— প্রতীকী চিত্র।
দিনেদুপুর প্রকাশ্য রাস্তায় এক একাদশ শ্রেণির ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা করার অভিযোগ উঠল একটি মদের দোকানের মালিকের বিরুদ্ধে।রবিবার দুপুরের ওই ঘটনায় রজোপ্রিয় সাহা নামে ওই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অভিযোগ, শনিবার রাতেও প্রকাশ্যে এক স্কুলশিক্ষিকার যৌন হেনস্থা করে হাওড়ার চ্যাটার্জিহাটের বেলেপোল মোড়ের মদের দোকানের ওই মালিক। এর পরেই আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীরা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে যুবককে চিহ্নিত করে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেন।
ঘটনা দু’টি ঘটেছে শিবপুরের নস্করপাড়া ও চ্যাটার্জিহাট থানা এলাকার তাঁতিপাড়ার কাছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের খবর, এ দিনসকালে ওই স্কুলছাত্রী যখন তার দিদিমার বাড়ি থেকে বাড়ি ফিরছিল, তখন ওই যুবক মোটরবাইকে চেপে এসে নির্জন রাস্তায় নাবালিকার পথ আটকায় ও তার যৌন হেনস্থা করে। নাবালিকাটি চিৎকার করলে আশপাশের লোকজন যুবককে ছুটে ধরতে গেলেও সে মোটরবাইক নিয়ে চম্পট দেয়। এলাকাবাসীদের অভিযোগ, অত্যন্ত সচেতন ভাবে এই অপরাধ করার জন্য ওই যুবক বাইকের নম্বরপ্লেট কাগজে চাপা দিয়ে রেখেছিল। তবে তাতেও শেষ রক্ষা হয়নি। দু’টি এলাকার বাসিন্দারা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখেযুবককে চিহ্নিত করে বেলেপোল এলাকা থেকে তাকে ধরে চ্যাটার্জিহাট থানার পুলিশের হাতে তুলে দেয়। পুলিশ মোটরবাইকটি বাজেয়াপ্ত করেছে।
আতঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ বাসিন্দাদের অভিযোগ, ওই যুবক আগেও নির্জন রাস্তায় এ ভাবেই নম্বরপ্লেট ঢাকা দেওয়া মোটরবাইক নিয়ে ঘুরে বেরিয়েছে এবং কোনও নাবালিকা, তরুণী বা মহিলাকে একা পেলেই তাঁর যৌন হেনস্থা করেছে। ওই যুবকের কঠোর শাস্তির দাবি করে এ দিন চ্যাটার্জিহাট থানায় গিয়ে সরব হন স্থানীয়েরা।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত যুবক শনিবার রাতে শিবপুরের নস্করপাড়ায় একই ঘটনা ঘটায়। সেখানে একশিক্ষিকা যখন স্কুটিতে চড়ে বাড়ি ফিরছিলেন, তখন তাঁর রাস্তা আটকে অভিযুক্ত যৌন হেনস্থা করে বলে অভিযোগ। ওই মহিলা তাড়া করে যুবককে ধরতে গেলে সে মোটরবাইক চালিয়ে পালায়। সেই ঘটনার পরে নস্করপাড়ার বাসিন্দারাও ওই যুবকের খোঁজে তল্লাশি শুরু করেন। অবশেষে রবিবার গদাধর মিস্ত্রি ২ বাই লেনে একই ঘটনার খবর পেয়ে যান নস্করপাড়ার বাসিন্দারাও। এর পরে তাঁরাও চ্যাটার্জিহাট থানায় গিয়ে ওই যুবকের কঠোর শাস্তির দাবি জানান। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার তদন্ত করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।