কর্ম সমিতিতে অনুমোদন করানোই নিয়ম। ঠিক তেমনই আর্থিক বিষয় ফিনান্স কমিটির বৈঠকে অনুমোদন হয়। সে সবই বন্ধ হয়ে রয়েছে। উপাচার্য ছাড়া গবেষণাপত্র অনুমোদন করাতে বোর্ড অব রিসার্চ স্টাডিজের বৈঠকও অসম্পূর্ণ।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সম্পাদক সমর কুমার বিশ্বাস বলেন, ‘‘দ্রুত উপাচার্য নিয়োগ করার বিষয়টি আমরাও চাই।’’